সিডনিতে গতকাল দুপুরে অনেকটা সময়জুড়ে বৃষ্টি ঝরল। অলিম্পিক পার্কের দিনের আলো যখন সন্ধ্যায় হারাচ্ছিল, তখনো এ প্রাঙ্গণজুড়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল সমর্থকরা সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই হাজির বিখ্যাত স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়ায়। স্পন্সরশিপের কারণে বর্তমানে যা অ্যাকর স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘অলিম্পিক স্টেডিয়াম’ নামে। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকের প্রধান ভেন্যু যে ছিল এটি।
এই অলিম্পিক স্টেডিয়ামেই এবারের নারী এশিয়ান কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। রয়েছে আরও তিনটি নকআউট ম্যাচও। সপ্তাহ খানেক আগে অস্ট্রেলিয়ার তিন শহরে নারী এশিয়ান কাপ মাঠ গড়ালেও প্রধান এই ভেন্যুতে গতকালই প্রথম ম্যাচ হলো। নারী দিবসে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়েদের এই লড়াইয়ে নতুন এক ইতিহাসও হলো। ৮৩ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে গতকাল দর্শক উপস্থিতি ছিল ৬০ হাজার ২৭৯ জন। নারী এশিয়ান কাপের ইতিহাসে সব আসর মিলিয়ে যা সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।
বিকেলে অলিম্পিক পার্কে পা রাখতেই বোঝা যাচ্ছিল এমনটাই বুঝি হতে চলেছে। ছুটির দিনে ফুটবলপ্রেমীরা ঘরে বসে না থেকে মাঠের পথ ধরেছিল। এই শহরের আরেক ভেন্যু ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে এরই মধ্যে চারটি ম্যাচ হয়েছে। তবে সেই তুলনায় এখানকার ম্যাচটিকে যেন আয়োজকরা আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইল। হতে পারে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ বলেই এমন কিছু।
রেফারি কিক অফের বাঁশি বাজাতেই গ্যালারির গর্জন জানিয়ে দেয় নারী এশিয়ান কাপ আজ নতুন কিছুই দেখতে যাচ্ছে। এত এত দর্শক, মাঠের লড়াইটা না জমলে হয়। র্যাঙ্কিংয়ে ১৫তম স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ও ২১তম স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার লড়াইটা ছিল রোমাঞ্চের বাঁকে ভরা। যেখানে অস্ট্রেলিয়ান সর্থকদের হতাশ করে দক্ষিণ কোরিয়ার শুরুতে এগিয়ে যাওয়া। ১৩ মিনিটে ডান পায়ের স্লাইডিং শটে দেখার মতো এক গোল করেন মুন ইউন-জু। ৩২ মিনিটে অ্যালানা কেনেডি অস্ট্রেলিয়াকে সমতা এনে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্যাম কেরের গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল আদায় করে আবার ম্যাচের রং বদলে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ৫৩ মিনিটে কিম শিন-জি স্পট কিক থেকে ২-২ করেন। ৫৬ মিনিটে ৩-২ করেন কাং চাই-রিম। এই ব্যবধান ধরে রেখে জয়ের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে যোগ করা সময়ে অ্যালানা কেনেডির গোলে পয়েন্ট আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা।
এ ম্যাচের আগেই ‘এ’ গ্রুপ থেকে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল। দুদলের গতকালের লড়াইটি ছিল মূলত গ্রুপসেরা হওয়ার। রোমাঞ্চকর লড়াইটিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় গ্রুপেসেরা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তিন ম্যাচে দুটি করে জয় ও এক ড্রয়ে উভয় দলের ৭ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই দক্ষিণ কোরিয়ার ডাগআউট উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে। খেলা শেষে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দিকে ছুটে যান কোরিয়ার খেলোয়াড়রা। ছবি তুলে তাদের সঙ্গে গ্রুপসেরা হওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এই দর্শকরা সংখ্যায় অনেক কম হলেও স্বাগতিক সমর্থকদের সঙ্গে সমান তালে গলা ফাটিয়েছেন। কখনো কখনো তো মনেই হয়নি অস্ট্রেলিয়া নিজ মাঠে খেলছে।
এদিন গোল্ড কোস্টে ‘এ’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ইরানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফিলিপাইন। ৩ ম্যাচে ১ জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়সেরা দুই দলের একটি হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার দৌড়ে বেশ এগিয়ে গেছে দলটি। প্রতিযোগিতায় মাত্র ৪ গোল হজম করেছে তারা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরান তিন ম্যাচের তিনটিতেই হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে।