দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিককে এবার হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেটের এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সপ্তাহের শুরুতেই যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা টিউলিপকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের দাবিতে প্রচারণারণা শুরু করেছেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে জনসংযোগ চালাচ্ছেন এবং দুর্নীতির বিবরণ নিয়ে লিফলেট বিতরণ করছেন।
এ ছাড়া সদ্য সাবেক মন্ত্রী টিউলিপের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার এই পিটিশনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জানায়, টিউলিপ যেন তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
এর আগে টিউলিপ সিদ্দিক তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে এ মাসে ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মন্ত্রীসভার উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে নিজের বিষয়ে তদন্ত করানোর জন্য আবেদন করেন।
স্যার লরি ম্যাগনাস তদন্ত শেষে উল্লেখ করেন, সিদ্দিক ‘সর্বসাধারণকে বিভ্রান্ত’ করেছেন। তিনি জানান, লন্ডনের কিংস ক্রসে একটি ফ্ল্যাট উপহার পাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা ছিল। তাকে ফ্লাটটি উপহার দেওয়া হয়নি।
এদিকে টিউলিপের বিরুদ্ধ ক্যামডেনের সিনিয়র কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ডাগলাস বলেছেন, তিনি ‘যতটা ভালো মেয়ে হিসেবে পরিচিত, আসলে তিনি ততটা নন।’
গত ১৪ জানুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিক ট্রেজারি মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেন। এর ঠিক ২৬ দিন আগেই ‘দ্য ডেইলি মেইল’ একটি সংবাদ প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়েছিল, তিনি বাংলাদেশে একটি বড় ধরণের দুর্নীতি তদন্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
এদিকে লেবার পার্টির নেতা ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত টিউলিপ সিদ্দিক। পদত্যাগপত্র গ্রহণের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী জানান, তার জন্য ‘ভবিষ্যতে দরজা খোলা থাকবে।’ তবে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল