চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি ২০২২ সালে কলেজ পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন খবরের কাগজের সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম।
খবরের কাগজ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আপনি মনে করছেন?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠনের ফলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা থাকে এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে এই নির্বাচন গত তিনটি নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি।
খবরের কাগজ: তরুণ ও নতুন ভোটারদের মধ্যে ভোটবিমুখতার মূল কারণ কী? তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর কী ভূমিকা থাকা উচিত?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: তরুণ ও নতুন ভোটারদের মধ্যে ভোটবিমুখতার মূল কারণ হলো অতীতের ‘ভোট কারচুপি’ এবং ‘পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারা’। ভোটারদের আস্থা ফেরাতে রাষ্ট্রকে ভোটাধিকারের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে পেশিশক্তির বদলে জনকল্যাণমূলক ও স্বচ্ছ রাজনীতির চর্চা করতে হবে।
খবরের কাগজ: গণভোটের মাধ্যমে কি সত্যিই জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: গণভোট যেহেতু কোনো বিশেষ জাতীয় ইস্যুতে জনগণের সরাসরি রায় জানার সবচেয়ে গণতান্ত্রিক মাধ্যম, সেহেতু এটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে বলে আমি মনে করি।
খবরের কাগজ: অতীতের বেশ কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে যে সমালোচনা ও বিতর্ক রয়েছে, সেখান থেকে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের শিক্ষা নিয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: বিগত নির্বাচনগুলো থেকে প্রধান শিক্ষা হলো, জনগণের অংশগ্রহণ ও বিশ্বাসযোগ্যতা ছাড়া নির্বাচন অর্থহীন। তাই বর্তমান নির্বাচন কমিশন কারিগরি স্বচ্ছতা যেমন: পোস্টাল ব্যালট এবং প্রশাসনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: এটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ না থাকলে এবং নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনের দায়ে কঠোর শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
খবরের কাগজ: সম্প্রতি এনসিপি ও এলডিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে। এটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: এটি মূলত নির্বাচনি কৌশলের অংশ। বাংলাদেশে রাজনৈতিক মেরূকরণ এবং বড় দলগুলো অর্থাৎ বিএনপির বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতেই এই ১০-দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। এর ফলাফল নির্ভর করবে জনসমর্থন ও আসন ভাগাভাগির ওপর।
খবরের কাগজ: নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কি তৈরি হয়েছে?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: এখনো পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে বলা যায় না। তবে আগের তুলনায় ভয়ের পরিবেশ কমেছে। সব দলের সভা-সমাবেশের সমান সুযোগ এবং নির্বাচনে সমান প্রচারে সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
খবরের কাগজ: নির্বাচনে নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি কেমন দেখছেন?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ইতিবাচক। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের সুযোগ এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে জেলা পর্যায়ে প্রশাসনের সংস্কার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টি এখনো পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
খবরের কাগজ: বর্তমানে গণমাধ্যমের কাছে আপনার কী প্রত্যাশা?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: গণমাধ্যম যেন কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষ তথ্য পরিবেশন করে। বিশেষ করে নির্বাচনি অনিয়ম সাহসের সঙ্গে তুলে ধরা এবং ভোটারদের সচেতন করার ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা পালন করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।
খবরের কাগজ: একজন সাধারণ ভোটারের প্রতি আপনার সংক্ষিপ্ত বার্তা কী?
মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ: আপনার ভোট আপনার আমানত। ভয় বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিন। আপনার একটি সচেতন ভোটই দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।