আমজাদ সাহেব মুখের ভেতর পানের খিলি ভরে আয়েশি ভঙ্গিমায় সোফায় বসে টিভি ছেড়ে দিলেন। রিমোট টিপতে টিপতে একটি হিন্দি চ্যানেলে তার চোখ আটকে গেল। সেখানে তার প্রিয় নায়িকা শাবানা আজমির মুভি চলছে। আমজাদ সাহেব মুভিতে মনোযোগী হতেই তার ছোট ছেলে আরিয়ান এসে পাশে বসল।
— আব্বু, কার্টুন দেখব।
— না বাবা। এখন নয়। পরে দেখবে।
— না। এখন দেখব।
— ওহ বাবা।
— মোটু পাতলু দেখব।
আমজাদ সাহেব কথা না বাড়িয়ে ছেলেকে কার্টুন চ্যানেল ধরিয়ে দিয়ে উঠে গেলেন। অন্যদিন হলে আরিয়ানকে ধমক দিয়ে বলতেন, ‘যা ভাগ এখান থেকে।’ কিন্তু আজ আরিয়ানকে সেই রকম আচরণ না দিয়ে তার দাবি মেনে নিলেন। এর অবশ্য একটি কারণও আছে। আজ আমজাদ সাহেবের মন ভালো। মন ভালো থাকলে তিনি সব সময় পানির মতো তরল থাকেন।
আমজাদ সাহেবের মন ভালো থাকার কারণ হচ্ছে আজ ঘরে মাষকলাই ডাল রান্না হচ্ছে। এই পড়ন্ত শীতে তিনি মাষকলাই ডাল খেতে ভালোবাসেন। কোনো এক অজানা কারণে আমজাদ সাহেব তার প্রিয় খাবারের তালিকায় সব সময় মাষকলাই ডালকে স্মরণ করেন।
মিসেস রোদেলা কিচেনে মনোযোগ দিয়ে মাষকলাই ডাল রান্নায় ব্যস্ত। স্বামীর যেকোনো আবদার পূরণে তিনি একপায়ে খাড়া। আমজাদ সাহেব কিছুক্ষণ পরপর কিচেনের আশপাশে এসে পায়চারি করছেন আর মাষকলাই ডালের ঘ্রাণ পেয়ে খুশির বানে ভেসে যাচ্ছেন। আজ এমনিতেই শীত বেশি। এই সময়ে মাষকলাই ডাল খেতে ভারি মজা।
ডাইনিং টেবিলে মাষকলাই ডালের বাটি দেখে আমজাদ সাহেবের চোখ চকচক করছে। আজ তিনি মহা উৎসবে ভাত খাবেন।
মিসেস রোদেলা স্বামীর পাতে কয়েক চামচ ডাল বেড়ে দিলেন। পাশে বসে আছে আরিয়ান। সেও ডাল দিয়ে ভাত খাচ্ছে।
আমজাদ সাহেব খেতে খেতে আবিষ্কার করলেন, মাষকলাই ডাল রান্নার সময় হাঁসের ডিম ভেঙে দিয়েছে। সে কারণে হয়তো ডাল আরও মজাদার হয়েছে।
আমজাদ সাহেব খেয়াল করলেন তার পাশে বসা ছেলে আরিয়ান ভাত না খেয়ে বাবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে।
— কী হলো বাবা! খাচ্ছো না যে!
— আচ্ছা আব্বু, তেলাপোকা খেতে কেমন?
— ছিঃ, এসব কী বলছ খেতে বসে?
— বলো না।
— আজেবাজে কথা বলবে না আরিয়ান। চুপচাপ খাও।
— না। আগে বলো তেলাপোকা খেতে কী খুব মজা?
— আচ্ছা আগে খাও, তারপর বলব।
আরিয়ান চুপচাপ ভাত খেয়ে উঠে গেল। আমজাদ সাহেবও ভাত খেয়ে ছেলে আরিয়ানের আছে আসলেন।
— খেতে বসে কী যেন জানতে চাইলে?
— তেলাপোকা খেতে কেমন?
— তেলাপোকা খাওয়া যায় না। হঠাৎ তুমি এই অদ্ভুত জিনিস জানতে আগ্রহী হলে কেন?
— না মানে, ডালে একটা তেলাপোকা পড়েছিল। তোমাকে তেলাপোকা সুদ্ধ সবটুকু ডাল খেয়ে ফেলতে দেখলাম।
— কী বলছ আরিয়ান?
— হ্যাঁ আব্বু। আমি স্পষ্ট দেখেছি। সেজন্য জানতে চাইছি তেলাপোকা খেতে কেমন!
আমজাদ সাহেবের পেটে মোচড় দিয়ে উঠল। অনেকদিন পর মাষকলাই ডাল পেয়ে দুমছে খেয়েছেন, কোনো কিছুর পরোয়া না করে! কিন্তু বেখেয়ালে তেলাপোকা...। ভাবতেই আমজাদ সাহেবের বমি আসার উপক্রম হলো।