রাতে একসঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছেন হাসান ও তার স্ত্রী বিনা। এমন সময় একটি মশা এসে কোনো কথাবার্তা না বলেই বসে পড়ল বিনার গালে। হাসান সঙ্গে সঙ্গেই ধপাস করে একটা থাপ্পড় মেরে দিলেন। বিনা রাগান্বিত হয়ে কিছু বলতে যাবেন, তখনই হাসান বলে উঠলেন, ‘সরি তোমাকে মারিনি। মশাটাকে মেরেছি।’
–ও তাই! মনে রেখো আমিও কিন্তু মশা মারতে পারি।
বিনা অপেক্ষায় আছেন কখন সুযোগ আসবে। হিসাবটা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দেবেন। সত্যি সত্যি কিছুক্ষণ পর একটি মশা এসে বসল হাসানের কপালে। বিনা মারতে যাবেন, অমনি মাথাটা সরিয়ে নিলেন হাসান। বিনার হাতটা গিয়ে লাগল ঘরের দেয়ালে। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলেন বিনা। চোখ দিয়ে বেরিয়ে এল জল।
–সরি, আমি ইচ্ছে করে মাথা নোয়াইনি। পায়ে আরেকটা মশা কামড় দিয়েছিল, সেটাকে মারতে চেয়েছিলাম।
রাতে হাসান ও বিনা শুয়ে আছেন। ওদিকে মশারির ভেতরে একটি মশা ঘুরঘুর করছে। হাসান বললেন, ‘প্লিজ মশাটাকে মারো।’
–মশা মেরে আমি হাত কালো করতে চাই না। পারলে তুমি মারো।
–আমিও পারব না।
–মশার সঙ্গে না পারলেও বউয়ের সঙ্গে ঠিকই পারো।
–কখন? ক্যামনে?
–সবার সামনে আমার গালে থাপ্পড় দিয়েছিলে কেন?
–মশা তোমাকে কিস করবে, আর আমি তাকে ছেড়ে দেব?
–আমাকে কামড় দিলে কিস! আর তোমাকে যখন কামড় দেয়?
–সেটাকে রক্তদান বলতে পারো। আমি নিঃস্বার্থভাবে তোমার জন্য সবকিছু দিয়ে দিতে পারি।
–ছয় মাস হলো বিয়ে করেছ। এই ছয় মাসে আমাকে তো তেমন কিছু দাওনি।
–তোমাকে পাওয়ার জন্য বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছি।
–বুকের তাজা রক্ত আবার কখন দিলে?
–তোমাকে পাওয়ার জন্য কত রাত বিনিদ্র কাটিয়েছি। অন্ধকারে গভীর রাত পর্যন্ত সিঁড়িতে বসে তোমার সঙ্গে চ্যাট করেছি। সে সময় কত মশা হুল বসিয়ে আমাকে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। রক্ত চুষেছে। তার কোনো হিসাব নেই।
কথাগুলো একনাগাড়ে বলে নিশ্বাস নেয় হাসান।
–তাই! তা হলে একটু পরীক্ষা করে দেখি কথা সত্য কি না।
এই বলে জানালা খোলা রেখে মশারি নিয়ে পাশের রুমে চলে গেলেন বিনা। ভনভন করে রুমে ঢুকতে থাকে হাজার হাজার মশা।