ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) বর্তমান সভাপতি তাসকীন আহমেদ। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে সে ব্যাপারে এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম।
খবরের কাগজ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন কেমন হবে বলে আপনি প্রত্যাশা করেন।
তাসকীন আহমেদ: ঢাকা চেম্বার সবসময়ই স্থিতিশীল ও নির্বাচিত সরকার প্রত্যাশা করে। কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পাশাপাশি, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি দেখা দেয়। তাই আমরা প্রত্যাশা করি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন যেন দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার অনুকূলে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
খবরের কাগজ: আপনি কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখছেন।
তাসকীন আহমেদ: গণতন্ত্রের ধারা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া জরুরি প্রয়োজন। যখন সব রাজনৈতিক দল সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়, তখনই ভোটাররা আস্থা পান। ব্যবসায়ীরা শুরু থেকেই বলে আসছেন যেন দ্রুত একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত সরকার একটি পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট নিয়ে আসে যাতে করে আন্তর্জাতিক মহল পজিটিভ বার্তা পায়। তাই আমরা প্রত্যাশা করি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু এবং একই সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয় যাতে অন্য দেশ ও মানুষের কাছে এই নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।
খবরের কাগজ: জুলাই আন্দোলনের পর ব্যাপক আলোচিত শব্দ হচ্ছে–নতুন বন্দোবস্ত। নির্বাচনে নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি কেমন দেখছেন।
তাসকীন আহমেদ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে নতুন বন্দোবস্তের মূল উদ্দেশ্য যদি হয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, তবে ব্যবসায়ীরা অবশ্যই এর পক্ষে। কিন্তু সার্বিকভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমাদের অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে। নতুন করে বিনিয়োগের চিন্তা ব্যবসায়ীরা করছেন না। পাশাপাশি, ব্যবসায়ীদের কাছে নতুন রিপাবলিক, সংবিধান পরিবর্তন ম্যাটার করে না। নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারলেই আমরা খুশি। আমরা নতুন বন্দোবস্তের মর্মার্থ বুঝতে চাই না। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে উপলক্ষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। আমরা চাই, অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনা করে এমন একটি নতুন পথ দেখাক, যা সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
খবরের কাগজ: বর্তমানে গণমাধ্যমের ভূমিকা কি স্বাধীন দেখছেন?
তাসকীন আহমেদ: গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আমাদের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমকর্মীরা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। মুক্ত গণমাধ্যম স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশসহ অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সঠিক তথ্য প্রদানে সহায়তা করে। যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহজ হয়। আমরা মনে করি, গণমাধ্যমকে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। যাতে করে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা আরও সুনিশ্চিত হয়।
খবরের কাগজ: সম্প্রতি দুই উপদেষ্টা নির্বাচন করার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ব্যাপারটিকে কীভাবে দেখছেন?
তাসকীন আহমেদ: এটি একটি নীতিগত বিষয়। রাজনৈতিক দল বা সরকারের উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিরা যখন নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তখন তাদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তটি নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার পরিচায়ক। তবে ব্যবসায়ীরা রাজনীতি ও ব্যবসাকে আলাদা রাখতে চান। আমরা আশা করি, এই ধরনের পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত যেন দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও স্থিতিশীলতাকে কোনোভাবে ব্যাহত না করে।
খবরের কাগজ: রাজনীতিতে বর্তমানে কেমন ধারা দেখছেন?
তাসকীন আহমেদ: বর্তমানে রাজনীতিতে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মোটেও সুখকর নয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা সত্যিই চাপে আছেন, নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে এবং অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বন্ধ হওয়ার পথে। আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসুক। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করুক। তাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বিনিয়োগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একটি নির্বাচিত সরকার অতীব জরুরি।