সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখের বিজ্ঞানীরা একটি আণুবীক্ষণিক রোবট বা ‘মাইক্রোরোবট’ তৈরি করেছেন। এই মাইক্রোরোবট মানুষের রক্তনালির ভেতর দিয়ে শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে ওষুধ পৌঁছে দিতে সক্ষম। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুম্বকশক্তি ব্যবহার করে রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই উদ্ভাবনকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গবেষকরা জানান, নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকরা স্ট্রোকের কারণে সৃষ্ট রক্তনালির ব্লক অপসারণ, অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণ চিকিৎসা এবং সরাসরি টিউমারে ক্যানসাররোধী ওষুধ প্রয়োগ করতে পারবেন। যেহেতু ওষুধটি সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা হবে, তাই শরীরের অন্য কোনো অংশে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকবে না। রোবটটি দেখতে অতি ক্ষুদ্র গোলাকার ক্যাপসুলের মতো। এটি তৈরি হয়েছে দ্রবণীয় জেল ও আয়রন অক্সাইড ন্যানোপার্টিকল দিয়ে। এক্স-রে প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকরা শরীরের ভেতর রোবটটির অবস্থান নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
গবেষক দলের প্রধান ড. ফ্যাবিয়ান ল্যান্ডার্স বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো অত্যন্ত সরু এবং রক্তপ্রবাহেও থাকে তীব্র স্রোত। এই আঁকাবাঁকা পথ ও স্রোত সামলে রোবটটিকে গন্তব্যে পৌঁছানো ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। সমস্যা সমাধানে তারা ইলেকট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে রোবটটিকে রক্তনালির প্রাচীর ঘেঁষে গড়িয়ে নেওয়া বা স্রোতের বিপরীতে টেনে নেওয়া সম্ভব। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিলিমিটার গতিতে চলতে পারে।
গবেষক অধ্যাপক ব্র্যাডলি নেলসন জানান, এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত চৌম্বক ক্ষেত্র ও গ্রেডিয়েন্ট শক্তি শরীরের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও এটির কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর উচ্চ কম্পাঙ্কের চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে রোবটটিকে সামান্য উত্তপ্ত করা হয়। এতে এর বাইরের আবরণ গলে যায় এবং ভেতরে থাকা ওষুধ নির্দিষ্ট স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
ইতোমধ্যে মানুষের রক্তনালির আদলে তৈরি সিলিকন মডেল, শূকর এবং ভেড়ার মস্তিষ্কে এই প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। গবেষকরা এখন মানুষের শরীরে এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর পরিকল্পনা করছেন। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে জীবনরক্ষায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।


