অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিমের তিনটি বিদেশি পাসেপোর্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) ফেসবুকের এক পোস্টে সায়ের লিখেন, ‘‘দেশের ঋণ জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যদি কাউকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, সেই দৌড়ে নিঃসন্দেহে ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেলহাসা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদ আহমেদ বেলহাসার সই জাল করে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে প্রায় শত শত কোটি টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ, জনতা ব্যাংকের হাজার কোটি টাকার ঋণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির বিস্তর তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলাও হয়েছে কয়েকটি।
যতদূর জানা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে ওবায়দুল করিমের মালিকানা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ কমপক্ষে হলেও ১৫ হাজার কোটি টাকা।
আর বিদেশে অর্থ পাচার করে সম্পদের যে পাহাড় তিনি গড়েছেন সেসব নিয়ে ইতোমধ্যেই অনেক প্রতিবেদন হয়েছে। কিন্তু এসব সত্ত্বেও এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্ত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি, বরং ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওবায়দুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও বিভিন্ন মহলকে প্রভাবিত করে গত বছরের জুলাই মাসের শেষে তিনি দেশ ছেড়ে যান। এর পর তিনি দেশে ফিরেছেন কিনা সেটা অবশ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে আজকে লিখছি ওবায়দুল করিমের পাসপোর্ট অবসেশন নিয়ে, ঋণ জালিয়াতিকে শিল্পের পর্যায় নিয়ে যাওয়া এই ব্যক্তির রয়েছে তিনটি বিদেশি পাসপোর্ট, দেশগুলোও বেশ ইন্টারেস্টিং - ক্যারিবিয়ান দেশ ডমিনিকা, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ আলবেনিয়া, এমনকি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ার পাসপোর্ট রয়েছে তার। লাইবেরিয়ার পাসপোর্টটি অবশ্য কূটনৈতিক, ইনভেস্টমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে তাকে দেশটি এই পাসপোর্ট প্রদান করে।’’