ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল যে বই কেউ ছাপতে চায়নি সেই বইয়ের বুকার জয় ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক কর্মস্থলে গরমে হাঁসফাঁস ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা ভূঞাপুরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, মাইকিং করে ফের সংঘর্ষের ঘোষণা পর্যটন খাতে তাপের প্রভাব বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি নাটোরে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ফেনীতে প্রখর রোদে দুর্ভোগে খেটে খাওয়া মানুষ বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া
Nagad desktop

পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিতে হবে

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিতে হবে

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন বাজারের খোঁজে নেমেছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। এসব বাজারে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিচ্ছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার নতুন বাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা বাড়ছে। বাংলাদেশের নিট পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম খবরের কাগজের ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনীর কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

খবরের কাগজ: পোশাক শিল্পের এখন কি অবস্থা চলছে? 
মো. হাতেম: চীন থেকে উৎপাদন স্থানান্তরের সুবাদে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও নতুন পণ্যের জন্য নতুন বাজার অপরিহার্য‌। তাই পোশাক মালিকরা নতুন বাজারের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে খোঁজ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের গুণগতমান যথেষ্ট ভালো। তাই আমাদের কথা নতুন ক্রেতারা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময়ে আমাদের দেশের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। 

খবরের কাগজ: নতুন বাজারের খোঁজে পোশাক শিল্পের মালিক হিসেবে আপনারা কি কি উদ্যোগ নিচ্ছেন?
মো. হাতেম: ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকরণে জোর দিয়েছি। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত প্রায় ৭০ শতাংশ নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমাতে ল্যাটিন আমেরিকা, ভারত, জাপান, রাশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। 

খবরের কাগজ: পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এখন বিশ্ব বাণিজ্যে জরুরি। এক্ষেত্রে আপনারা কি চিন্তা করছেন? 
মো. হাতেম: আমাদের পোশাক শিল্পের মালিকরা সাধারণ টি-শার্ট বা জিন্সের বাইরে হাই-ভ্যালু বা উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে। যেমন- স্পোর্টসওয়্যার, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং নন-কটন পোশাকে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।

খবরের কাগজ: উন্নত বিশ্বের ক্রেতা আকৃষ্ট করতে কি করছেন? 
মো. হাতেম: টেকসই উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন’ কারখানা লিড সার্টিফাইড কারখানার সংখ্যা বাড়িয়ে ৯২টি প্লাটিনাম, ১২৪টি গোল্ডসহ ২৩০টি করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের ক্রেতা (বায়ার) আকর্ষণ করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

খবরের কাগজ: প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কি করছেন? 
মো. হাতেম: সাশ্রয়ী শ্রমব্যয় আমাদের ব্যবসার অন্যতম পুঁজি। কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনীতি। বিশ্ব রাজনীতির ওপর নির্ভর করে আমাদের ক্রেতা পাওয়া, না পাওয়া নির্ভরশীল। 

খবরের কাগজ: ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব? 
মো. হাতেম: একটি একক বাজারের ওপর দেশের পোশাক খাত নির্ভরশীল হলে সহজে ভূরাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন– সব কিছুই আমাদের তৈরি পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন কোনো একক বাজারের ওপর আমদের নির্ভরশীল হতে না হয়। যেমন, ইইউ-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি না হলে বা গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে শুল্ক আরোপের ঝুঁকি রয়েছে। 

খবরের কাগজ: নতুন বাজারে প্রবেশ করতে কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন? 
মো. হাতেম: নতুন বাজারের খোঁজে বিভিন্ন দেশের মানুষের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করাই এখন পোশাক শিল্পের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন বাজারের খোঁজে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ দিচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া এবং এশিয়ার নতুন বাজারগুলোতে সম্ভাবনা বাড়ছে।

সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
মুরগির বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারি নজরদারি জরুরি
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির

দেশের পোলট্রি খাতকে স্থিতিশীল রাখতে মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার (DOC) দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (CVASU) পোলট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির। তার সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার উৎপাদন খরচ কত?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এক দিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনের খরচ সাধারণত ৩০ টাকার বেশি। লেয়ার বাচ্চার ক্ষেত্রে তা ৩৫ টাকার ওপরে। তবে ফিডের দাম, প্যারেন্ট স্টকের মান এবং হ্যাচারির ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে এই খরচ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

খবরের কাগজ: খামারিদের অভিযোগ, দেশের পোলট্রি শিল্পের নিয়ন্ত্রণ বড় কোম্পানির হাতে চলে গেছে। এর বাস্তবতা কতটুকু?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: খামারিদের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বর্তমানে ফিডের দাম অনেক বেড়েছে, ভ্যাকসিনের খরচও রয়েছে। অন্যদিকে ডিম উৎপাদনের গড় খরচ এখন প্রায় ১০–১২ টাকার মধ্যে হলেও অনেক ক্ষেত্রে খামারিদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা প্রায়ই উৎপাদন খরচের নিচে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে ছোট খামারিদের টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতের প্রধান সমস্যাগুলো কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: এই খাত এখনো অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। ডলারের দাম বাড়ায় ভুট্টা, সয়াবিনসহ খাদ্য উপাদান আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বাজারে মাঝে মাঝে কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব বিপণনব্যবস্থা থাকায় তারা সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারে, কিন্তু ছোট খামারিরা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারেন না। এটিই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরের কাগজ: দেশের অর্থনীতিতে পোলট্রিশিল্পের ভূমিকা কীভাবে দেখেন?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: ঈদুল আজহার আগে-পরে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ডিম ও মুরগির চাহিদা কিছুটা কম থাকে, তবে বাকি সময়ে বাজার স্থিতিশীল থাকে। পোলট্রি খাত সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় মুরগির মাংস অনেক সস্তা, ফলে সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামাঞ্চলে পোলট্রি খামার স্থাপন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

খবরের কাগজ: এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণে সরকারের কার্যকর নজরদারি থাকা জরুরি। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি গ্রহণযোগ্য মূল্যসীমা নির্ধারণ করা গেলে বাজারে অস্থিরতা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী এককভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। এতে ছোট খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন এবং ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাবেন।

খবরের কাগজ: অনেকেই বলেন, বায়োসিকিউরিটি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে খামারিরা লোকসানে পড়েন–এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: বিদেশি জাতের মুরগি তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল। তাই খামার শুরু করার আগে এ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা অর্জনের পর খামার পরিচালনা করলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বড় কোম্পানি, সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তর এবং খামারিদের সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে পুরো খাতই উপকৃত হবে।

খবরের কাগজ: মুরগির খাদ্যের আমদানি-নির্ভরতা কমাতে কী করা যেতে পারে?
ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির: মুরগির খাদ্যের প্রধান উপাদান ভুট্টা। দেশে ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ এর উৎপাদন খরচ আমদানির তুলনায় কম। তবে বাজার নিশ্চয়তা দিলে আরও বেশি কৃষক এই খাতে আসবেন। এতে করে আমদানি-নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সাক্ষাৎকারে সুমন হাওলাদার সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১ এএম
সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার

ঈদ, আশুরা, রমজান মাসসহ বিভিন্ন ইভেন্টকে লক্ষ্য রেখে কোম্পানিগুলো রুটিন করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজ চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম।

খবরের কাগজ: পোলট্রি খাতে খামারিদের অবস্থা কী?
সুমন হাওলাদার: এককথায় বলতে গেলে ভালো নেই। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন এই খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অন্য কর্মে চলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের ২০০৭ সালে খামারির সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫ হাজার। ২০১২ সালে তা কমে হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার। বর্তমানে ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার খামারি কোনোভাবে টিকে আছেন। 

খবরের কাগজ: কারণ কী?
সুমন হাওলাদার: খামারিরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও যখন কোনো লাভ পাচ্ছেন না, তাই তারা অন্য খাতে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের একসময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে যখন সাধারণ মানুষ আর মুরগি কিনে খেতে পারবেন না। গরু-ছাগলের মাংসের মতো মুরগির মাংসও নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ২০২৩ সালে একবার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। তখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা হয়েছিল ব্রয়লার মুরগির দাম। এখন যেভাবে চলছে সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তাহলে সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে দেরি নেই।

খবরের কাগজ: এই সংকট কীভাবে তৈরি হচ্ছে?
সুমন হাওলাদার: কোম্পানিগুলো ঈদ, রমজান মাস, শবেবরাত, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসব এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রুটিন তৈরি করে মুরগির বাচ্চার দাম বাড়ায়। এবারের ঈদে ভোক্তারা যে মুরগি কেজি ২০০ টাকার বেশি দামে কিনে খেয়েছেন সেই বাচ্চা দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিদের কিনতে হয়েছে প্রতিটি ৮৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। কোম্পানিগুলো লাভ আগে নিয়ে নেয়। যখন চাহিদা বাড়বে তার আগেই তারা বাচ্চার দাম বাড়িয়ে ফেলে। 

খবরের কাগজ: এই খাতের ওপর কোম্পানিগুলোর এত শক্ত নিয়ন্ত্রণ কীভাবে প্রতিষ্ঠা পেল?
সুমন হাওলাদার: যারা বাচ্চা উৎপাদন করে তারাই ফিড উৎপাদন করে। এ ছাড়া ওষুধ, ভ্যাকসিন সবকিছুই তারা করে। তারা চুক্তিভিত্তিক ফার্ম করে। বাজার নিয়ন্ত্রণও তারা করে। 

খবরের কাগজ: পোলট্রি শিল্পের নীতিমালা নেই? 
সুমন হাওলাদার: নীতিমালা হয়েছে। তবে তা দুর্বল নীতিমালা। সরকারের আমলারা করপোরেট গ্রুপের কাছ থেকে সুবিধা নেয়। করপোরেট গ্রুপের হাতে পুরো খাতটা তুলে দিচ্ছে। এতে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। দেশের অর্ধকোটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে বেকার করে দিচ্ছে। 

খবরের কাগজ: কোম্পানিগুলোর অভিযোগ হলো অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে বাচ্চা বিক্রি করতে হয়।
সুমন হাওলাদার: এটা তাদের লোকদেখানো বক্তব্য। যেকোনো ব্যবসার নিয়ম হলো যখন চাহিদা বাড়ে কিংবা বিক্রি বাড়ে, তখন কম লাভে পণ্য বিক্রি করা। কিন্তু পোলট্রি খাতে তার উল্টো চিত্র। বিক্রি বাড়লে তারা দুই থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি করে। খামারিরা যখন লোকসানে পড়ে খামার বন্ধ করে দেন, তখন তারা কম দামে বাচ্চা বিক্রি করেন। ১০ থেকে ১২টা কোম্পানি সিন্ডিকেট করে এই জটিলতা তৈরি করেছে। দেশে প্রতি সপ্তাহে বাচ্চার চাহিদা প্রায় ২ কোটি। বাচ্চার সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। 

খবরের কাগজ: অভিযোগ আছে, বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে না পারার কারণে অনেক সময় মুরগি মারা যায়।
সুমন হাওলাদার: এই রোগের জন্যও কোম্পানিগুলো দায়ী। তারা কম দামে প্যারেন্ট স্টক কেনার জন্য বার্ড ফ্লু হয়েছে এমন দেশ থেকে বাচ্চা কিনে আনে। তাহলে খামারে রোগ তো আসবেই। তারা শুধু নিজেদের লাভের জন্য সেই কাজটি কেন করে।

সাক্ষাৎকারে নাছির উদ্দিন ১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ এএম
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ এএম
১৫ দিন অন্তর মুরগির বাচ্চা ও মুরগির দাম নির্ধারণ করা উচিত
প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন

একজন ক্ষুদ্র খামারি তার সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না। ভালোভাবে চলতে পারেন না। সরকারের উচিত অন্তত ১৫ দিন অন্তর মুরগি এবং মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া। তাহলে কেউ রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন, ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খবরের কাগজের চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম। 

খবরের কাগজ: খামার করতে এসে অনেকেই টিকতে পারছেন না কেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: খামার করতে এসে টিকতে না পারার উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে উৎপাদন করতে না পারা। খামার ব্যবস্থাপনায় অজ্ঞতা, সঠিক পরিচর্যার অভাব। খামার রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ। এখানে বাজারজাত করার একটি ব্যাপারও রয়েছে। বাজারে মূল্য পেতে হলে সঠিক সময়ে বিক্রি করতে হবে।

খবরের কাগজ: খাবারের দাম বেশি, বাচ্চার দাম বেশি কীভাবে সামাল দিচ্ছেন? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বর্তমানে মুরগির পাইকারি দাম কেজি ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। তবে খাবারের দাম আর একটু কম থাকলে ভালো হতো। পর্যাপ্ত খাবার, টিকা ওষুধ দিয়ে উৎপাদনের দেখা গেল বাজারে মূল্য কম। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে ১৫ দিন অন্তর বাচ্চা এবং মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিতে তাহলে সবাই উপকৃত হতো। 

খবরের কাগজ: সরকার আর কী করলে খামারিদের উপকার হবে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বেসরকারিভাবে খামার তৈরি হচ্ছে। খামারিরা কীভাবে উৎপাদন করছে, সেটিও দেখাশোনার কেউ নেই। এতে মাঝারি ও ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে যান। খামার টিকিয়ে রাখতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বাচ্চা ক্রয় থেকে লালনপালন ও বিক্রি সব ক্ষেত্রে যদি সরকারি নজরদারি রাখে তাহলে সবার জন্য মঙ্গল। কেউ রাতারাতি যা খুশি তা করতে পারবে না। 

খবরের কাগজ: রোগবালাই নিরসনের ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: আমার খামারে যেকোনো রোগবালাই নিজেই চিকিৎসা করি। একজন খামারি হিসেবে খামার সম্পর্কে রোগবালাই সম্পর্কে জ্ঞান রাখা খুবই দরকার। খামারে সমস্যা দেখা গেলে কেন সৃষ্টি হচ্ছে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। এই যে সমস্যা নির্ণয় করা, সেটি একজন খামারি ছাড়া বেশি কেউ বুঝবে না। তাই বলছি, খামারিকে ট্রেনিং নিতে হবে। রোগ বালাইয়ের লক্ষণ বুঝতে হবে। 

খবরের কাগজ: যারা নতুন খামার করতে আসছে তাদের উদ্দেশে কিছু বলেন। 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং নেওয়ার ব্যবস্থা আছে। খামার করতে হলে আধুনিকভাবে করতে হবে। অর্থাৎ কাজ জেনে খামারে নামতে হবে। কিছু জানাশোনা থাকলে বাকি কাজটা করতে গিয়ে শিখতে পারবে। 

খবরের কাগজ: একসময় অনেক খামার ছিল, এখন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে কেন?
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: এই ব্যবসাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না। এখানে ঝুঁকি বেশি। অনেকে না বুঝে এসে আটকে যান। সামনেও যেতে পারেন না, পেছনেও যেতে পারেন না। অনেকে ৬ মাস এক বছর খামার করে বন্ধ করে দেন। লাভ করতে না পেরে অনেকেই অন্য ব্যবসায় চলে যান। খামার ব্যবসায় মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি উন্নতি করেন, খামারিরা করতে পারেন না। 

খবরের কাগজ: আপনিতে নিজেই অনেক অভিজ্ঞ, আপনার কতটুকু উন্নতি হয়েছে? 
মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন: ঠিক বলেছেন, সেভাবে উন্নতি করতে পারিনি। বিগত ১০ বছর ধরে এ ব্যবসায় রয়েছি। একজন খামারি তার ছেলেমেয়েকে ভালো স্কুলে পড়াতে পারেন না, ভালো কিছু খেতে পারেন না। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছেন। আমরা লাভ করতে পারি না।

সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবদুর রহিম যুদ্ধের প্রভাবে কমেছে সিমেন্ট বিক্রি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
যুদ্ধের প্রভাবে কমেছে সিমেন্ট বিক্রি
ডায়মন্ড সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মোহাম্মদ আবদুর রহিম

সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও কমে গেছে। কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের অন্যতম বাজার হলো মধ্যপ্রাচ্য। আর যুদ্ধের প্রভাবে সেখানে কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। অপর দিকে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। খবরের কাগজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ডায়মন্ড সিমেন্টের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মোহাম্মদ আবদুর রহিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান ইফতেখারুল ইসলাম। 

খবরের কাগজ: কবে থেকে সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি শুরু।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হয় এর কয়েক দিন পর থেকেই মূলত সিমেন্টের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। 

খবরের কাগজ: যুদ্ধের সঙ্গে সিমেন্টের সম্পর্ক কোথায়?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের সপ্তাহ থেকে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম প্রতিটনে ১০ থেকে ১৫ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। প্রতিটন মানে ২০ ব্যাগ। অধিকাংশ কাঁচামাল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। সৌদি আরবের জেবল আলী বন্দর থেকে এসব কাঁচামাল মূলত জাহাজীকরণ করা হয়। যে কারণে কাঁচামালের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও কিছু সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

খবরের কাগজ: মধ্যপ্রাচ্য থেকে সিমেন্টের কোন কোন কাঁচামাল আনা হয়?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: লাইমস্টোন, জিপসাম, ক্লিংকারসহ প্রায় সব ধরনের কাঁচামাল আমদানি করা হয়।

খবরের কাগজ: স্থানীয় সংকট কীভাবে সৃষ্টি হলো?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: দেশে জ্বালানিসংকটের কারণে গাড়ির ভাড়া বেড়ে গেছে। সিমেন্ট হচ্ছে ভারী পণ্য। এই পণ্যটি পরিবহন করতে হয় সতর্কভাবে। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান কিংবা জলযানে জ্বালানি তেল পেতে কষ্ট হচ্ছে। দূর-দূরান্তে সিমেন্ট পাঠানোর সময় গাড়িচালকরা তাদের গাড়ি কয়েক জায়গায় দাঁড়িয়ে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। যে কারণে তারা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন। আমরাও দিতে বাধ্য হচ্ছি। এই বাড়তি ভাড়া সিমেন্টের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।  

খবরের কাগজ: সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বলছে সংকটও নেই।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি ঠিক। কিন্তু নানা কারণে সংকট দূর করতে পারেনি। এখানে সরকারের আন্তরিকতা থাকলেও জ্বালানি তেলের যে সংকট চলছে তা দূর করতে রাষ্ট্রের যেসব যন্ত্র ভূমিকা রাখার কথা তারা যথাযথভাবে রাখতে পারেনি।  

খবরের কাগজ: সিমেন্টের দাম কী হারে বেড়েছে?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: প্রতি ব্যাগে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আমাদের উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, তা সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি। বাস্তবতা হলো যতটুকু খরচ বেড়েছে ততটুকু বাড়ানো যায়নি। 

খবরের কাগজ: যুদ্ধের আগে যেসব পণ্যের লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা হয়েছে সেসব পণ্য এখনো দেশে পৌঁছায়নি।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: না আসেনি। কাঁচামাল রপ্তানিকারী দেশগুলোতে কাঁচামাল উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তাদের ক্লিংকারের কারখানা আছে, যা অতি উচ্চমাত্রায় সেদ্ধ করতে হয়। তাদেরও জ্বালানিসংকট এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে। তাই তারা আগের দামে পণ্য রপ্তানি করতে রাজি হচ্ছে না। বাড়তি দাম যোগ করলে পণ্য পাঠাবে। নতুবা পাঠাবে না। এই কথা আমাদের জানিয়ে দিয়েছে।

খবরের কাগজ: দামের কারণে সিমেন্টের বাজারে কোনো প্রভাব পড়েছে?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম:  অবশ্যই পড়েছে। তবে শুধু দামের কারণে প্রভাব পড়েছে এ কথা সত্য নয়। যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশ ভালোভাবেই পড়েছে। যুদ্ধের কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিক বাসায় বসে কোনো রকমের দিন কাটাচ্ছেন। প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈধ এবং অবৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর। মূলত নির্মাণশিল্প পণ্যের বড় গ্রাহক প্রবাসীরা। তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠান। দেশে নিজের বাড়ি করেন। এমনকি তারা দান দক্ষিণাও বেশি করেন। দেশের মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণের ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা যেখানে নিজে খেয়েপরে বেঁচে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। সেখানে নিজের বাড়িতে টাকা পাঠানো তাদের জন্য কঠিন। আর মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের হাতে টাকা থাকলে তা তারা নিজের কাছে জমা রাখেন না, দেশে পাঠিয়ে দেন। 

খবরের কাগজ: বাজারে কী পরিমাণ চাহিদা কমেছে?
মোহাম্মদ আবদুর রহিম: গত মার্চ মাসে দেশে সিমেন্ট বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৪ লাখ টন। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে তার চেয়ে ১৫ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে।

সাক্ষাৎকারে মো. রেজানুর রহমান তেলসংকট নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
তেলসংকট নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হয়েছে। প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তথা সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে জ্বালানিসংকট মোকাবিলার। এসব বিষয়ে খবরের কাগজ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কারওয়ান বাজারে বিপিসি কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম

খবরের কাগজ: সারা দেশে ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন? 
মো. রেজানুর রহমান: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। তাই গতানুগতিক বাজারের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানির উৎস খোঁজা হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে কেউ আতঙ্কিত না হন। তেলের কোনো ঘাটতি নেই, সমস্যাও নেই। ঘাটতি থাকলে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনে তেল দিতে পারতাম না। কিন্তু অনেকেই ঘুরেফিরে তেল নিতে ভিড় করছেন ফিলিং স্টেশনে। এ জন্য চাহিদা বেড়ে গেছে। আমরা চাই ভোক্তারা যাতে হুমড়ি খেয়ে না পড়েন। এক দিনের জন্যও আমরা ডিপো বন্ধ রাখি না। 

খবরের কাগজ: বর্তমানে ফিলিং স্টেশনে কী পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে?
মো. রেজানুর রহমান: আগে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার ডিপো খোলা রাখা হলেও গ্রাহকের কথা বিবেচনা করে বর্তমানে শুক্র-শনিবারও ডিপো খোলা রাখা হয়েছে। এমনকি ডিপো থেকে তেল দেওয়ার সময়ও আগের তুলনায় এগিয়ে আনা হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে দেশজুড়ে ১৯টি ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ করা হয়। এভাবে তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। 

খবরের কাগজ: তার পরও সারা দেশে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না কেন? 
মো. রেজানুর রহমান: আমরা গত বছরের মার্চ মাসে যে জ্বালানি তেল বিক্রি করেছি, এই মার্চে তার চেয়েও বেশি জ্বালানি তেল দিয়েছি। গত বছরের মার্চে ডিজেল বিক্রি করা হয় ১২ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন বা ১ কোটি ৫১ লাখ ৬ হাজার ৯১০ লিটার। এই বছরের মার্চে তার চেয়েও বেশি ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। অকটেন ও পেট্রলও গত বছরের মার্চের তুলনায় বেশি বিক্রি করা হয়। তাই বলা যায়, সরবরাহের দিক থেকে ঘাটতি নেই। কিন্তু কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বারবার তেল নিচ্ছেন। এ জন্য চাপ পড়েছে ফিলিং স্টেশনে। তাড়াতাড়ি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই কিনে মজুত করে রাখছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তা ধরা পড়ছে। 

খবরের কাগজ: মজুতদারি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
মো. রেজানুর রহমান: তেলের কোনো সংকট নেই। তার পরও অনেকে মজুত করছেন। তাই জ্বালানি মজুতদারির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পেট্রলপাম্পগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক তদারকি বাড়াতে দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিদিন ডিপো থেকে যা সরবরাহ করা হচ্ছে, ফিলিং স্টেশন সেটা বিক্রি করছে কি না তা দেখা হচ্ছে। 

খবরের কাগজ: ফিলিং স্টেশনে লাইন কমছে না কেন? 
মো. রেজানুর রহমান: দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির ৬৩ শতাংশই ডিজেল। অকটেন ও পেট্রলের ব্যবহার অনেক কম হয়। অথচ পাম্পে অকটেনের জন্যই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ফলে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের চিত্র প্রকৃত সংকট নয়। বরং অতিরিক্ত মজুতপ্রবণতার প্রতিফলন। সংকট বলে কিছু নেই। পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। 

খবরের কাগজ: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণেই এই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে। তা চলমান থাকলে আপনারা কীভাবে জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন? 
মো. রেজানুর রহমান: যুদ্ধ কখন শেষ হবে আমরা তা জানি না। তাই জ্বালানির সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিচ্ছি। সরকার এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করায় রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানি করতে ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে শিগগিরই ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে। এ বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আশা করি, সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

খবরের কাগজ: ফিলিং স্টেশন থেকে বারবার তেল নেওয়া ঠেকাতে কি কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন? 
মো. রেজানুর রহমান: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল-ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। এটি এমন একটি ডিজিটাল-ব্যবস্থা হবে, যা সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে, যেন সবাই পর্যাপ্ত জ্বালানি পান, মজুতদারি বন্ধ হয়। বিশেষ করে কৃষকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে তারা অনায়াসেই তেল কিনতে পারবেন। তবে প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন। এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। 

খবরের কাগজ: সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য খবরের কাগজের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
মো. রেজানুর রহমান: খবরের কাগজকেও ধন্যবাদ।