দেখতে একদম সোনালু ফুলের মতো। সোনালু ফুলের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এর গঠন ও বৈশিষ্ট্য। সম্প্রতি এই ফুলের তিনটি গাছের দেখা মিলেছে শরীয়তপুর জেলা মডেল মসজিদের পাশে। ২০২৩ সালে সাবেক জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসানের উদ্যোগে রোপণের পর এই প্রথম ফুটেছে ফুল। ফুলগুলো ফোটার পর গাছগুলোর সৌন্দর্য এখন ঠিকরে বের হচ্ছে।
এই ফুল নিয়ে কথা হয় মাদারীপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বেদানন্দ হালদারের সঙ্গে। তিনি জানান, এটি লাল সোনাইল বা বাঁদরলাঠি নামে পরিচিত। লাল সোনাইল হচ্ছে Fabaceace পরিবারের একটি উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cassia javanica, এটির আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। কিন্তু বর্তমানে সারা পৃথিবীর উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে জন্মাতে দেখা যায়।
লাল সোনাইল ফুলের গাছ মাঝারি আকারের চিরসবুজ গাছ, যা গাঢ় ও হালকা গোলাপি ফুলের জন্য পরিচিত। এই ফুলের গাছগুলো সাধারণত ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মায়ানমারে হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশেও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এই গাছ রোপণ করা হয়। এই ফুলের গাছগুলো দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় রোপণের কয়েক বছরের মধ্যে মাঝারি আকারের হয়ে ফুল ফুটতে শুরু করে। এই গাছগুলো সচরাচর ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। শীতকালের মাঝামাঝি সময়ে গাছের পাতা ঝরে পড়ে। পরে গ্রীষ্মকাল শুরু হতেই কচিপাতায় ছেয়ে যায় পুরো গাছ। পরবর্তী সময়ে এই গাছের কাণ্ড ভেদ করে গুচ্ছ আকারে ফুটতে শুরু করে গোলাপি রঙের ফুল। ফুলগুলো পাঁচ পাপড়িবিশিষ্ট এবং ফুলের মাঝ বরাবর হলুদ রঙের পরাগধানী থাকে। রঙের দিক থেকে আলাদা হলেও ফুলগুলো অনেকটা দেশীয় কাঞ্চন ফুল ও হলুদ সোনালু ফুলের বৈশিষ্ট্য বহন করে। গাছগুলোতে যখন ফুল আসে তখন অসংখ্য ফুল ফোটে। ফুলগুলোতে সুঘ্রাণ থাকায় এবং বর্ণচ্ছটায় মৌমাছিরা ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়। এ ছাড়া প্রজাপতি ও ছোট পাখিরাও এই ফুলের মধুর টানে ছুটে আসে। পাশাপাশি গাছগুলোর পাতা, ছাতার ন্যায় আকৃতি ও বিন্যাস সবকিছুই দৃষ্টিনন্দন।
শরীয়তপুর জেলা মডেল মসজিদের পাশে এমন ফুল প্রথমবারের মতো দেখে উল্লসিত অনেকেই। স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ মাহমুদ বলেন, কয়েক দিন ধরে মসজিদে নামাজ পড়ার সময় নতুন ফুলগুলো দেখছি। মিষ্টি ঘ্রাণের পাশাপাশি অপরূপ রং। দেখতে আমাদের দেশের সোনালু ফুলের মতো তবে রংটা গোলাপি। ফুলগুলোর কারণে মসজিদ প্রাঙ্গণ আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে। এ ধরনের ফুলগাছ যদি প্রত্যেক মহাসড়কের ধারে লাগনো হয় তাহলে বেশ ভালো লাগবে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মওলানা মুফতি মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, মসজিদের আশপাশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য গাছগুলো রোপণ করেন তখনকার জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান। যখন গাছগুলো রোপণ করা হয় তিনি বলেছিলেন, গাছগুলোতে সুন্দর ঘ্রাণযুক্ত গোলাপি ফুল ফুটবে। এবার গাছগুলোতে ফুল ফুটেছে। এই প্রথম আমি এই ফুল দেখলাম। যেমন ঘ্রাণ তেমন তার সৌন্দর্য। আমি সব সময় গাছগুলোর পরিচর্যা করি। গাছগুলো ছায়া দেওয়ায় মসজিদের হাঁটার রাস্তাটিও ঠাণ্ডা থাকে।