ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলের শুরুর একাদশে চমক অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের রুখে দিয়ে কাতারের বাজিমাত ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হারেনি ব্রাজিল নেইমারকে ছাড়াই নামছে ব্রাজিল, ভাঙছে ৪০ বছরের ঐতিহ্য পেনাল্টিতে এমবোলোর গোল, এগিয়ে সুইজারল্যান্ড ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

আল-ইসলাম ব্রাদার্সের হজ সামগ্রীতে ২০ শতাংশ মূল্যছাড়, আছে আরও অনেক অফার

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৩২ পিএম
আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৩৭ পিএম
আল-ইসলাম ব্রাদার্সের হজ সামগ্রীতে ২০ শতাংশ মূল্যছাড়, আছে আরও অনেক অফার
ছবি: সংগৃহীত

এবার যারা হজে যাবেন, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় হজসামগ্রী এনেছে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের আল-ইসলাম ব্রাদার্স। এসব সামগ্রী ২০ শতাংশ ছাড়ে কেনা যাবে। এ ছাড়া তাদের ৪০ আইটেমের ভিআইপি প্যাকেজ কিনলে উপহার পাওয়া যাবে বিদেশি ল্যাগেজ। অন্য প্যাকেজের সঙ্গে থাকছে বিশেষ গিফট বক্স।

প্যাকেজ ওয়ান (২৫ আইটেম) ৬ হাজার ৫০০; প্যাকেজ টু (৩০ আইটেম) ৯ হাজার ৫০০; প্যাকেজ থ্রি (৪০ আইটেম) ১৬ হাজার ৫০০ এবং ভিআইপি প্যাকেজ (৪০ আইটেম) ২১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাজী মো. মহিব উল্ল্যাহ রাজু খান বলেন, '৪০ আইটেমের ভিআইপি ও প্যাকেজ থ্রি আমরা মোট ২০০টি তৈরি করেছি। আমরা এগুলো পাইকারি বিক্রি করব না। এগুলো আল্লাহর মেহমান হাজীদের জন্য আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে বিশেষ অফার থাকবে। প্যাকেজগুলোর দাম যথাক্রমে ৩৮ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু আমরা অফারে দিচ্ছি ২১ হাজার ৫০০ ও ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। হাজীরা তাদের ভিসার ফটোকপি দেখিয়ে প্যাকেজগুলো সংগ্রহ করতে পারবেন।

এখানে ইন্দোনেশিয়া ও দেশীও এহরাম বাঁধার টাওয়াল ও কাপড় সেট ৮০০ থেকে ৮ হাজার ৫০০, তুর্কি স্পেশাল টাওয়াল ও কাপড় সেট ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০, এহরাম বাঁধার বেল্ট ১০০ থেকে ১ হাজার, মহিলা এহরাম সেট ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০, মহিলাদের চুল বাঁধার টুপি ৫০ থেকে ১৫০, হাত মোজা ও পা মোজা ৫০ থেকে ২০০, মিনাব্যাগ ৬০ থেকে ৪৫০, পাসপোর্ট ব্যাগ ৫০ থেকে ১৬০, জুতা রাখার ব্যাগ ২০ থেকে ৫০, পাথর রাখার ব্যাগ ২০ থেকে ৫০, প্লাস্টিক জায়নামাজ ১৫০ থেকে ৩৫০, কাটার বক্স ২০০ থেকে ৫০০, হজ ও ওমরাহ গাইড ২৫০, সৌদি আরবের ভ্রমণ বই ৯৬, মিনার দোয়ার বই ১৫০ থেকে ২৫০, কাঁধের ব্যাগ ৫০ থেকে ৩৫০, হিজাব ১৫০ থেকে ৭০০, খিমার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০, হাওয়ার বালিশ ২৫০ থেকে ১ হাজার, বোডিং হোল্ডার ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০, সানক্যাপ ১০০ থেকে ২০০, পায়ের তাবেয়া ২০০, থেকে ১ হাজার ২০০, চামড়ার মোজা ৪০০ থেকে ১ হাজার, তায়াম্মুমের মাটি ৫০ থেকে ১০০, মিসওয়াক ৩০ থেকে ২৫০, সালোয়ার ৩৫০ থেকে ১২৫০, ছাতা ৩৫০ থেকে ৬০০, ছোট কোরআন ৩০০ থেকে ৪৫০, টাকা। 

এ ছাড়া আছে পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, গামছা, টাওয়াল, জুতা, টুপি, তসবি, আতর, বোরকা, গন্ধবিহীন সাবান, শ্যাম্পু, ভ্যাসলিন, সুই, সুতা, কাপড় শুকানো রসি, গ্লাস, কাটার, ছুরি, ছোট আয়না, চিরুনি, সুরমাসহ হজের যাবতীয় সামগ্রী। কেনা যাবে পাইকারি ও খুচরা। 

যোগাযোগ: ০১৮২৩৮৮০১৫৮। শোরুম : ১নং দোকান, ১ নম্বর উত্তর গেট (কোথাও শাখা নেই), বায়তুল মোকাররম, ঢাকা।

/রিয়াজ

ফ্যাশনে বিশ্বকাপ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
ফ্যাশনে বিশ্বকাপ
ছবি: খবরের কাগজ

ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উন্মাদনা। মাঠের খেলা যেমন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি সমানভাবে আলোচনায় থাকে প্রিয় দলের জার্সি। জার্সি এখন আর শুধু খেলোয়াড়দের ইউনিফর্ম নয়; এটি ফ্যাশন, পরিচয় এবং আবেগের শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
 
স্ট্রিট ফ্যাশনে জার্সির জনপ্রিয়তা
এক সময় ফুটবল জার্সি শুধু মাঠ, স্টেডিয়াম বা টেলিভিশনের সামনে পরার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে জার্সি এখন আধুনিক স্ট্রিট ফ্যাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্ম জার্সিকে আর শুধু খেলার পোশাক হিসেবে দেখে না, তারা এটিকে নিজেদের লাইফস্টাইল ও ফ্যাশনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

আজকাল শহরের রাস্তায়, ক্যাম্পাসে, ক্যাফেতে বা শপিং মলে সহজেই দেখা যায় জার্সি পরা তরুণ-তরুণীদের। জিন্স, কার্গো প্যান্ট, শর্টস কিংবা স্কার্টের সঙ্গে জার্সি পরা এখন একটি স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় স্টাইল স্টেটমেন্টে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ওভারসাইজড জার্সির ট্রেন্ড তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা একদিকে যেমন আরামদায়ক, অন্যদিকে তেমনি স্টাইলিশ লুকও দেয়।

স্নিকার্সের সঙ্গে জার্সি মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরা এখন একটি কমন ফ্যাশন স্টাইল। অনেকেই লেয়ারিং ফ্যাশন অনুসরণ করেন যেখানে জার্সির নিচে লং স্লিভ বা টার্টল নেক পরা হয়, যা একটি ইউনিক আরবান লুক তৈরি করে। 

নারীদের জার্সি স্টাইলিং ট্রেন্ড
নারীদের ফ্যাশন দুনিয়ায় ফুটবল জার্সি এখন একটি দ্রুত বর্ধনশীল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। আগে যেখানে জার্সি মূলত পুরুষদের খেলার পোশাক হিসেবে দেখা হতো, এখন তা ভেঙে গিয়ে একটি জেন্ডার নিউট্রাল ফ্যাশন আইটেমে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণীরা জার্সিকে নিজেদের ব্যক্তিগত স্টাইলের সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ড হলো ওভারসাইজড জার্সি স্টাইল। অনেকেই লুজ ফিট জার্সি স্কার্ট বা শর্ট ড্রেসের মতো করে পরছেন, যা একদিকে আরামদায়ক, অন্যদিকে স্টাইলিশও দেখায়। এর সঙ্গে স্নিকার্স বা বুট জুতা মিক্স করে একটি আধুনিক আরবান লুক তৈরি করা হচ্ছে।

ডেনিম শর্টস বা স্কিনি জিন্সের সঙ্গে জার্সি পরাও নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এতে ক্যাজুয়াল ও ট্রেন্ডি একটি লুক পাওয়া যায়, যা ক্যাম্পাস, আউটিং বা ম্যাচ ডে আড্ডার জন্য পারফেক্ট। অনেকেই আবার লেয়ারিং স্টাইল বেছে নিচ্ছেন। জার্সির নিচে লং স্লিভ টপ বা টার্টল নেক পরে ইউনিক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করছেন।

এছাড়া জার্সিকে বেল্ট দিয়ে স্টাইল করে ড্রেসের মতো করে পরার ট্রেন্ডও এখন বেশ চোখে পড়ছে। এতে জার্সি শুধু স্পোর্টসওয়্যার না থেকে একটি ফ্যাশনেবল আউটফিটে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বকাপের সময় এই স্টাইলিং ট্রেন্ড আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ তখন ফ্যানডম এবং ফ্যাশন একসঙ্গে মিলেমিশে যায়।

ডিজাইন ও প্রযুক্তির নতুনত্ব
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডগুলো জার্সি ডিজাইনে নিয়ে আসে নতুনত্ব। আধুনিক ফ্যাব্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে জার্সি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি হালকা ও আরামদায়ক। অনেক জার্সিতে আর্দ্রতা শোষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা গরম আবহাওয়ায়ও আরাম দেয়। পাশাপাশি রেট্রো ডিজাইন আবার নতুন করে ফিরে আসছে, যা পুরোনো স্মৃতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনে।

পার্সোনালাইজড জার্সির জনপ্রিয়তা
বর্তমানে অনেক সমর্থক নিজের নাম বা প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর দিয়ে জার্সি কাস্টমাইজ করে নেন। এটি একটি ব্যক্তিগত পরিচয় তৈরি করে। কেউ মেসির নাম লিখে পরছেন, কেউ রোনালদোর, আবার কেউ নিজের নাম দিয়ে ইউনিক স্টাইল তৈরি করছেন। এই পার্সোনালাইজেশন জার্সিকে আরও বিশেষ ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।

ফ্যানডম ও সামাজিক সংযোগ
একই দলের জার্সি পরা মানুষদের মধ্যে সহজেই একটি বন্ধন তৈরি হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাফে, রাস্তা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিস–সব জায়গায় একই দলের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়। জার্সি তখন শুধু পোশাক নয়, বরং সামাজিক পরিচয়ের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে জার্সির প্রভাব
ফুটবল জার্সি এখন হাই-ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও জায়গা করে নিয়েছে। বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড স্পোর্টসওয়্যারকে স্ট্রিটওয়্যার এবং প্রিমিয়াম ফ্যাশনের সঙ্গে মিশিয়ে নতুন কালেকশন তৈরি করছে। ফলে জার্সি এখন শুধু খেলার মাঠে নয়, র্যাম্প শো এবং গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ডেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।

নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা
মডেল: ত্রয়ী, ছবি: রায়হান

ঢাকা মহানগরীর উত্তাল জনারণ্যের বুকে একমাত্র সবুজ আশ্রয় রমনা উদ্যান। এই নগরের বাসিন্দাদের জন্য এই সবুজারণ্য পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এক অনিবার্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এর শ্যামল গাছপালা, জলাশয় দূষণের গরল শুষে নিয়ে জীববৈচিত্র্যের স্পন্দন অটুট রাখে, এই যান্ত্রিক নগরের তাপপ্রবাহ প্রশমিত করে। পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি এই সবুজ উদ্যান মহানগরীর অবিরাম কোলাহল থেকে নান্দনিক এক মুক্তির আশ্রয়। 

এখানে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে এক শান্ত, শোভন, হৃদয়গ্রাহী সেতু রচিত হয়ে আছে। আর এভাবেই এটা ঢাকার এক অপরিহার্য পরিবেশ ও সুস্থ মনন বিনির্মাণের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। ঘনবসতির এই নগরে উদ্যানটি একটি অমূল্য সবুজ পরিসর হিসেবে প্রকৃতি ও মানবজীবন উভয়কেই আপন বুকে ধারণ করে আছে। কংক্রিটের নিষ্ঠুর আলিঙ্গনে ও যানজটের দহনে যে শহর প্রতিনিয়ত শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসছে, রমনা উদ্যান সেখানে প্রকৃতির এক সুশীতল নিশ্বাস, প্রশমিত করে নাগরিক উষ্ণতা। এই উদ্যান পাখি, কীটপতঙ্গ, মৎস্য ও নগরের ক্ষুদ্র বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসভূমি। 

এর জলাধার ও সবুজ প্রান্তর মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখে, ধূলিকণার দাপট দমন করে, ভূমিক্ষয়ের হাত থেকে মাটিকে আগলে রাখে। এছাড়া রমনা উদ্যান একটি পরিবেশ ও সামাজিক পরিসরও বটে। মানুষ এখানে হাঁটে, ব্যায়াম করে, মনকে আলগা করে আর প্রকৃতির সঙ্গে এক অমোঘ শাশ্বত বন্ধনের অন্বেষণ করে; যা মানসিক সুস্থতার পুনর্নির্মাণ এবং নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ চেতনার বীজ বপন করতে সাহায্য করে। 

রমনা উদ্যান কেবল পরিবেশগত তাৎপর্যে নয়, আবেগ ও নান্দনিকতার গভীরেও অসাধারণ অর্থময়। এর বৃক্ষছায়া, জলাধারের প্রশান্তি, পাখির গান, ভোরের কোমল আলো এবং ঋতুর পালাবদল মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে এক প্রাণময় বন্ধন গড়ে তোলে। বলা চলে, দূষণক্লিষ্ট ঢাকার বুকে রমনা উদ্যান এই শহরের অবশিষ্ট সবুজ আত্মার মতো নিশ্বাস নিয়ে নিভু-নিভু প্রদীপের মতো জ্বলে আছে।

পরিবেশ-পাঠ

প্রকৃতির কোলে বসে যেকোনো পাঠ আমাদের পরিবেশ-চেতনাকে নতুন গভীরতা দেয়। এই পঠনে যুক্ত হয় এমন রচনা সব সাহিত্য, প্রবন্ধ কিংবা বৈজ্ঞানিক ভাষ্য যা মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার অচ্ছেদ্য সম্পর্ককে উন্মোচন করে। পরিবেশ-পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা পরিচিত হই পশুপ্রাণীর ভাষিক সংশ্রব, পল্লিপ্রকৃতির রূপকথা, জলবায়ুর ভাষা এবং পরিবেশ-সংকটের অন্তর্বেদনার সঙ্গে। পরিবেশ-পাঠ কেবল শব্দের অর্থ উদ্ধারের যাত্রায় নিয়োজিত করে না বরং, চারপাশের পৃথিবীকে রক্তে-মজ্জায় অনুভব করাও এর অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। 

একটি গাছের, একটি নদীর কিংবা পরিবর্তনশীল ঋতুর সহজ-সরল বর্ণনাও টেকসই জীবন ও দায়িত্বশীলতার গভীর জিজ্ঞাসা জাগিয়ে তুলতে পারে। 

পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে কীভাবে মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড প্রকৃতির গায়ে কী ভয়াল ক্ষত রেখে যাচ্ছে। পরিবেশ-বিপর্যয় যেখানে অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে, সেই আধুনিক পৃথিবীতে পরিবেশ-পাঠ একটি নীরব কিন্তু দৃঢ় প্রতিরোধের ভাষা। 

এটি জানান দেয়, আমরা একা নই, প্রকৃতির জীবন্ত সত্তা আমাদের অস্তিত্বের ভেতরেই নিশ্বাস নিচ্ছে। এই পাঠ নিঃস্বার্থ জীবনযাপনের দিকে মানুষকে টানে এবং এই পৃথিবীর প্রতি সহানুভূতির গভীর শিকড় তৈরি করে। 

পরিবেশ-নন্দন পদচারণ

প্রকৃতির কোলে সচেতন পদচারণে বেরিয়ে পড়া, পরিবেশকে দুচোখ ভরে দেখা, বোঝা ও অনুভব করা, এটাই পরিবেশ-নান্দনিকতার মূল সাধনা। সাধারণ হাঁটার বিপরীতে এই চর্চা গাছপালা, মাটি, জল, পাখি এবং নিত্য উপেক্ষিত ক্ষুদ্রতম প্রাণের দিকে মানুষের দৃষ্টি ও চেতনা ফিরিয়ে দেয়। 

এই পরিবেশ-হাঁটা মানুষকে মন্থর করে, সে থামে, শোনে। গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া নয়, যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে অনুভব করাই এখানে সাধ্য। পাতার মর্মর, মাটির স্পর্শ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের স্পন্দন প্রকৃতির সঙ্গে এক নিঃশব্দ সংলাপের হারানো জগৎ উন্মোচন করে। 

এই হাঁটা মানুষকে শেখায় বাস্তুতন্ত্র কীভাবে বাঁচে এবং কেন তার বেঁচে থাকা জরুরি। এটা একাধারে উদঘাটন ও জ্ঞানের পথ। এভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ পরিণত হয় প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক বিনম্র অথচ গভীর অঙ্গীকারে। ঢাকার মতো বিশৃঙ্খল নগরে পরিবেশ-হাঁটা প্রশান্তি ও প্রকৃতির সঙ্গে পুনর্মিলনের এক দুর্লভ অবকাশ এনে দেয়। 

আমাদের বিস্মৃত সত্যকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নই, আমরা তারই রক্ত-মাংসেরই অংশ।

পরিবেশ রক্ষা করে ফুল তোলা

ফুল মানুষের আজন্ম প্রেম। ফুল না তোলার কথা আমরা যতই সরবে বলি না কেন, ফুল ছেঁড়া ও সংগ্রহ করা এবং তা বুকে আঁকড়ে রাখা মানুষের আদিমতম স্বভাবের একটি। 

কিন্তু পরিবেশ সংরক্ষিত রেখে ফুল তোলা হলো সেই প্রেমেরই সচেতন, দায়িত্বশীল রূপ; যা প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে ফুলের সৌন্দর্যকে স্পর্শ করে। অসতর্ক ফুল তোলার বিপরীতে এই চর্চা প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভারসাম্য রক্ষা এবং সংরক্ষণের বোধকে জাগ্রত রাখে। 

পরিবেশকে রক্ষা করে ফুল তুলে মানুষ যা নেয় তা উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক চক্র অব্যাহত রাখতে সহায়ক হয়। উদ্দেশ্য হলো বাস্তুতন্ত্রকে অক্ষত রেখে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে প্রাণভরে উপভোগ করা। অনেক সময় না ছিঁড়ে মাটিতে ঝরে পড়া ফুলকে কুড়িয়ে নেওয়ার এক সুকোমল চর্চা মানুষের ভেতর লক্ষ করা যায়। এতে ক্ষতির সম্ভাবনা আরও কমে আসে। 

এই চর্চা প্রকৃতির প্রতি এক গভীর স্পর্শকাতরতা ঘটায়। শেখায়, প্রকৃতি কেবল ভোগের সামগ্রী নয়, সে সহাবস্থানের সাথী ও পরম বন্ধু। সদয় ও সতর্ক হাতে একজন পরিবেশ-ফুল সংগ্রাহক লুণ্ঠনকারীর ভূমিকা ছেড়ে অংশীদারের বার্তাবাহক হয়ে ওঠে। তাই পরিবেশ-ফুল তোলা আনন্দ ও দায়িত্বকে একই সুতায় গেঁথে দেয় এবং আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সামান্য আনন্দও পৃথিবীকে এক মমতার আলোয় আরও উজ্জ্বল করে দিতে পারে।

পরিশেষে, পরিবেশ ও মানুষ পরস্পরের মধ্যে বিলীন। একটি ছাড়া অপরটির অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। প্রকৃতি কেবল মানবজীবনকে নয়, তার সংস্কৃতি, প্রতীকচেতনা, আবেগ ও কল্পনার সমগ্র জগৎকে গড়ে তোলে। এর পরিবর্তে মানুষও প্রকৃতিকে নতুনভাবে নির্মাণ করে, তাকে জীবনের আরও যোগ্য আবাসে পরিণত করে। তাই প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য স্থাপনই সুস্থ ও সুন্দর জীবনের মূল রহস্য। আর এখানেই নিহিত রয়েছে আমাদের মহানগরীর উত্তাল জনস্রোতের মাঝে রমনা উদ্যানের অপরিমেয় গুরুত্ব।

/এসএল

গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকায় শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

শিশুদের সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি পানিভীতি দূর করা এবং জীবনরক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা গড়ে তুলতে বিশেষ সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে গোল্ডেন টিউলিপ দ্য গ্র্যান্ডমার্ক ঢাকা। 

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রথম সেশন পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুরা শুধু সাঁতার শেখার সুযোগই পাবে না, বরং পানিতে আত্মবিশ্বাস অর্জন, নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা এবং জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাও অর্জন করবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন অভিজ্ঞ ও পেশাদার প্রশিক্ষকরা।

আয়োজকদের মতে, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষণ কোর্সে ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে আসন সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা পর্যাপ্ত মনোযোগ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা পেতে পারে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগাযোগ করুন +88 01777 734 797 নাম্বারে

/এমটি 

বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে

চার বছরের প্রতীক্ষা শেষে আবারও বিশ্বজুড়ে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহোৎসব। মাঠে বল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠবে কোটি ভক্তের আবেগ, উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা এবং প্রিয় দলকে ঘিরে অসংখ্য স্মৃতি। এই বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে বিশেষ ফুটবল থিমভিত্তিক ফ্যাশন কালেকশন নিয়ে এসেছে রঙ বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি করা এই বিশেষ কালেকশনে ফুটবলের আবেগ, পারিবারিক বন্ধন এবং উৎসবের আনন্দকে তুলে ধরা হয়েছে নান্দনিক নকশায়। কালেকশনে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, টপস, প্রাপ্তবয়স্কদের টি-শার্ট এবং শিশুদের টি-শার্ট। প্রতিটি পোশাকে ফুটবলের প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে সৃজনশীল ডিজাইনের মাধ্যমে।

ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, ভালোবাসা এবং একসঙ্গে উদযাপনের উপলক্ষ। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করে রঙ বাংলাদেশের এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্যামিলি ম্যাচিং আউটফিটে। বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে কিংবা পুরো পরিবারের সদস্যরা একই থিমে নিজেদের সাজিয়ে বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে পারবেন।

কালেকশনের প্রতিটি নকশায় ফুটবলের বিভিন্ন উপাদানকে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। কোথাও ফুটবলের গতিময়তা, কোথাও গ্যালারির উচ্ছ্বাস, আবার কোথাও বিশ্বকাপের চিরচেনা উত্তেজনা স্থান পেয়েছে সৃজনশীল উপস্থাপনায়। দেশীয় পোশাকের স্বাচ্ছন্দ্য, গুণগত মান ও নান্দনিকতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উৎসবের আবেগকে একসূত্রে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ সংগ্রহ।

রঙ বাংলাদেশের মতে, পোশাক শুধু পরিধানের উপকরণ নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, সংস্কৃতি এবং সময়ের গল্পও বহন করে। সেই দর্শন থেকেই বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এমন একটি কালেকশন তৈরি করা হয়েছে, যা উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে এবং স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন।

বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি উল্লাস এবং প্রতিটি প্রতীক্ষার মুহূর্তকে আরও রঙিন করে তুলতে ফুটবল থিমের এই বিশেষ কালেকশন এখন দেশের সব রঙ বাংলাদেশ আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটার জন্য ভিজিট করা যাবে। রঙ বাংলাদেশের ওয়েবসাইট (https://www.rang-bd.com?utm_source=chatgpt.com) এবং [রঙ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ 

(https://www.facebook.com/rangbangladeshlimited?utm_source=chatgpt.com)। বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৭৭৭৭৪৪৩৪৪-এ।

/এমটি  

সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
সেলফ কেয়ার রুটিন যখন থেরাপি

আধুনিক জীবনের দ্রুতগতির মধ্যে মানুষ সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি হারিয়ে ফেলে, তা হলো নিজের জন্য সময়। কাজ, পড়াশোনা, পরিবার ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ভিড়ে নিজের শরীর ও মন প্রায়ই অবহেলিত থাকে। অথচ প্রতিদিনের কিছুটা সময় শুধু নিজের জন্য রাখাই হতে পারে মানসিক চাপ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন 

স্কিনকেয়ার রুটিন: আত্ম যত্নের প্রথম ধাপ
অনেকেই মনে করেন স্কিনকেয়ার শুধু সৌন্দর্য চর্চা, কিন্তু বাস্তবে এটি সেলফ কেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুখ ধোয়া, টোনার ব্যবহার, ময়েশ্চারাইজার লাগানো কিংবা হালকা ফেস ম্যাসাজ–এই প্রতিটি ধাপই এক ধরনের রিল্যাক্সেশন তৈরি করে। দিনের শেষে এই রুটিন শরীর ও মনকে জানান দেয় যে এখন বিশ্রামের সময়। নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন মানসিক প্রশান্তি বাড়ায় এবং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। 

মানসিক প্রশান্তিতে ছোট ছোট অভ্যাস
সেলফ কেয়ারের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর ছোট ছোট অভ্যাস। হালকা মিউজিক শোনা, কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকা, জানালার পাশে চা খাওয়া বা প্রিয় বইয়ের কয়েক পাতা পড়া এই সাধারণ বিষয়গুলোই মনকে হালকা করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন ছোট বিরতি মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত করলে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।   

শরীরচর্চা: মানসিক স্বাস্থ্যের শক্ত ভিত
শরীরচর্চা শুধু শারীরিক ফিটনেসের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম শরীরে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন মাত্র ২০-৩০ মিনিট হাঁটাও মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। এটি শুধু শরীরকে সক্রিয় রাখে না, বরং মনকেও করে তোলে হালকা ও প্রাণবন্ত।

খাবার ও ঘুম: সেলফ কেয়ারের মৌলিক ভিত্তি
সেলফ কেয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম। পুষ্টিকর খাবার শরীরকে শক্তি জোগায় এবং মস্তিষ্ককে সচল রাখে। অন্যদিকে অনিয়মিত ঘুম মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। তাই সুষম খাবার গ্রহণ ও নির্দিষ্ট সময় ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা সেলফ কেয়ার রুটিনের অপরিহার্য অংশ।

নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া
মানসিক সেলফ কেয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া। অনেক সময় আমরা আবেগ চেপে রাখি বা নিজেদের ক্লান্তিকে উপেক্ষা করি, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়ায়। নিজের অনুভূতিকে বোঝা, গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনে বিরতি নেওয়া এগুলো মানসিক সুস্থতার জন্য খুব জরুরি। নিজেকে সময় দেওয়া মানে নিজের আবেগকে সম্মান করা।

পছন্দের কাজ: মনের থেরাপি
নিজের পছন্দের কাজগুলো করা সেলফ কেয়ারের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও আনন্দদায়ক অংশ। প্রতিদিনের চাপ, দায়িত্ব আর ব্যস্ততার মাঝে যখন মানুষ কিছু সময় নিজের ভালো লাগার কাজে ব্যয় করে, তখন তা এক ধরনের মানসিক পুনর্জীবনের মতো কাজ করে। গান শোনা, রান্না করা, বই পড়া, ছবি আঁকা, লেখালেখি করা কিংবা প্রিয় কোনো সিরিজ দেখা এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই মনকে ধীরে ধীরে হালকা করে দেয়।

এই সময়টুকু শুধু বিনোদন নয়, বরং মানসিক চাপ থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজের ভেতরের শান্তিকে খুঁজে পাওয়ার একটি সুযোগ। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পছন্দের কাজে মনোযোগ দিলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা মানুষকে সুখী ও ইতিবাচক অনুভূতি দেয়। ফলে ক্লান্ত মন আবার নতুনভাবে কাজ করার শক্তি পায়। এই অভ্যাসকে অনেকেই ‘ইমোশনাল রিচার্জ’ হিসেবে দেখেন, যা দৈনন্দিন জীবনের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেলফ কেয়ার: বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন
অনেকেই এখনো মনে করেন সেলফ কেয়ার মানে বাড়তি সময় বা বিলাসিতা, যা ব্যস্ত জীবনে গুরুত্ব দেওয়ার মতো বিষয় নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেলফ কেয়ার কোনো অপশন নয়, এটি একটি প্রয়োজনীয় জীবনধারা। নিজের শরীর ও মনকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন কাজ চালিয়ে গেলে তা ধীরে ধীরে মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং হতাশার জন্ম দিতে পারে।

সেলফ কেয়ার হলো নিজেকে সচেতনভাবে গুরুত্ব দেওয়া। এটি ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্রাম নেওয়া, নিজের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা। এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে মানুষ নিজের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নিজের যত্ন নেওয়া মানে আত্মকেন্দ্রিক হওয়া নয়, বরং নিজের মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখা। একজন সুস্থ ও স্থিতিশীল মানুষই পরিবার, কাজ এবং সমাজের প্রতি ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাই সেলফ কেয়ারকে বিলাসিতা না ভেবে জীবনযাপনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।