জেমস বন্ড। সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের এক দুর্দান্ত দুঃসাহসী স্পাই। গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ান দেশান্তরে। নিজের নাম গোপন করে ‘রায়ান’ নাম নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন একটা টিভি রিয়েলিটি শোয়ের অডিশন দিতে। এরা নাকি জেমস বন্ড চরিত্রে লোক নেবে।
কালো একটা টি-শার্ট আর জিন্স পরেছেন বন্ড। লম্বা লাইনে গিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। আশপাশে চোখ বুলিয়ে দেখে নিলেন এক ঝাঁক জেমস বন্ডকে। বাঁ পাশে দাঁড়ানো একটা ছেলের নাকের ওপরে ক্রিম লেগে থাকতে দেখলেন তিনি। বন্ড ইশারায় ছেলেটাকে বোঝালেন যে, তার নাকের ওপর কিছু লেগে আছে। বন্ডকে হতভম্ব করে দিয়ে ছেলেটা পকেট থেকে একটা গোল ছোট আয়না বের করে নাকের ওপর লেগে থাকা ক্রিম মুছে ফেলল। ফর্সা নাদুস নুদুস ছেলেটা। এখানে আসার আগে কোনো ফেস ক্রিম লাগিয়ে এসেছে মনে হয়।
লাইনে নিজের পেছনে দাঁড়ানো ছেলেটা তাকে বলল, ব্রাদার আপনার হাইটটা কিন্তু ভালো।
থ্যাংকস। বন্ড মুচকি হাসলেন।
কিন্তু কি জানেন? আপনার চেহারাটা আসলে বন্ডের সঙ্গে যায় না।- ছেলেটা বন্ডকে বলল।
এবার ছেলেটাকে খুঁটিয়ে দেখলেন বন্ড। চোখে চশমা পরা হালকা পাতলা একটা ছেলে। এই ছেলে বাসায় বসে বসে কবিতা লিখলে কিংবা গল্পের বই পড়লে মানাত বেশ।
নাম কী আপনার?- ছেলেকে বন্ড জিজ্ঞাসা করলেন।
আমি স্যাম। আপনি?
রায়ান।- ছদ্মনামটা বললেন বন্ড। বন্ড হতে চান কেন?- ছেলেটাকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন।
আমি আসলে এখনো ছোটদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলি, বিকেলে মায়ের সঙ্গে হাঁটতে যাই। অনেকেই এসব নিয়ে ফান করে। বন্ড হয়ে আমি সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই।
দেখুন ছোটদের সঙ্গে খেলা কিংবা মায়ের সঙ্গে হাঁটতে যাওয়া লজ্জার কিছু না, বরং ভাগ্যের ব্যাপার। আপনার ভাগ্য ভালো এখনো আপনার মা আছে। কে কী বলেছে তা নিয়ে না ভেবে, যেটা ভালো লাগে তাই করেন। বন্ড হয়েই প্রমাণ করার কিছু নেই। তাই না?
ছেলেটাকে এসব বলতেই একটা মেয়েকে হেঁটে আসতে দেখলেন বন্ড। কালো ড্রেস চোখে কালো চশমা। এরা কি মেয়ে বন্ডও নিচ্ছে নাকি? মনে মনে নিজেকে জিজ্ঞাসা করলেন বন্ড।
না, মেয়েটা আসলে এখানকার এক প্রেজেন্টার। সবাইকে টুকটাক প্রশ্ন করছে।
একটা ছেলেকে মেয়েটা জিজ্ঞাসা করল, বন্ডকে কীভাবে ডিফাইন করবেন?
ছেলেটা এক মুহূর্ত ভাবল, ইয়ে...বন্ড আসলে একজন স্পাই। আই থিংক শি ইজ...!
শি?- চমকে উঠলেন বন্ড।-কী হচ্ছে এসব?
প্রশ্ন করতে করতে মেয়েটা বন্ডের কাছেও এল।
বন্ডের কয়টা বই পড়েছেন?- এসেই বন্ডকে প্রশ্ন করল সে।
ইয়ে অনেক পড়েছি। সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারব না।
আসলেই পড়েছেন?- মেয়েটার মুখে দুষ্টুমির হাসি খেলে গেল।
মনে তো হচ্ছে।- ছোট করে বন্ড জবাব দিল।
কোন বইটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে?
সব বই-ই ভালো। সবচেয়ে ভালো লেগেছে ডক্টর নো, ক্যাসিনো রয়্যাল।
ওকে বেস্ট অব লাক।-মেয়েটা হেসে বলল।
থ্যাংকস ম্যাম।
পাশের রো থেকে আরেকটা ছেলে এসে বন্ডকে বলল, ব্রো আমাকে কিছু বইয়ের নাম বলেন তো। আসলে আমি একটাও পড়িনি।
নট অ্যা সিঙ্গেল ওয়ান?- অবাক বন্ড।
নট অ্যা সিঙ্গেল পিস। আচ্ছা বন্ড কি বিয়ে করেছেন? ছেলেমেয়ে কয়জন একটু বলেন না। ভেতরে আবার প্রশ্ন করলে তো ঝামেলায় পড়ব।
কী জবাব দেবেন বন্ড? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি।
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ডাক পেলেন বন্ড নিজে। কপালের ঘাম মুছে নির্দিষ্ট রুমে ঢুকলেন। রুমে দুজন। বেটে মতো একটা ছেলে মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। আর পাশেই এক মেয়ে বসা।
নাম?-ছেলেটা জিজ্ঞাসা করল।
বন্ড, জেমস বন্ড।- প্রায় বলেই ফেলেছিলেন। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, রায়ান হ্যারিস।
বন্ড হতে চান কেন?-মেয়েটা জিজ্ঞাসা করল চেয়ারে হেলান দিয়ে।
আমার মনে হয় আমি পারব বন্ড হতে। খানিকটা মুচকি হেসে বন্ড জবাব দিলেন।
দেখি গান গেয়ে গেয়ে একটা নাচ করেন। বেঁটে ছেলেটার কথা শুনে খুবই অবাক হলেন বন্ড।
নাচ?- জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।
হ্যাঁ। কেন নাচ পারেন না?
জেমস বন্ড হলে নাচ জানতে হবে?- প্রশ্নটা করার ফাঁকে সিক্রেট সার্ভিসের হেডরা এটা শুনলে কী করত সেটাও এক মুহূর্ত ভাবলেন বন্ড।
এই যে মিস্টার নাচ পারেন কি না? না পারলে আসতে পারেন।- মেয়েটা এসব বলতেই বন্ডের হাতে উঠে এল বহুল ব্যবহৃত তার প্রিয় অস্ত্র বেরেট্টা ৪১৮। অনেক হয়েছে এসব ফাইজলামি। এবার বন্ধ করার সময় এসেছে।