এই সেদিন নানাবাড়ি এসেছি। চায়ের দোকানে বসে মামাতো ভাই আরাফ আর তার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা চলছে। তখনই কে যেন পাশের কসমেটিক দোকানের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘দেখ দেখ ডানাকাটা পরি।’
পড়ন্ত বিকেলে ডানাকাটা পরির আবির্ভাব আবার কোথা থেকে, সেটা তদন্তে আমাদের সবার বিস্মিত চোখ যখন উক্ত সুবিশাল কসমেটিক দোকানটার দিকে, তখনই বুঝলাম বন্ধু আমার ভুল বলেনি। মেয়েটি আসলেই ডানাকাটা পরির মতো।
আরাফ বলল, ‘তুই নাকি মেয়েদের ভালোই পোষ মানাতে পারিস। এ মেয়েকে পারবি?’
কথাটা বলাতে ওর বন্ধুদের কাছে তলে তলে আমার দাম একশ গুণ বেড়ে গেল মনে হলো। আনিস নামে এক বন্ধু বলল, ‘আরাফ প্রায়ই আপনার এই প্রতিভার কথাটি বলে। পারবেন ওই মেয়েকে পটাতে?’
আমি সাহস করে বললাম, ‘পারব মানে! এক শ’বার পারব।’
বলেই আমি দ্রুত ছুটে গেলাম কসমেটিক দোকানে। দোকানে ঢুকতেই ডানাকাটা পরিকে সামনাসামনি দেখলাম। ওয়াও, কি রূপ গো! দেখেই মনে প্রেম প্রেম ভাব চলে আসে। দোকানে আরও দু-চারজন পুরুষ কাস্টমার, তারা পছন্দের পণ্য কিনবে বলে এদিক-সেদিক চোখের দৃষ্টি ফেলছে।
গিয়ে দাঁড়ালাম ডানাকাটা পরির পাশে। পরি একবার আমার দিকে তাকিয়ে আবার কসমেটিক চয়েজে মন দিল। আমি ছোট্ট করে বললাম, ‘হ্যাললো!’
বিস্মিত চোখে পরি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমাকে বলছেন?’
আমি মনে মনে বললাম- ‘হ্যাঁ গো, বলতে এলাম ভালোবাসি।’ কথাটা শব্দ করে বলতে না পারলেও শান্ত গলায় বললাম, ‘কেমন আছেন?’
পরি তাজ্জব গলায় বলল, ‘ভালো আছি। বাট আপনি কে? আচ্ছা আপনি কি আমার ফেসবুকের সাড়ে চার হাজার ফ্রেন্ডের মধ্যের কেউ?’
পরির কথা শুনে বুঝলাম, এনার ২৪ ঘণ্টা ফেসবুকে অ্যাকটিভ থাকার বাতিক আছে। এই ফাঁকে বাইরে এক পলক চোখ ফেলে দেখি চায়ের দোকানে আরাফ আর তার বন্ধুরা অবাক ভঙ্গিমায় আমার কাণ্ডকারখানা দেখছে।
পরিকে বললাম, ‘না, আমি ফেসবুক চালাই না। বোরিং লাগে। এই পথ দিয়ে হেঁটে যেতে আপনাকে দেখেছি। বেশ সুন্দরীই বলতে হবে আপনাকে।’
পরি তরল গলায় বলল, ‘থ্যাংকু। কিন্তু এভাবে অচেনা কাউকে এসব বলাটা ভদ্রতার কাতারে পড়ে না...’
পরির কথা শেষ হওয়ার আগেই টের পেলাম কেউ একজন পেছন থেকে আমার শার্টের কলার চেপে ধরেছে। ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখি দৈত্যের মতো বড় বড় চোখওয়ালা এক জাম্বু। বলল, ‘আমার বউকে ইভটিজিং করছিস? তোর এত বড় সাহস!’
বলতে বলতে আমাকে দোকান থেকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বের করল। বুঝলাম ইনি ডানাকাটা পরির স্বামী। হঠাৎ কষে এক চড় মেরে বলল, ‘আমার বউয়ের সঙ্গে টাংকি মারতে এসেছিস? দশবার কান ধরে উঠবস কর।’
কী আর করা! পিঠ বাঁচাতে জাম্বুর কথামতো দশবার কান ধরে উঠবস করতে করতে অদূরে চায়ের দোকানে কাজিন আর কাজিনের বন্ধুদের দিকে চোরা চোখে তাকালাম। সবার চোখ-মুখজুড়ে আতঙ্ক ভাব থাকলেও নিশান নামের যে ছেলেটি লাল চায়ের কাপ হাতে বসে আছে, সে দম ফাটানো হাসি চেপে রাখতে ক্রমশ ব্যর্থ হচ্ছে। ভারি লজ্জা হলো আমার। বলতে এলাম ভালোবাসি। হারালাম ইজ্জত।