ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহত, ছাত্র বিক্ষোভ ও মানবিক খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর বুধবারও (২৩ জুলাই) বিবিসি, রয়টার্স, ডিডি নিউজসহ বিশ্বের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশ করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বিমান বিধ্বস্ত ও হতাহতের খবরসহ ক্লাস টুতে পড়া আট বছরের নাফি এবং তার বোন নাজিয়ার মৃত্যু নিয়ে খবর প্রকাশ করে। নাফি ও তার মা এবং একই স্কুলের ক্লাস নাইনের শিক্ষার্থী খালাতো বোনের সঙ্গে অপেক্ষা করছিল তার ক্লাস সিক্সে পড়া বড় বোন নাজিয়ার ছুটি হওয়ার জন্য। দুপুর ১টার পরপরই নাজিয়ার ছুটি হলে তাকে আনতে তার ক্লাসের দিকে যায় নাফি। স্কুল প্রাঙ্গণে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে ঠিক ওই সময়ই। এতে নাজিয়া ও নাফি দুজনেই দগ্ধ হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়। তাদের স্বজনরা জানান, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নাজিয়াকে যখন তার পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পায়, সে বারবার জিজ্ঞেস করছিল তার ভাই কেমন আছে। ‘নাজিয়া বলে, আমাকে দেখে নাফি দৌড়ায় আসে, না হলে ওর কিছু হতো না’ বলছিলেন নাজিয়ার খালা তানজিনা আখতার, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাসপাতালে নাজিয়ার সঙ্গে ছিলেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম ডিডি নিউজ বিমান দুর্ঘটনা পরবর্তী ছাত্র বিক্ষোভের খবর প্রচার করে। এই ঘটনায় ছাত্রদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার খবর বিশেষভাবে উঠে আসে ডিডি নিউজে। এ ছাড়া বিমান দুর্ঘটনায় আহতের চিকিৎসায় ভারতীয় মেডিকেল টিম পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও খবর প্রকাশ করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের গতকালের প্রতিবেদনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেওয়া শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীর আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে। বিমানটি যখন তার স্কুলে বিধ্বস্ত হয় এবং আগুনের গোলা তৈরি হয়, তখন মাহেরীন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্ধার করতে ছুটে যান। নিজের নিরাপত্তার আগে তাদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেন। ৪৬ বছর বয়সী এই শিক্ষিকা বারবার জ্বলন্ত শ্রেণিকক্ষে গিয়ে তার ছাত্রদের উদ্ধার করেন। যদিও তার নিজের পোশাক আগুনে পুড়ে গিয়েছিল, তার ভাই মুনাফ মুজিব চৌধুরী টেলিফোনে রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।