বর্ষাকালে ক্ষণে ক্ষণে দিগন্তে কালো মেঘ ভর করে। ভাবখানা এমন, গোমড়া মুখ করে আকাশ যেন এখনই কেঁদে দেবে। বর্ষার সময় ডোবা-নালা সব পানিতে ভরে ওঠে। বৃষ্টির পরশে নতুন রূপ ধারণ করে প্রকৃতি। বৃক্ষরাজির ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দেয় সুগন্ধি ফুল। বর্ষায় ফোটা ফুলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কদম, কেয়া, বেলি, কামিনী, বকুল, স্পাইডার লিলি, দোলনচাঁপা, ঘাসফুল, অলকানন্দ, পর্তুলিকা, নয়নতারা, মোরগঝুঁটি, কলাবতী, রজনীগন্ধা, মালতীলতা, চালতা, জুঁই, সন্ধ্যামালতী, কলমি, গুলনার্গিস, দোপাটি, শাপলা, পদ্ম ইত্যাদি।
অনেকের কাছে বর্ষা মানেই শুধুই কদমের সৌরভ! কদম ফুল প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। কদম গাছ দীর্ঘাকৃতির ও শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট। এ ফুলের আদি নিবাস ভারত ও চীন। তবে বাংলাদেশে এ ফুল বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। কদমের নজরকাড়া সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় সবাই। শহর-গ্রাম সব জায়গাতেই দেখা মেলবে কদমের। নদীর তীরে, খোলা প্রান্তরে, রাস্তার পাশে প্রচুর কদম গাছ দেখা যায়। শহরের পার্ক ও উদ্যানে কদম গাছ চোখে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে কদম ফুল নিয়ে খেলা করতে দেখা যায় গ্রামের শিশু-কিশোরদের।
বর্ষায় চিরসবুজ চালতা গাছের রূপ বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় তার সাদা সাদা ফুল। নতুন ঘন সবুজ পাতার মধ্যে মাঝারি সবুজ আবরণের ফুল যেন খুব সহজেই চোখে পড়ে না! যদিও চালতার ফুল আকারে বেশ বড়। চালতা ফুল খুবই মনোহারী।
আবার ঝুম বৃষ্টির দিনে দোলনচাঁপা বাতাসে ছড়ায় তার বিমুগ্ধ সৌরভ। বর্ষায় বেলি ও বকুলের সৌরভ ভেসে আসে বহু দূর থেকে। বর্ষায় বেলিফুলের মালা গেঁথে শিশু-কিশোরদের খেলতে দেখা যায়।
বর্ষার আরেক সৌন্দর্য জলজ ফুলের সমাহার। বর্ষার জলে হরেক রকমের ফুল ফোটে। শাপলা-শালুক-পদ্ম মূলত বর্ষাকালের ফুল। বিশ্বের একেক দেশে জাতীয় ফুলের নাম একেক রকম। আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। খাল, বিল, ঝিল, ডোবা-নালা, পুকুর ও জলাশয়ে শাপলা ফুটে থাকার দৃশ্য সহজেই চোখে পড়ে। গ্রাম-বাংলার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে হরেক রকমের শাপলা। আমাদের দেশে সাধারণত সাদা, গাঢ় লাল, নীল ও গোলাপি রঙের শাপলাই বেশি দেখা যায়। বর্ষাকালে পদ্ম ও শাপলা বিলে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থাকে। শাপলা ও পদ্ম বিলের সৌন্দর্য ছোট-বড় সবাইকে বিমোহিত করে।
অনেকেই শাপলার সঙ্গে পদ্মকে মিলিয়ে ফেলে! কিন্তু শাপলা ও পদ্ম দুটোই ভিন্ন ফুল। এদের আকারগত পার্থক্য রয়েছে। পদ্মর সুবাস শাপলার চেয়ে তুলনামূলক বেশি। দুটোরই ফুল ও পাতা আলাদা। পদ্মফুলের পাপড়িগুলো চিকন ও লালচে হয়। পদ্মে এক জাতীয় ফল হয়। পদ্মকে বলা হয় জলজ ফুলের রানি! পদ্ম কিংবা শাপলা ফুল উৎপাদন করা লাগে না। প্রাকৃতিকভাবে বর্ষাকালে বিল-জলাশয়ে এগুলো হয়ে থাকে। বর্ষাকালে গ্রামীণ জনপদে সহজেই পদ্মর খোঁজ মেলে।
প্রকৃতির আরেক নান্দনিক সৌন্দর্য কচুরিপানা ফুল। খুব অবহেলিত হলেও এর সৌন্দর্যও কম নয়। গ্রামাঞ্চলে খাল, বিল ও জলাশয়ে প্রচুর কচুরিপানার দেখা মেলে। বাদল দিনের ফুল জুঁই ও মালতী। জুঁই ও মালতির সুগন্ধে মেতে উঠে না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে!