প্রতিদিন আমরা স্কুলে যাই, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হই বা কেনাকাটা করতে রাস্তায় নামি। কিন্তু রাস্তায় অসচেতনতা থেকে ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। অনেক সময় ছোট্ট একটা ভুল, যেমন ভুল পাশ দিয়ে হাঁটা বা হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া— প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই রাস্তায় চলাফেরার কিছু নিয়ম জানা এবং মানা খুবই জরুরি। নিচে কিশোর-কিশোরীদের উপযোগী করে সেই নিয়মগুলো দেওয়া হলো।
সব সময় রাস্তার বাম পাশে হাঁটবে
বাংলাদেশে গাড়ি চলে রাস্তার ডান পাশে। তাই পথচারীদের হাঁটতে হয় রাস্তার বাম দিক দিয়ে। এতে তুমি সহজেই বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি দেখতে পাবে এবং সাবধানে সরে যেতে পারবে। ফুটপাত থাকলে অবশ্যই ফুটপাত ব্যবহার করবে।
জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করো
রাস্তা পার হওয়ার সময় জেব্রা ক্রসিং বা দাগ দেওয়া সাদা রেখাগুলো খুঁজে বের করো। সেগুলো পথচারীদের জন্য নিরাপদ স্থান। প্রথমে দুই পাশ দেখে নিশ্চিত হও, তার পর ধীরে ধীরে হাঁটো। তাড়াহুড়া করে দৌড়ে পার হয়ো না।
ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করো
যেসব বড় সড়কে গাড়ি চলাচল বেশি, সেখানে ফুটওভার ব্রিজ ছাড়া রাস্তা পার হওয়া বিপজ্জনক। একটু কষ্ট হলেও ব্রিজ ব্যবহার করো। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। মনে রাখো— সামান্য সময় বাঁচাতে গিয়ে জীবন ঝুঁকিতে ফেলো না।
গাড়ির গতি অনুমান করো
রাস্তা পার হওয়ার আগে দেখো— গাড়িগুলো কত দূরে এবং কত দ্রুত চলছে। অনেক সময় দূর থেকে গাড়ি ধীরে আসছে মনে হলেও বাস্তবে সেটা দ্রুতগতির হতে পারে। তাই দুবার দেখে নিশ্চিত হয়েই রাস্তা পার হবে।
মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার করো না
রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা, গান শোনা বা ভিডিও দেখা একদম নয়। এতে মনোযোগ নষ্ট হয়, গাড়ির হর্ন বা শব্দ শোনা যায় না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তায় নামলে চোখ-কান খোলা রাখো।
ট্রাফিক সিগন্যাল মানো
সিগন্যাল লাল থাকলে থেমে যাও, সবুজ হলে চলবে। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ থাকলে তার সংকেত অনুসরণ করো। অনেক সময় মানুষ দেখে যে অন্যরা দৌড়ে পার হচ্ছে। তাই নিজেও ছুটে যায়— এটা ভুল। নিয়ম না মানলে নিজের ও অন্যের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
বাস বা গাড়িতে ওঠা-নামার সময় সাবধান থাকো
চলন্ত বাসে ওঠা বা নামা কখনোই করো না। গাড়ি পুরোপুরি থামলে তবেই ওঠো বা নামো। রাস্তার মাঝখানে নয়, নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ডে ওঠা-নামা করাই নিরাপদ।
রাতে উজ্জ্বল পোশাক পরো
রাতে হাঁটতে হলে গাঢ় বা কালো পোশাক পরো না। কারণ এতে চালকরা তোমাকে দূর থেকে দেখতে পায় না। হালকা রঙের বা রিফ্লেক্টিভ পোশাক পরলে তুমি দৃশ্যমান থাকবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্দেশ মানো
যদি বড় ভাইবোন, শিক্ষক বা ট্রাফিক পুলিশ তোমাকে সাবধান করে, তা হলে সেটা অবহেলা করো না। তাদের অভিজ্ঞতা তোমার নিরাপত্তার জন্যই। কখনো রাগ করো না বা প্রতিবাদ করো না— বরং শেখো কীভাবে নিরাপদ থাকা যায়।
নিজেকে ও অন্যদের সচেতন করো
তুমি যদি এসব নিয়ম মানো, তা হলে অন্য বন্ধুরাও তোমার দেখে অনুপ্রাণিত হবে। তাদেরও শেখাও কীভাবে নিরাপদে হাঁটতে হয়। একজন সচেতন পথচারী মানেই এক নিরাপদ সমাজ।

