তাইওয়ান-চীন উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে তীব্র কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে জাপানের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চীনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে বেইজিংয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে পাঠাচ্ছে টোকিও।
পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আগে থেকেই কিছুটা বিরোধ থাকলেও তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ এখন চূড়ান্ত মাত্রায় পোঁছে যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ।
বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখন্ডের সঙ্গে একীভূত করতে চায়।পাশাপাশি প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করার সব ধরণের পথও খোলা রেখেছে।
কিন্তু তাইওয়ান নিজেদেরকে একটি পৃথক রাষ্ট্র মনে করে। চীনের সার্বভৌমত্ব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
এদিকে, জাপানের সীমানা থেকে দ্বীপটি মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে। এর উত্তর-পশ্চিমে চীনের মূল ভূখণ্ড, উত্তর-পূর্বে জাপান এবং দক্ষিণে ফিলিপাইন অবস্থিত ।
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে সংকট শুরু ১৯৪৯ সালে যখন চীনা গৃহযুদ্ধের পর পরাজিত জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। তখন থেকেই চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সূত্রপাত। সম্প্রতি, চীনের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলো উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
এমন পরিসস্থিতিতে চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ চালায়, তবে তা জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়ও সামনে আসতে পারে।
এমনকি, চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে জাপানের তা ঠেকাতে ভূখণ্ডটিতে সামরিক বল প্রয়োগ করা উচিত। এমনটাই মনে করেন, জাপানারে প্রায় অর্ধেক জনগণ। গত রবিবার প্রকাশিত কিয়োদো নিউজের এক জরিপ থেকে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
তাকাইচির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ চীন শুধু নিন্দাই জানায়নি, বরং তাদের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণে সতর্কতাও দিয়েছে।
এছাড়াও, তাইওয়ান প্রসঙ্গে গত ৭ নভেম্বর জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তা জাপানের জন্য ‘অস্তিত্ব-হুমকির পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে এবং টোকিও সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
তাকাইচির এমন মন্তব্যকে ঘিরে টোকিও–বেইজিংয়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়।
এদিকে, গত শুক্রবার চীন জাপানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—তাইওয়ান ইস্যুতে যদি জাপান বল প্রয়োগ করে, তবে তারা ‘চূর্ণ-বিচূর্ণ সামরিক পরাজয়ের’ মুখোমুখি হবে।
শুধু তাই নয়, তাকাইচির মন্তব্যে বেইজিং এতটাই ক্ষিপ্ত যে, তারা নিজ দেশের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ থেকেও বিরত থাকতে বলেছে।
এছাড়া, গত বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তাকাইচির বক্তব্যের বিরুদ্ধে ‘কঠোর প্রতিবাদ’ জানিয়েছে।
সুলতানা দিনা/