অনেক অনেক দিন আগে ইরানের খুজিস্তান শহরে রাজত্ব করতেন বাদশাহ শাহজামান। তার ছিল এক অতি সুন্দর ফুলের বাগান। বাগানটি যেমন সুন্দর তেমনি বড়। সেই বাগানে ফুটত অগুনতি ফুল। সেখানে দলবেঁধে বাস করত একদল কালো পিঁপড়ে। তাদের প্রধান খাবার ছিল ফুলের মধু। তারা সারা দিন খুঁজে খুঁজে মধু সংগ্রহ করত আর দিনশেষে মধু ভাণ্ডারে জমিয়ে রাখত। এভাবে দিন-রাত পরিশ্রম করে তারা তিনটি রাজকীয় মধু ভাণ্ডার গড়ে তুলল। পিঁপড়ে রাজা সংমিং এত বড় বড় মধু ভাণ্ডারের মালিক হতে পেরে খুব খুশি হলো।
খুজিস্তানের পাশের দেশ আজারবাইজান। একদা সেখানে বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেল। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির ফলে দেশে খরা দেখা দিল। বন-জঙ্গলের সব ফুলগাছ পানির অভাবে মারা গেল।
সে দেশে বাস করত বিশাল এক মৌমাছির ঝাঁক। গাছপালা মরে যাওয়ায় মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারল না। ফলে তাদের মধ্যে খাদ্যসংকট দেখা দিল। এ অবস্থায়
তারা মধু সংগ্রহের নতুন উৎস সন্ধানে দিকে দিকে গোয়েন্দা মৌমাছি পাঠাল। অবশেষে কয়েকটি গোয়েন্দা মৌমাছি
খুজিস্তানের ওই বাগানটি খুঁজে বের করল যেখানে কালো পিঁপড়েরা বাস করে।
মৌমাছিদের রানি মৌরুখু তখন দলবল নিয়ে বাগানে ঢুকে পড়ে মৌচাক বানাতে লেগে গেল। পিঁপড়েরা সবই লক্ষ করল, বিরক্ত হলো, কিন্তু এ নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাল না। বাগানটি বিশাল এবং মধুও পাওয়া যায় অফুরন্ত। তারা ভাবল এতে তাদের খুব বেশি অসুবিধা হবে না। কিন্তু বিপত্তি ঘটল যখন গোয়েন্দা মৌমাছিরা পিঁপড়েদের মধুর ভাণ্ডারগুলো দেখে ফেলল। তারা পিঁপড়েদের একটা মধুর ভাণ্ডার আক্রমণ করে অনেকখানি মধু লুট করে নিয়ে গেল। পিঁপড়ের রাজা সংমিং তখন একদল প্রতিনিধি পাঠিয়ে মৌমাছিদের রানি মৌরুখুর কাছে বিচার চাইল এবং লুণ্ঠিত মধু ফেরত চাইল। কিন্তু মৌমাছির রানি পিঁপড়ের দলটিকে অপমান ও হাসি ঠাট্টা করে ফেরত পাঠাল। পিঁপড়ের রাজা সংমিং সব শুনে খুব রেগে গেল। সেসব পিঁপড়েকে জড়ো করে মৌমাছিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল।
সেদিন গভীর রাতে যখন সব মৌমাছি মৌচাকে ঘুমিয়ে ছিল, পিঁপড়ের দল হামলা করল। তারা গাছ বেয়ে পিলপিল করে উঠে ঘুমন্ত মৌমাছিদের কামড়াতে লাগল। মৌমাছিরা কামড়ের জ্বালায় জেগে উঠল। তারা পিঁপড়েদের হুল ফোটাতে চাইল, কিন্তু পিঁপড়েরা এত ছোট যে, তারা হুল ফোটাতে পারল না। অন্যদিকে আরেক দল শ্রমিক পিঁপড়ে ততক্ষণে মৌচাক থেকে মধু নিতে লাগল।
কামড় খেতে খেতে মৌমাছিরা অসুস্থ হয়ে পড়ল। শেষমেশ পরাজিত হয়ে মৌমাছিরা পালিয়ে গেল দূর দেশে। পিঁপড়েরা সে
রাতে আতশবাজি জ্বালিয়ে, বাজি ফুটিয়ে, রং ছিটিয়ে বিজয়
উদযাপন করল।