কোরবানি একটি ব্যক্তিগত ইবাদত–তবে বড় পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হওয়ার সুযোগ ইসলামে রয়েছে। এই শরিকানার বিধান সঠিকভাবে না জানলে কোরবানি সহিহ নাও হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান রাখা প্রতিটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বড় পশুতে সাত ভাগের বিধান, একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় কেবল একজনই কোরবানি দিতে পারবেন। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে এই পশু কোরবানি করলে কারোটাই সহিহ হবে না।
আর উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারবেন। সাতের বেশি শরিক হলে কারও কোরবানিই সহিহ হবে না। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন– أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ نَشْتَرِكَ فِي الْإِبِلِ وَالْبَقَرِ كُلُّ سَبْعَةٍ مِنَّا فِي بَدَنَةٍ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ করেছেন যে, আমরা একটি গরু এবং একটি উটে সাতজন করে শরিক হয়ে যাই।’ (মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)
সাতজনে মিলে কোরবানি করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ এক সপ্তমাংশের কম হবে না। যেমন- কারও আধা ভাগ, কারও দেড় ভাগ এভাবে হলে কোনো শরিকের কোরবানিই সহিহ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)। উট, গরু ও মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যায়–দুই, তিন, চার, পাঁচ বা ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। (মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)। হালাল সম্পদ থেকে কোরবানি করা আবশ্যক: কোরবানি করতে হবে সম্পূর্ণ হালাল সম্পদ থেকে। হারাম টাকায় কোরবানি করলে তা সহিহ হবে না–এবং এ ক্ষেত্রে অন্য শরিকদের কোরবানিও সহিহ হবে না।
যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কোরবানি দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয়–তা হলে তার জন্য এই পশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ। তবে শরিক না করে একা কোরবানি করাই উত্তম। শরিক করলে সেই টাকা সদকা করে দেওয়া ভালো। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরিব হন– যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়–তা হলে কোরবানির নিয়তে পশু কেনার মাধ্যমে পুরোটাই আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাই তার জন্য এই পশুতে অন্যকে শরিক করা জায়েজ নয়। শরিক করলে সেই টাকা সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব হবে।
কোরবানির পশুতে কাউকে শরিক করতে চাইলে পশু কেনার সময়ই নিয়ত করে নিতে হবে। (কাজিখান: ৩/৩৫০-৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১০)
কোনো অংশীদারের নিয়ত ভুল হলে অন্যদের কোরবানির কী হবে: যদি কোনো শরিক আল্লাহর হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে নয়, কেবল গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানিতে শরিক হয়–তা হলে তার কোরবানি সহিহ হবে না। এবং তাকে শরিক করার কারণে বাকি সবার কোরবানিও সহিহ হবে না। এই বিধানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার সঙ্গে শরিক হচ্ছেন–তার নিয়ত সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে কোরবানি ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শরিক নির্বাচন করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৮; কাজিখান: ৩/৩৪৯)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক