ভূতের রাজ্যে দুঃখ নেমে এসেছে। রাজা যেকোনো দিন মারা যেতে পারে। বিশাল বড় ভূতের রাজ্য। ভূতের রাজা খুব ভালো। রাজা মরে গেলে সবাই ভীষণ কষ্ট পাবে। এত ভালো রাজা তারা কোথায় পাবে! তখন ভূতের রাজা বলল, ‘নতুন রাজা খোঁজো। আমি মারা গেলে সে হবে এই ভূতের রাজ্যের রাজা।’
সবাই বলল, ‘তবে আমাদের চাই তোমার মতো ভালো রাজা।’
ভূতের রাজা নিজের হাতের একটা চিহ্ন দেখিয়ে বলল, ‘যার হাতে এমন চিহ্ন দেখবে, সে হবে এই ভূতের রাজ্যের নতুন রাজা।’
সেনাপতি প্রথমে ভূতের রাজার হাতের চিহ্ন দেখিয়ে রাজ্যে ঘোষণা করে দিল, ‘যার হাতে এমন চিহ্ন আছে সে হবে আমাদের ভূতের রাজ্যের নতুন রাজা।’
ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাপতি তার দলবল নিয়ে নতুন রাজাকে খুঁজতে বের হয়ে গেল। তাদের বেশি দূর যেতে হলো না। রাজবাড়ি থেকে বেরোতেই একজন এসে বলল, ‘আমি তোমাদের নতুন রাজা।’
সেনাপতি বলল, ‘তোমার হাতে আমাদের রাজার হাতের মতো চিহ্ন দেখাও।’
সে তার হাতে রাজার হাতের মতো চিহ্ন দেখাল। কিন্তু সেই চিহ্ন দেখে সেনাপতির সন্দেহ হলো। সেনাপতি বলল, ‘তুমি আগে আমাদের রাজার কাছে চলো।’
হাতে চিহ্ন দেওয়া ভূতকে রাজার কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই ভূতের রাজা মারা গেল। তখন সেই হাতের চিহ্ন দেওয়া ভূত নতুন রাজা হয়ে গেল।
নতুন রাজা আগের রাজার মতো ভালো ছিল না। সে ছিল খুব খারাপ। অন্য ভূতদের অত্যাচার করত। নতুন রাজা আসার পর সব ভূতের মন খারাপ হয়ে গেল। তারা হাসে না। কোথাও বেড়াতে যায় না। শুধু মন খারাপ করে বসে থাকে।
নতুন রাজা একে একে পৃথিবীর সব ভূতের রাজ্য জয় করল। আর কোনো রাজ্য বাকি থাকল না। তখন সেনাপতি বলল, তাদের পাশে ছোট এক ভূতের রাজ্য আছে। সেই রাজ্যে সুখে আছে। রাজ্যটা এত ছোট যে, নতুন রাজার চোখে পড়েনি।
নতুন রাজা ভূতের ছোট রাজ্য আক্রমণ করল। ছোট রাজ্যের ভূতের রাজা জানত কোনোদিন ওই রাজা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। কারণ সে খারাপ রাজা। পৃথিবীর সব ভূতের রাজ্য দখল করে নিয়েছে। তাই তারা আগে থেকে বুদ্ধি করে রেখেছিল।
ভূতের বড় রাজ্যের খারাপ রাজা তার সেনাপতিকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করতে গেল। তাদের কাছে বড় বড় ঢাল-তলোয়ার ছিল। ছোট রাজ্যের রাজাকে গিয়ে বলল, ‘তুমি তোমার রাজ্য আমাকে দিয়ে দাও।’
ছোট রাজ্যের রাজা রাজি হলো না। বড় রাজ্যের খারাপ ভূতের রাজা ভূতের ছোট রাজ্য নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিল। সেই সময় ছোট রাজ্যের রাজার বুদ্ধি কাজে লাগল। তারা সবাই বড় ভূতের রাজ্যের রাজার মুঠো থেকে বের হয়ে গেল। বড় রাজ্যের রাজা নিজের হাতের মুঠো খুলে দেখে তার হাতে অনেকগুলো বিষাক্ত কাঁটা গেঁথে আছে। বিষাক্ত কাঁটার বিষে দেখতে দেখতে খারাপ রাজা মারা গেল।
অন্য ভূতরা দেখল মৃত রাজার হাত থেকে সেই চিহ্নও মিলিয়ে গেছে। তখন তারা বুঝতে পারল, এটা ছিল বানানো চিহ্ন। সত্যিকারের চিহ্ন নয়। তখন তারা খুঁজতে থাকল সত্যিকারের চিহ্ন কার কাছে আছে। খুঁজতে খুঁজতে তারা একজন খুব ভালো ভূতের হাতে সেই চিহ্ন দেখতে পেল।
ভালো ভূত বড় ভূতের রাজ্যের ভালো রাজা হলো। ভালো রাজা পৃথিবীর সব ভূতের রাজ্য ফিরিয়ে দিল। সব ভূত আবার সুখে-শান্তিতে বাস করতে থাকল। তারা এখন হাসে, খেলা করে, গান গায়। আনন্দ করে।
লেখক: ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা।