নতুন সরকারকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিশেষভাবে বন্ধ কারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। পোশাক রপ্তানির নতুন বাজার সৃষ্টিতে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে। প্রয়োজনে কম সুদে সহজ শর্তে পোশাক শিল্প মালিকদের ঋণ দিলে আবার ঘুরে দাঁড়াবে এ খাত। শুধু তাই না, পোশাক শিল্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। সরকার এককভাবে কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারবে না।
খবরের কাগজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক ও চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্লিপটন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী পরিচালক এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছে চট্টগ্রাম অফিসের স্টাফ রিপোর্টার আবদুস সাত্তার।
খবরের কাগজ: নতুন সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কি ?
এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী: নতুন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে তৈরি পোশাক শিল্পকে চাঙা করতে হবে। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি বৈদেশিক মুদ্রা। বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এ খাতকে আরও টেকসই উন্নয়ন ও শ্রমিকবান্ধব এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে সরকারকে। ব্যবসা বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ পেলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতি চাঙা হবে। সুতরাং নতুন সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে গার্মেন্টস শিল্পের সমস্যার সমাধান করে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
খবরের কাগজ: সরকার পরিবর্তনের পর আপনার ব্যবসায় কোনো পরিবর্তন দেখছেন ?
এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী: নির্বাচনের আগে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। শিল্প বাণিজ্য করার মতো অনুকূল পরিবেশ ছিল না। অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশে নতুনভাবে ব্যবসাবাণিজ্য করবে না বলেও নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। কিন্তু নির্বাচনের পর অনেক কিছু পাল্টে গিয়েছে। সম্প্রতি অর্ডার বাড়তে শুরু করেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বায়াররা আমাদের দেশের দিকে আবার নজর দিয়েছে। একটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনা করেও বায়াররা চলে যায়। ঠিক সে জন্যই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পোশাক কারখানায় আকাল দেখা দিয়েছিল। অনেক শিল্প কারখানা বিশেষ করে পোশাক কারখানা খাতের অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পোশাক কারখানার অনেক মালিক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে পারেননি। অপর দিকে বিদেশি অর্ডার হারাতে হয়েছে। আমাদের উচিত হবে বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া। কিছু দিন আগেও দেশে পোশাক শিল্পের অর্ডার ২০ শতাংশ কমেছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু অর্ডার ফিরে আসছে। আমি আশা করি নতুন সরকার ব্যবসাবাণিজ্য বান্ধব হবে। তৈরি পোশাখ শিল্পের জন্য প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।
খবরের কাগজ: নতুন বাজার খোঁজার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা কি হতে পারে ?
এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী: আসলে নতুন ব্যবসা খুঁজতে হয় প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতাও প্রয়োজন। সরকার টু সরকার, বিভিন্ন ব্যবসায়িক চুক্তি এ ক্ষেত্রে অগ্রণি ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের আমাদের দেশে নিয়ে আসার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। বিদেশের সঙ্গে আমাদের দেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তাতেই ব্যবসার পথ সুগম হবে।
খবরের কাগজ: ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের কি করা উচিত ?
এম ডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী: প্রয়োজনে কম সুদে সহজ শর্তে পোশাক শিল্প মালিকদের ঋণ দিলে আবার ঘুরে দাঁড়াবে এ খাত। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য এ খাত রক্ষা করতে হবে সরকারকে। এ খাত ধ্বংসের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এরপর সব কিছু খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অনেক কারখানার মালিক শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। বিগত করোনা মহামারি সময় থেকে এ শিল্প দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। এরপর আসে রাজনৈতি অস্থিতিশীলতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতি পটপরিবর্তনের পর আবারও ধাক্কা খায় এ শিল্পটি। এতে অনেক মালিক কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। অনেক ব্যবসায়িকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এসব কারণে শিল্পটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আনতে হলে সরকারকে নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। তাতে সুফল মিলবে বলে আমি মনে করি।