সিরিয়ার আলেপ্পো শহর থেকে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) শেষ যোদ্ধারা গতকাল রবিবার সরে গেছে। কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে এই সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে ২০১১ সালে সিরিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আলেপ্পোর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কুর্দিদের যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তার অবসান ঘটল। তবে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার একটি বিশাল অঞ্চলে এখনো তাদের স্বায়ত্তশাসন বহাল রয়েছে।
এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদি জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলেপ্পোর আশরাফিয়া এবং শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক ফাটলগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা ১৪ বছরের যুদ্ধের পর দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার ইসলামপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যাপারে কুর্দি বাহিনী আগে থেকেই সন্দিহান ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলো এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও শুরুতে কুর্দি যোদ্ধারা তাদের শক্ত ঘাঁটি ‘শেখ মাকসুদ’ ছাড়তে রাজি ছিল না। ফলে সিরীয় সেনাবাহিনী এলাকাটি পুনরুদ্ধারে স্থল অভিযানের ঘোষণা দেয় এবং গত শনিবার চিরুনি তল্লাশি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে এলাকা ত্যাগ করতে শুরু করেন, পরে তাদের সরকারি বাসে করে আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের লড়াইয়ে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আলেপ্পোর একটি হাসপাতাল থেকেও কুর্দি যোদ্ধারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র ফেলে রেখে পিছু হটেছে। এসডিএফ অভিযোগ করেছে, সিরীয় সেনাবাহিনী বেসামরিক অবকাঠামো ও হাসপাতালে নির্বিচারে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং এতে তুর্কি ড্রোন সহায়তা করেছে। যদিও তুরস্ক ও সিরিয়ার সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে এসডিএফের একীভূত হওয়ার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় গত মঙ্গলবার থেকে এই সংঘাত শুরু হয়, যাতে অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই সংঘর্ষ সিরিয়ার সাম্প্রদায়িক অস্থিরতারই একটি অংশ। এর আগে ২০২৫ সালে দেশটির আলাওয়াইত ও দ্রুজ সংখ্যালঘুদের ওপর বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান সংঘাতের কারণে তুরস্কের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এবং আলেপ্পোর শিল্পাঞ্চল বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি আলেপ্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
মাহফুজ/