পঞ্চম অধ্যায় : স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন
(গত ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশের পর)
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ব্যবসায় ঋণকে কেন স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়ন বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ব্যবসায়ের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যাবলির (যেমন-কেনাবেচা) মাধ্যমে সৃষ্ট অর্থায়ন হচ্ছে স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়ন। ব্যবসায় ঋণ বলতে পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে বাকিতে পণ্য কেনাবেচার মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণকে বোঝায়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কাঁচামাল বা মজুত পণ্য কেনা ব্যবসায়ের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা এবং জামানতের প্রয়োজন হয় না। এসব কারণে ব্যবসায় ঋণকে স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়ন বলা হয়।
প্রশ্ন: ঋণ রেখা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যে অনানুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট হার সুদে দিতে সম্মত হয় তাকে ঋণ রেখা বলে।
ঋণ রেখা বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যবসায়ের মধ্যে একধরনের ঋণ চুক্তি, যা স্বল্পমেয়াদি জামানতবিহীন ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে। এই জামানতবিহীন ঋণ ব্যাংক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেয়। তবে ব্যাংকে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা থাকলে এ ঋণ দেওয়া হয়। এ ঋণের সঙ্গে ঘূর্ণায়মান ঋণের পার্থক্য হলো এটি এককালীন উত্তোলন হয় এবং এর কোনো বাধ্যবাধকতা ফি নেই।
প্রশ্ন: ঋণ রেখা ও ঘূর্ণায়মান ঋণের মধ্যে পার্থক্য করো।
উত্তর: ঋণ রেখা ঘূর্ণায়মান ঋণ উভয়ই জামানতবিহীন স্বল্পমেয়াদি ঋণের উৎস হলেও এদের মধ্যে অন্যতম পার্থক্য হলো ঋণ রেখা একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তি অন্যদিকে ঘূর্ণায়মান ঋণ একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি। ঋণ রেখার ক্ষেত্রে মঞ্জুরীকৃত ঋণের অর্থ এককালীন উত্তোলন করতে হয়। অন্যদিকে ঘূর্ণায়মান ঋণের ক্ষেত্রে এককালীন বা একাধিকবার উত্তোলনের সুযোগ থাকে। ঋণ রেখার ক্ষেত্রে কোনো অঙ্গীকার ফি নেই। অন্যদিকে ঘূর্ণায়মান ঋণের ক্ষেত্রে অনুত্তোলিত অর্থের ওপর অঙ্গীকার ফি দিতে হয়।
প্রশ্ন: মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে পরিমাণ পণ্যের ফরমায়েশ করলে পণ্যের বহন ব্যয় ও ফরমায়েশ ব্যয় সবচেয়ে কম হয়, তাকে মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ বলে।
প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদনের মোট ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ নির্ণয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। ফলে পণ্যের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস পায়। কেননা কী পরিমাণ পণ্যের ফরমায়েশ দিলে ফরমায়েশ প্রদানের ব্যয় এবং মজুত ধারণ বা বহন ব্যয় সবচেয়ে কম হবে সেই পরিমাণ পণ্যের ক্রয় আদেশ দেওয়াটাই হলো মিতব্যয়ী ফরমায়েশ পরিমাণ।
প্রশ্ন: ‘মজুত ব্যয় পণ্যের বিক্রিমূল্যকে কীভাবে প্রভাবিত করে’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মজুত ব্যয় বলতে মজুত ধরে রাখার জন্য যেসব ব্যয় সম্পাদন করা হয় তার সমষ্টিকে বোঝায়।
মজুত ব্যয় পণ্যের বিক্রিমূল্যকে প্রভাবিত করে। কারণ মজুত ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মোট ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যের বিক্রিমূল্য বৃদ্ধি পায়। আবার মজুত ব্যয় হ্রাস পেলে মোট ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় পণ্যের বিক্রিমূল্য হ্রাস পায়।
প্রশ্ন: নগদ চক্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কাঁচামাল বাকিতে কিনে উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং বিক্রীত অর্থ থেকে কাঁচামালের মূল্য পরিশোধের সময়কে নগদ চক্র বা নগদ রূপান্তর চক্র বলে।
নগদ রূপান্তর চক্র যত কম হবে কোম্পানির নগদ অর্থ প্রাপ্তির নিট সময় তত কম হবে, যা কোম্পানির জন্য লাভজনক। নগদ রূপান্তর চক্রের মাধ্যমে কোনো কোম্পানির নগদ অর্থ কতদিন চলতি সম্পত্তিতে বিনিয়োজিত থাকবে তা জানা যায়।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা
কবীর