রাফি কাঁচাবাজার থেকে ফিরেছে। বয়স্ক রহিমার মা বাজার গোছাতে গোছাতে বলল, আম্মা আর শরীর চলে না। একটা বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা হলেই এই কাম ছাইড়া দিতাম।
মিলি কিছু বলার আগেই রাফি বলল, এই বয়সে তোমার নিজের শরীরই চলে না, ভাতার দিয়ে তুমি কী করবে রহিমার মা? তাও আবার বয়স্ক ভাতার!
কথা শুনে মিলি কঠিন চোখে রাফির দিকে তাকিয়ে রইল, তার পর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
রহিমার মা ব্যাগ থেকে মাছ বের করতেই মিলি বলল, তুমি ইলিশ মাছ যে আনলা, এই মাছে যে ডিম হবে এটা বোঝনি?
রাফি বলল, কীভাবে বুঝব! মাছ তো ওজন করে দিছে, আলট্রাসনোগ্রাম করে তো দেয়নি!
মিলি আর বলল না, শুধু আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। এই গাধাকে নিয়ে সারা জীবন কীভাবে সংসার করবে ভেবে পেল না। একটা কাজও সে গুছিয়ে করতে পারে না। গতকাল দুজনে গিয়েছিল ডাক্তারের কাছে। রাফির বুকে বোধহয় কফ জমেছে, দিনের বেলা যেমন তেমন, রাতের বেলা কাশছে। ডাক্তার বলল, এক্সরে এনেছেন?
রাফি কাচুমাচু মুখে বলল, না ডাক্তার সাব, এক্সরে সঙ্গে করে আনিনি, বউ সঙ্গে এসেছে। এক্সরে সঙ্গে করে আনলে বউ রাগ করবে না?
ডাক্তার কী বলবেন ভেবে পেলেন না। তিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
বাইরে বেরিয়ে এসে মিলি বলল, ডাক্তার কী জানতে চাইল আর তুমি কী বললা?
রাফি বলল, আমার এক্সের কথা শুনে তুমি রাগ করেছ? আমি তো মিথ্যা কথা বলতে পারি না।
মিলি বুঝতে পারছে না, তার হাসা উচিত না কাঁদা উচিত। রাফি মানুষ হিসেবে ভালো, এই কথাটা শুনে সে বিয়ে করেছে। সে শুধু ভালো না, অতিরিক্ত ভালো। কোনো ঘোরপ্যাঁচ জানে না। এত সহজ সরল মানুষ বর্তমান দুনিয়ার জন্য মানানসই না।
ওষুধের দোকানে গিয়ে আরেক যন্ত্রণা। ডাক্তার একটা সাসপেনশন লিখে দিয়েছে যেটা সুগার ফ্রি। রাফি সাসপেনশন হাতে নিয়ে বলল, ওষুধ তো দিলেন, ফ্রি সুগার তো দিলেন না!
মিলি লজ্জায় মরে যায়।
তারা বাসায় ফেরার জন্য রিকশায় উঠেছে। পাড়ার এক ছোট ভাই ফোন দিয়ে বলল, রাফি ভাই আমি এলাকায় একটা নতুন দোকান দিয়েছি। আপনাকে কিন্তু আসতে হবে।
রাফি গদগদ কণ্ঠে বলল, কী বলো ছোট ভাই, তুমি দোকান দিয়েছ আর আমি আসব না? আমার পরিবারের সবাইকে তোমার দোকানের কাস্টমার করে দেব। আমিই হব তোমার দোকানের প্রথম কাস্টমার। আমি আমার বউকে নিয়ে এক্ষুনি আসছি তোমার দোকানে।
মিলি বলল, তাকে জিজ্ঞেস করো, কীসের দোকান।
রাফি জিজ্ঞেস করতেই উত্তর এল, কাফনের কাপড়ের দোকান ভাই!
এই কথা শুনে মিলি রাগী গলায় বলল, তোমার জন্ম হয়েছিল কোথায়? বাসায় না হাসপাতালে?
হাসপাতালে। কেন, বল তো?
মিলি নিজের চুল ঠিক করতে করতে বলল, হাসপাতাল থেকে বাসায় আনার সময় তোমার বাবা-মা বোধহয় শুধু তোমার বডি এনেছিল, ভুল করে তোমার ব্রেইন হাসপাতালে ফেলে রেখে এসেছেন। চলো হাসপাতালে যাই, ব্রেইন কোথায় পড়ে রয়েছে কুড়িয়ে আনতে হবে।
তারা হাসপাতালে গেল না ঠিকই, তবে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকল। খাওয়া দাওয়ার পর বিল দেওয়ার সময় মিলি বলল, ওয়েটারকে টিপস দাও।
রাফি ওয়েটারকে ডেকে কানে কানে বলল, শোন ভাই, তোমাকে একটা টিপস দিই। ভুলেও কখনো বিয়ে করো না!