প্রথম অধ্যায় : মৌলিক মানবিক চাহিদা
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-১
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ।
বেকার স্বামী নিয়ে সুমনা অভাব-অনটনে দিন অতিবাহিত করে। জীবিকা নির্বাহ করতে তাকে গৃহকর্মীর কাজ করতে হয়। এক দিন সে যে বাসায় কাজ করে তার কর্তা ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায় কি না জানতে চাইলে সে জানায়, পাঁচ সন্তানকে দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের সংস্থান ও অসুস্থ হলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যেখানে সম্ভব হয় না সেখানে স্কুলে পাঠানো এক প্রকার বিলাসিতারই নামান্তর।
(ক) মানবিক চাহিদা কী?
(খ) চিত্তবিনোদন বলতে কী বোঝায়?
(গ) উদ্দীপকে সুমনার যেসব মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মৌল মানবিক চাহিদা অপূরণে নেতিবাচক প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: (ক) সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে সমাজবদ্ধ জীবনযাপনের জন্য যেসব চাহিদা পূরণ একান্ত অপরিহার্য সেগুলোই হলো মানবিক চাহিদা।
(খ) নির্মল আনন্দ ও আমোদ-প্রমোদ লাভের পন্থাই হলো বিনোদন। বিনোদনের মাধ্যমে মানুষের চিত্ত জাগ্রত হয়। তাই বিনোদনকে অনেক সময় চিত্তবিনোদন বলা হয়। চিত্তবিনোদন এমন এক কার্যক্রম, যা আনন্দ ও তৃপ্তিদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সৃজনশীল অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দান করে।
(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমনার পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হচ্ছে না। বেকার স্বামী ও পাঁচ সন্তানের জন্য জীবিকা নির্বাহ করতে সুমনাকে গৃহকর্মীর কাজ করতে হয়। তাতেও বেশ অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই পরিবার নিয়ে সে দিনাতিপাত করে। প্রথমত সুমনার পরিবারের খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। খাদ্য হলো সেই জৈব উপাদান, যা গ্রহণের মাধ্যমে জীবদেহের গঠন, ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন, তাপ ও শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে। খাদ্যহীন মানুষ স্বাস্থ্যহীনতায় ভোগে। দ্বিতীয়ত সুমনার কথায় তার পরিবারে চিকিৎসার অভাব পরিলক্ষিত হয়। সীমিত আয়ের মাধ্যমে সে তার সন্তানদের সুচিকিৎসা দিতে সক্ষম নয়। দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক মঙ্গলজনক অবস্থা নির্ভর করে স্বাস্থ্যের ওপর। তৃতীয়ত সুমনার ভাষ্য অনুযায়ী পাঁচ সন্তানকে দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের সংস্থান এবং অসুস্থ হলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যেখানে সম্ভব হয় না, সেখানে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এক প্রকার বিলাসিতারই নামান্তর। যদিও শিক্ষা সবার জন্যই আবশ্যক। ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি নির্ভর করে শিক্ষার ওপর। মানুষের দেহ, মন ও আত্মার বিকাশ শিক্ষার মাধ্যমেই ঘটে। সুতরাং বোঝা যায়, সুমনার সন্তানদের খাদ্য, চিকিৎসা এবং শিক্ষার মতো মৌল মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ হচ্ছে না।
(ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত মৌল মানবিক চাহিদাগুলো পূরণে নানাবিধ অন্তরায় বিদ্যমান। প্রথমত বাংলাদেশের জনগণের মৌল মানবিক চাহিদাগুলো পূরণে প্রধান অন্তরায় অধিক জনসংখ্যা। জনসংখ্যার তুলনায় আমাদের সম্পদ সীমিত। তাই সবার চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। দ্বিতীয়ত দারিদ্র্যের কারণে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে অনেকেই ব্যর্থ হয়। তাদের আয় কম হওয়ায় তারা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ। তৃতীয়ত বেকারত্বের কারণে জনগণের একটি বড় অংশ তাদের উপার্জন থেকে বঞ্চিত। ফলে তারা তাদের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যা সমাজে নানা ধরণের সমস্যা তৈরি করে। চতুর্থত বাংলাদেশ অর্থনীতিতে ক্রমশ উন্নতির দিকে অগ্রসরমান হলেও কৃষিনির্ভরতা এখনো বিদ্যমান। কৃষিকাজে বিভিন্ন প্রভাবের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়। যেমন- খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধির ফলে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো ব্যাপক আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন অতিবাহিত করে। ফলে তারা তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে না। পঞ্চমত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে স্বল্প আয়ের মানুষকে তাদের জীবনযাপনে হিমশিম খেতে হয়। ষষ্ঠত সম্পদ ও আয়ের অসম বণ্টনের ফলে সমাজের গরিবরা তাদের জীবনের সব মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মৌল মানবিক চাহিদাগুলো পূরণে আমাদের সমাজে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
কবীর