ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করেছেন। গঠন হয়েছে নতুন সরকার ও নতুন সংসদ। তবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেল। এ নিয়ে খবরের কাগজ কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল আলম।
খবরের কাগজ: সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্যরা। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। এ অবস্থায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কী হবে?
শাহদীন মালিক: এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। এটা একটা নতুন পরিস্থিতি, নতুন অভিজ্ঞতা। দুই পক্ষের কথা শুনে মনে হচ্ছে, এই পরিষদকে শপথ পড়াবেন কে? পরিষদে সভাপতিত্ব করবেন কে? জাতীয় সংসদের স্পিকারই কি এখানে সভাপতিত্ব করবেন? নাকি এখানকার জন্য আলাদা স্পিকার নির্বাচিত হবেন? এই বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি। তাই দুই পক্ষের অবস্থান দুই রকম।
খবরের কাগজ: এর সমাধান কী?
শাহদীন মালিক: সমাধান খুঁজতে হলে দেখতে হবে সাধারণ মানুষ কী চায়? সাধারণ মানুষ কিন্তু জেদাজেদি চায় না। মানুষ চায় স্থিতিশীলতা। গত দেড় বছরের অস্থিরতার পর মানুষ এখন চায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক হবে ইত্যাদি। তাই সেদিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। সাংবিধানিক কোনো ব্যাপার থাকলে বা আইনে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে এখন তো সংসদ গঠিত হয়েছে। সংসদ আছে, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে, যা কিছু হওয়া উচিত সংসদ থেকেই।
খবরের কাগজ: নতুন সরকার কেমন হয়েছে?
শাহদীন মালিক: পত্রিকায় দেখলাম ৭০ শতাংশ এমপিই নতুন, মানে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন। এখান থেকেই তো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী হয়ে সরকারে গেছেন ওনারা। তার মানে এমপিদের মতো নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও অনেকে নতুন। তাই নতুন মন্ত্রিপরিষদ স্বাভাবিক হতে একটু তো সময় লাগবেই।
খবরের কাগজ: নতুন সংসদ কেমন হয়েছে?
শাহদীন মালিক: একই উত্তর প্রায়। তবে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওনারা। খবরে দেখলাম বিরোধী দল ও সরকারি দল থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না সংসদ সদস্যরা। তার মানে সদিচ্ছা থাকলে সংসদ থেকেও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।