কিয়েভ ১৯৯১ সালের সীমান্ত আর ফেরত পাবে না বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের সেটি ফিরে পাওয়ার আশা করা উচিত নয়।’
প্রায় একই বক্তব্য এসেছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছ থেকেও। জেলেনস্কিও জানিয়েছেন যে, তিনি ১৯৯১ সালের সীমান্তে ফিরে যেতে চান। তবে রুশ বাহিনীর হাতে চলে যাওয়া সব ভূমি বাহিনী দিয়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এ জন্য কূটনীতি ও সময়ের প্রয়োজন পড়বে।
রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে। এ ছাড়া রুশ বাহিনী এখন ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের এক পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। পূর্ব ইউক্রেনের বড় অংশ এখন তাদের দখলে। গত বৃহস্পতিবার কিয়েভে এক ফোরামে বক্তব্য রাখার সময় জালুঝনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো- শত্রুপক্ষের এখনো আমাদের অঞ্চলকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো এবং বিশেষ সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার মতো সম্পদ ও বাহিনী রয়েছে।’
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জালুঝনিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার আগে কয়েকমাস ধরে তার ও জেলেনস্কির মধ্যে মতপার্থক্য চলে আসছিল। তিনি এখন লন্ডনে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জালুঝনির মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেলেনস্কির দপ্তর থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
জেলেনস্কি ও আরও অনেকে আহ্বান জানিয়েছেন, রাশিয়ার বাহিনী যাতে ফিরে যায় এবং ইউক্রেনের ১৯৯১ সালের সীমান্ত যাতে অক্ষুণ্ন থাকে। এমনকি ক্রিমিয়াও যাতে তাদের হাতে থাকে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভের বিবৃতিতে সীমানা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি সেভাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
গত মাসে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশ্চিকো বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে সাময়িকভাবে হয়তো কিছু এলাকা ছেড়ে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘জেলেনস্কিকে হয়তো শান্তির জন্য ‘বেদনাদায়ক সমাধান’ মেনে নিতে বাধ্য করা হবে, যদিও ইউক্রেনীয় জনসাধারণ কখনো রাশিয়ার অধিগ্রহণ মেনে নিবে না।’’ সূত্র: রয়টার্স