বাংলা প্রথম পত্র
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে, তাই তোমরা বেশি টেনশন না করে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী বোর্ড-বইয়ের সব অধ্যায় ভালোভাবে পড়বে।
n লেখক-পরিচিতি থেকে শুরু করে অধ্যায়ের ভেতরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বাক্য কিংবা পঙ্ক্তি রয়েছে, সেগুলোর অর্থসহ ব্যাখ্যা পড়বে।
n প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে যেসব শব্দার্থ, টিকা ও পাঠ-পরিচিতি রয়েছে, সেগুলো ভালোভাবে পড়বে। কেননা, জ্ঞান স্তর ও অনুধাবন স্তরের প্রশ্নগুলো সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট অধ্যায় থেকে আসবে। আর প্রয়োগ স্তর ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্নগুলো উদ্দীপক ও বইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায় মিলে হবে।
n পাঠ্যবইয়ের একটি গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা পড়ার পর ওই গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতার যেসব চরিত্র রয়েছে সেগুলোর কার কী ভূমিকা রয়েছে, তা ভালোভাবে বুঝে পড়বে ও উত্তর খাতায় না দেখে লেখার অনুশীলন করবে।
সৃজনশীল প্রশ্নে যেভাবে প্রস্তুতি নেবে: সৃজনশীল প্রশ্নে প্রতিটি উদ্দীপকে চারটি স্তরের প্রশ্ন থাকে। তা হলো-
(ক) জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর: পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় বা গল্প ও প্রবন্ধ এবং কবিতার ভেতর থেকে যে বাক্যগুলো এককথায় প্রশ্নোত্তর হয় সেখান থেকে, শব্দার্থ থেকে এবং লেখক-পরিচিতি থেকে জ্ঞান স্তরের প্রশ্ন হবে। এ স্তরে নম্বর থাকে ১। জ্ঞান স্তরের উত্তর একটি বাক্যে লেখাই উত্তম।
(খ) অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর: প্রশ্নপত্রে অনুধাবন স্তরে নম্বর থাকে ২। এ স্তরের উত্তর তোমরা দুটি অংশে লিখবে। অর্থাৎ প্রথম অংশে জ্ঞান স্তরের ১ নম্বরের জন্য একটি বাক্য ভাবার্থে এবং দ্বিতীয় অংশে অনুধাবন স্তরের ১ নম্বরের জন্য বইয়ের নির্দিষ্ট অধ্যায়ের আঙ্গিকে দুটি থেকে চারটি বাক্যের মধ্যে উত্তর লিখবে। এক্ষেত্রে কেউ ইচ্ছা করলে অনুধাবন অংশটি আগেও লিখতে পার এবং জ্ঞান স্তরের অংশটি পরে লিখলেও হবে।
(গ) প্রয়োগমূলক প্রশ্ন ও উত্তর: প্রয়োগমূলক স্তরে নম্বর থাকে ৩ (জ্ঞান স্তর=১, অনুধাবন স্তর=১ ও প্রয়োগ স্তর=১)। তোমরা উত্তরে জ্ঞান স্তরটি লিখবে বই ও উদ্দীপকের ভাবানুবাদে, অনুধাবন স্তরটি লিখবে বইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের আঙ্গিকে এবং প্রয়োগ স্তরটি লিখবে উদ্দীপক থেকে। তবে উদ্দীপকের কথা হুবহু লিখবে না, নিজের ভাষায় বর্ণনা করবে। শেষে প্রয়োগের জ্ঞানটি অর্থাৎ বই ও উদ্দীপক উভয় জায়গাতে যে দিকটি ফুটে উঠেছে সেটা সংক্ষেপে লিখবে। এভাবে প্রয়োগমূলক স্তর তিনটি প্যারায় লেখা উত্তম।
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন ও উত্তর: উচ্চতর দক্ষতা স্তরে নম্বর থাকে ৪ (জ্ঞান স্তর = ১, অনুধাবন স্তর = ১, প্রয়োগ স্তর = ১ ও উচ্চতর দক্ষতা = ১)। তোমরা জ্ঞান স্তরটি লিখবে সিদ্ধান্তের ভাব অনুযায়ী, অনুধাবন স্তরটি লিখবে বইয়ের নির্দিষ্ট অধ্যায়ের আঙ্গিকে, প্রয়োগ স্তরটি লিখবে উদ্দীপক থেকে ও উচ্চতর দক্ষতার স্তরটি লিখবে বইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশ এবং উদ্দীপকের অংশের সমন্বয় সাধন করে এবং জ্ঞান স্তরের উত্তর লেখার ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নেবে তা পুনরাবৃত্তি করে লিখবে। এ প্রশ্নের উত্তর চারটি প্যারায় লিখলে ভালো। (ঘ) নম্বর প্রশ্নোত্তরের জ্ঞান স্তরের উত্তরটি খুবই চিন্তা করে লিখবে। কেননা সিদ্ধান্ত ভুল লিখলে ওই প্রশ্নের অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতার দক্ষতা স্তরের উত্তরে প্রভাব পড়বে। তখন হয়তো পরীক্ষক ওই প্রশ্নোত্তরে কম নম্বর দেবেন। এমনকি শূন্য নম্বর দিতে পারেন। (ঘ) নম্বর প্রশ্নে উচ্চতর দক্ষতা স্তরের মধ্যে জ্ঞান স্তরের উত্তরের সঙ্গে কারণ লেখা উত্তম। আর শেষ প্যারায় প্রাসঙ্গিক নৈতিকতার কথা এক বাক্যে লিখবে।
n এসএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রের লিখিত সৃজনশীল প্রশ্নে গদ্য, কবিতা এবং সহপাঠ অংশে উপন্যাস ও নাটক, এ চারটি বিভাগ থেকে মোট ১১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে। গদ্য অংশ থেকে ন্যূনতম দুটি, কবিতা অংশ থেকে ন্যূনতম দুটি, উপন্যাস অংশ থেকে ন্যূনতম একটি ও নাটক অংশ থেকে ন্যূনতম একটিসহ মোট সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তাই একজন পরীক্ষার্থীকে ৭০ নম্বরের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করার জন্য একটি উদ্দীপকের চারটি প্রশ্নোত্তরের (ক, খ, গ এবং ঘ) জন্য প্রায় ৩৫টি বাক্যে উত্তর লিখে একটি প্রশ্নের উত্তর করার জন্য গড়ে ২০-২২ মিনিট সময় ভাগ করে নিতে হবে; অন্যথায় তোমরা বাকি উত্তরগুলো লিখে রিভিশন দিতে পারবে না।
nসৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় প্রশ্নের উত্তরে (ক, খ, গ ও শেষে ঘ নম্বর প্রশ্নের উত্তর) ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা করবে।
n বানানের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকবে। বিশেষ করে (ক) নম্বর প্রশ্নের জ্ঞান স্তরের উত্তরে বানান ভুল হলে সাধারণত নম্বর দেওয়া হয় না।
n সম্মানিত ব্যক্তির নামের পরিবর্তে সম্ভ্রমাত্মক সর্বনামে তার বানানে চন্দ্রবিন্দু দিতে হবে। যেকোনো কবিতা/ প্রবন্ধ/ গল্প/ উপন্যাস/ নাটকের নাম লিখলে অবশ্যই উদ্ধরণ চিহ্ন (যেমন- ‘বহিপীর’ নাটক) দেবে।
n উত্তরে বিরামচিহ্ন লেখার সময় সঠিকভাবে লিখবে। কেননা শুদ্ধভাবে বিরামচিহ্নের ব্যবহার না করলে অনেক সময় অর্থ পরিবর্তন হতে পারে।
বহুনির্বাচনি প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পেতে: পাঠ্যবই ভালোভাবে পড়া থাকলে বহুনির্বাচনি প্রশ্নে সঠিক উত্তর নির্বাচন করতে তোমাদের তেমন সমস্যা হবে না। বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্রে গদ্যাংশ (১২টি), কবিতাংশ (১২টি) ও সহপাঠ (উপন্যাস ৩টি ও নাটক ৩টি) থেকে মোট ৩০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকবে। এই ৩০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থেকে তোমরা ৩০টির উত্তর ওএমআরে বৃত্ত ভরাট করবে।
n বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর করার সময় একটি প্রশ্নোত্তরে কখনোই একাধিক বৃত্ত ভরাট করবে না, ফ্লুয়িড ব্যবহার করবে না কিংবা ব্লেড দিয়ে ভুল উত্তরটি তুলে ওএমআরে নতুন বৃত্ত ভরাট করবে না এবং ভাঁজ করবে না।
n বাংলা প্রথম পত্রে এ প্লাস পেতে তোমরা পাঠ্যবই গুরুত্ব দিয়ে পড়বে।
n পরীক্ষায় উদ্দীপক/দৃশ্যকল্প যা দেওয়া থাক না কেন, পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের শিখনফল ভালোভাবে আত্মস্থ করা থাকলে তোমাদের পক্ষে মানসম্মত উত্তর করা সম্ভব হবে।
n সব প্রশ্নের শুদ্ধ ও যথার্থভাবে প্রাসঙ্গিক উত্তর লিখবে এবং শেষে পুরো উত্তরপত্রটি রিভিশন দেবে। তাহলেই তোমাদের পক্ষে পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব হবে।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর