হ্যালো, ছোট্ট বন্ধুরা! আজ আমরা কথা বলব পিঁপড়া নিয়ে। পিঁপড়া তোমাদের বাড়ির উঠানে, বাগানে বা রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, তাই না? কিন্তু জানো, এই ছোট্ট প্রাণীগুলো আসলে সুপার হিরো! তারা এত শক্তিশালী যে, নিজের ওজনের ২০ গুণ ভারী জিনিস তুলতে পারে। কল্পনা করো, তোমার মাথার ওপরে তোমার আকারের ২০টি বেবি তুলে দেওয়া হয়েছে। তুমি তাদের নিয়ে হাঁটছ। পিঁপড়ার ব্যাপারটা এরকমই। চলো, পিঁপড়ার সবকিছু জেনে নিই মজার মজার গল্পে।
প্রথমে জেনে নাও, পিঁপড়া কী। পিঁপড়া একটা কীটপতঙ্গ, যার ছয়টি পা, তিনটি অংশের শরীর: মাথা, বুক আর পেট। তারা পৃথিবীতে ১২ হাজারেরও বেশি প্রজাতির! কেউ লাল, কেউ কালো, কেউ তো সবুজও হয়। কিন্তু সবচেয়ে মজার কথা, পিঁপড়াদের কান নেই! তারা শোনে না, বরং মাটির কম্পন অনুভব করে বোঝে কী হচ্ছে। আর ফুসফুসও নেই, তারা ছোট্ট ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নেয়। এমনকি পানিতে পড়লে তারা অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে, যেন সুইমিং চ্যাম্পিয়ন!
পিঁপড়ারা একা থাকে না, তারা বড় পরিবারে থাকে- যাকে বলে কলোনি। একটি কলোনিতে হাজার হাজার পিঁপড়া থাকতে পারে! সেখানে একটা রানি পিঁপড়া থাকে, যে ডিম পাড়ে। থাকে কর্মী পিঁপড়া, যারা খাবার খোঁজে, বাড়ি বানায় আর যুদ্ধ করে।
পিঁপড়াদের বাড়ি মাটির নিচে একটা বিশাল শহরের মতো- টানেল, ঘর, এমনকি খাবার রাখার স্টোরও আছে! এরা চলার সময় ফেরোমোন নামে একটা গন্ধ রেখে যায়। সেই গন্ধ অনুসরণ করে অন্য পিঁপড়ারা হাঁটে।
এবার খাবারের কথা বলি। পিঁপড়ারা সবকিছু খায়- মিষ্টি, পাতা, অন্য কীটপতঙ্গ। লিফকাটার পিঁপড়া তো পাতা কেটে নিয়ে গিয়ে ছত্রাক জন্মায়, যেন ছোট্ট ফার্মার! আর বুলেট পিঁপড়ার কামড়? ওফ, সবচেয়ে ব্যথা দেয়, যেন বুলেট লাগার মতো! কিন্তু ভয় পেও না, বেশির ভাগ পিঁপড়া তোমাদের বন্ধু। তারা মাটি ঢিলা করে, বীজ ছড়ায় আর পরিবেশ পরিষ্কার রাখে।
জানো তো, পিঁপড়াদের দুটি পাকস্থলী থাকে। একটা নিজের জন্য, আরেকটা বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য। কত ভালোবাসা! আর তারা পৃথিবীর সব জায়গায় থাকে, শুধু অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া। পিঁপড়াদের দেখলে ভাবো, তারা ছোট্ট হলেও টিমওয়ার্কে সেরা। তুমিও তাদের মতো বন্ধুদের সঙ্গে মিলে কাজ করো, দেখবে কত মজা! পরেরবার পিঁপড়া দেখলে হ্যালো বলো, কিন্তু ছুঁয়ো না যেন। চলো, এবার বাইরে গিয়ে পিঁপড়া খুঁজি!