মহাকাশে কত রকমের তারা আছে, জানো? বড় তারা, ছোট তারা, রঙিন তারা, গরম তারা- আরও কত কিছু! কিন্তু এই তারাদের ভিড়েও কিছু তারা আছে যাদের দেখলে বিজ্ঞানীরাও ‘বাহ!’ বলে ওঠেন। সেই তারার নাম নিউট্রন তারা। আজ তোমাদের সেই রহস্যময় তারার গল্পই শোনাব।
কী এই নিউট্রন তারা?
ভাবো, সূর্যের মতো একটা বিশাল তারা হঠাৎ সব জ্বালানি ফুরিয়ে ফেলল। তখন সে ভেঙে পড়ে, চুপসে যায়। এমনভাবে চুপসে যায় যে, বিশাল তারা একটা ছোট শহরের মতো আকারে পরিণত হয়! এই ছোট, সুপার ঘন, সুপার শক্তিশালী তারাকেই বলে নিউট্রন তারা।
একটা নিউট্রন তারা দেখতে ছোট হলেও তার ভেতরে এমন ঘনত্ব যে একটি চামচ পরিমাণ অংশের ওজন হতে পারে কয়েক লাখ কোটি কিলোগ্রাম! শুনে অবাক হচ্ছো তো? ঠিক যেন মহাকাশের সুপারহিরো- ছোট, কিন্তু শক্তিতে অপ্রতিরোধ্য!
কীভাবে তৈরি হয় এই তারা?
নিউট্রন তারা তৈরি হয় এক বিশাল বিস্ফোরণের ফলে, যাকে বলে সুপারনোভা। ভাবো, তারা হলো এক বৃদ্ধ দাদু। দীর্ঘদিন আলো দিয়ে, তাপ ছড়িয়ে, সব শক্তি খরচ করে সে ক্লান্ত। একসময় সে আর পারে না, তখন নিজের ভেতর চুপসে যায়- দাদু তারাটিই তখন সর্বশক্তি দিয়ে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটিকে বলা হয় নিউট্রন তারা। তাই নিউট্রন তারাকে বলা হয় তারার শেষ জীবনের উপহার।
এত শক্তিশালী কেন?
নিউট্রন তারার ভেতরে থাকা কণাগুলো এত বেশি চেপে আছে যে, তারা আর আলাদা থাকে না। পুরো তারা ভরে থাকে নিউট্রন নামে ছোট ছোট কণায়- যাদের নাম থেকেই এসেছে এই তারার নাম।
এদের অভিকর্ষ শক্তি এত বেশি যে, সেখানে গেলে তোমার লাফ দেওয়ার ক্ষমতা শেষ! পৃথিবীতে তুমি যত উঁচুতে লাফ দিতে পারো, নিউট্রন তারায় দাঁড়ালে তুমি চোখের পলকে মাটিতে ধপ করে পড়ে যাবে। অবশ্য ভয় পেও না, আমরা কেউ ওখানে যাব না!
নিউট্রন তারা ঘুরছে ঘুরছে ঘুরছেই!
এরা এত দ্রুত ঘোরে যে পৃথিবীর যেকোনো ঘূর্ণায়মান খেলনা এর কাছে ফেল! কিছু নিউট্রন তারা প্রতি সেকেন্ডে কয়েক শ’ বার ঘোরে। ভাবো তো, এক সেকেন্ডে ৩০০ বার! তোমার ঘুড়ি, লাটিম, ঘূর্ণি—কোনোটাই এত দ্রুত ঘোরে না।
যারা খুব দ্রুত ঘোরে তাদের বলা হয় পালসার। পালসার শব্দ শুনলেই যেন মনে হয়, ‘ধুপ-ধুপ’ করে আলো জ্বলে উঠছে। সত্যিই তাই- এরা ঘুরতে ঘুরতে আলো পাঠায়, আর পৃথিবীতে বসে আমরা সেই আলো নিয়মিতভাবে পাই।
যদি নিউট্রন তারা পৃথিবীর কাছে থাকত?
ভাবো, এই সুপার শক্তিশালী তারাটা যদি আমাদের কাছে থাকত, তাহলে কী হতো?
তাহলে হয়তো সমুদ্রের পানি ঢেউ তুলে আকাশে উঠত, পাহাড়গুলো লাফিয়ে উঠত আর তোমার পেন্সিল টেবিল থেকে নিজে থেকেই গড়িয়ে পড়ত! তবে ভয় নেই- এরা আমাদের কাছে আসবে না। এরা লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থাকে।
নিউট্রন তারার মজার তথ্য
• এরা দেখতে খুব ছোট- মাত্র প্রায় ২০ কিলোমিটার ব্যাস।
• পৃথিবীর তুলনায় লক্ষ-কোটি গুণ বেশি ভারী।
• এরা চৌম্বক শক্তির দিক থেকেও মহাকাশের রেকর্ডধারী।
• কিছু নিউট্রন তারাকে ‘ম্যাগনেটার’ বলে- যারা ম্যাগনেট বা চুম্বকের মতো আকর্ষণ শক্তিতে দারুণ!
• এদের রাতে আকাশে খালি চোখে দেখা যায় না- দূরবীন লাগবে।
কেন এদের সম্পর্কে জানব?
নিউট্রন তারার গল্প শুধু মজাদার নয়- বিজ্ঞান আমাদের শেখায় কত বড় এই ব্রহ্মাণ্ড আর আমরা কত ছোট। একই সঙ্গে শেখায়, ছোট হলেও শক্তি লুকিয়ে থাকতে পারে যেমন- নিউট্রন তারা, তেমনই তুমি! তুমি যদি মন দিয়ে চেষ্টা করো, তাহলে তুমিও পারবে তোমার নিজের পৃথিবীতে আলো ছড়াতে।