মাঠে নেই, স্কোরবোর্ডে নেই- তবু আলোচনা এবং বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন এনামুল হক বিজয়। মূলত ফিক্সিং-সন্দেহের ছায়া তাকে সরিয়ে রেখেছিল সব ধরণের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে। এখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে (ডিপিএল) সামনে রেখে আবার মাঠে ফেরার পথে এই ওপেনার, যিনি আজ (১৮ এপ্রিল) মোহামেডানের জার্সি গায়ে জড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজয় সোজাসাপ্টার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও শতভাগ প্রস্তুত নন। তবে সময় আছে, আর সেই সময়টাই কাজে লাগাতে চান, ‘আমি শতভাগ প্রস্তুত না। কিন্তু আমার হাতে প্রায় ১৫ দিন সময় আছে এবং মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছি সঙ্গে অনুশীলনও করছিলাম গত কিছুদিন ধরে। তাই আশা করি প্রিমিয়ার লিগের আগেই খুব ভালোমতো শতভাগ প্রস্তুত হয়ে যাব।’
ক্রিকেট মাঠে প্রতিপক্ষ থাকে ১১ জন, কিন্তু বিজয়ের মতে তার লড়াইটা আরও বড়। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা নেতিবাচকতা তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়। সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই সমালোচনার ঢেউ, যেখানে ইতিবাচকতার চিহ্ন খুব কমই। বিজয় তাই চান বদল; শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবেশের জন্য। তার বিশ্বাস, ইতিবাচক শক্তিই একজন খেলোয়াড়কে আবার দাঁড় করাতে পারে।
বিজয় বলেছেন, ‘চারপাশ যতই দেখছি আমার কাছে মনে হচ্ছে যে অনেক নেতিবাচকতা, অনেক মন্তব্য করা হয়। ইতিবাচক কোনো কিছু দেখি না আমরা। যেকোনো সামাজিক মাধ্যমে তাকালেই মন্তব্যের মধ্যে শুধু নেতিবাচক কথা। তো আমি চাই যে এই জিনিসটা ইতিবাচকভাবে সবাই কথা বলুক। একটা ইতিবাচক শক্তি সবার মধ্যে থাকুক। নেতিবাচক জিনিসগুলো আমরা পেছনে রেখে দিই।’
বিগত সময়ে যথাযথ ‘সম্মান’ না পাওয়ার অভিমানে ক্রিকেট ছাড়ার কথাও বলেছিলেন বিজয়। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে সেই সম্মানটুকু পেয়েই খেলায় ফেরার অপেক্ষায় তিনি, ‘আমি চেয়েছি বিসিবি যেন এই জিনিসটাকে (ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ) সুন্দরভাবে সবার কাছে উপস্থাপন করে। এটা এখনো চাই। আমার ব্যক্তিগতভাবে সভাপতির (তামিম ইকবাল) সঙ্গে কথা হয়েছে। বিসিবির সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আমাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে এবং সম্মানের সঙ্গে কথা বলেছে। আশা করছি, এটা চলমান থাকবে।’
নতুন দলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে বিজয় বলেন, ‘ব্যাপারটা এমন নয় যে এটা ছোটবেলার স্বপ্ন। আমরা ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি আবাহনী-মোহামডাডের খেলার চিন্তা করে। সেই হিসাব করতে গেলে তো অবশ্যই এটা একটা বড় দল। আমি দীর্ঘদিন আবাহনীতে খেলেছি, আমি প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলেছি। তো এবার একটা সুযোগ এসেছে এরকম একটা বড় দলে খেলার এবং বিজয়ী দলে খেলতে পারলে মানসিকতা সবদিক থেকে বিজয়ীদের মতোই থাকে।’
অনিক/