ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা
Nagad desktop

স্বামী-স্ত্রী আর মশা

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
স্বামী-স্ত্রী আর মশা
এঁকেছেন মাসুম

রাতে একসঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছেন হাসান ও তার স্ত্রী বিনা। এমন সময় একটি মশা এসে কোনো কথাবার্তা না বলেই বসে পড়ল বিনার গালে। হাসান সঙ্গে সঙ্গেই ধপাস করে একটা থাপ্পড় মেরে দিলেন। বিনা রাগান্বিত হয়ে কিছু বলতে যাবেন, তখনই হাসান বলে উঠলেন, ‘সরি তোমাকে মারিনি। মশাটাকে মেরেছি।’
–ও তাই! মনে রেখো আমিও কিন্তু মশা মারতে পারি।
বিনা অপেক্ষায় আছেন কখন সুযোগ আসবে। হিসাবটা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দেবেন। সত্যি সত্যি কিছুক্ষণ পর একটি মশা এসে বসল হাসানের কপালে। বিনা মারতে যাবেন, অমনি মাথাটা সরিয়ে নিলেন হাসান। বিনার হাতটা গিয়ে লাগল ঘরের দেয়ালে। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠলেন বিনা। চোখ দিয়ে বেরিয়ে এল জল।
–সরি, আমি ইচ্ছে করে মাথা নোয়াইনি। পায়ে আরেকটা মশা কামড় দিয়েছিল, সেটাকে মারতে চেয়েছিলাম। 
রাতে হাসান ও বিনা শুয়ে আছেন। ওদিকে মশারির ভেতরে একটি মশা ঘুরঘুর করছে। হাসান বললেন, ‘প্লিজ মশাটাকে মারো।’
–মশা মেরে আমি হাত কালো করতে চাই না। পারলে তুমি মারো।
–আমিও পারব না।
–মশার সঙ্গে না পারলেও বউয়ের সঙ্গে ঠিকই পারো।
–কখন? ক্যামনে?
–সবার সামনে আমার গালে থাপ্পড় দিয়েছিলে কেন?
–মশা তোমাকে কিস করবে, আর আমি তাকে ছেড়ে দেব?
–আমাকে কামড় দিলে কিস! আর তোমাকে যখন কামড় দেয়?
–সেটাকে রক্তদান বলতে পারো। আমি নিঃস্বার্থভাবে তোমার জন্য সবকিছু দিয়ে দিতে পারি। 
–ছয় মাস হলো বিয়ে করেছ। এই ছয় মাসে আমাকে তো তেমন কিছু দাওনি।
–তোমাকে পাওয়ার জন্য বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছি।
–বুকের তাজা রক্ত আবার কখন দিলে?
–তোমাকে পাওয়ার জন্য কত রাত বিনিদ্র কাটিয়েছি। অন্ধকারে গভীর রাত পর্যন্ত সিঁড়িতে বসে তোমার সঙ্গে চ্যাট করেছি। সে সময় কত মশা হুল বসিয়ে আমাকে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। রক্ত চুষেছে। তার কোনো হিসাব নেই।
কথাগুলো একনাগাড়ে বলে নিশ্বাস নেয় হাসান। 
–তাই! তা হলে একটু পরীক্ষা করে দেখি কথা সত্য কি না। 
এই বলে জানালা খোলা রেখে মশারি নিয়ে পাশের রুমে চলে গেলেন বিনা। ভনভন করে রুমে ঢুকতে থাকে হাজার হাজার মশা।

সোনাই চাচার চামড়াকাণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
সোনাই চাচার চামড়াকাণ্ড
ছবি জেমিনি এআই

শাকপালা গ্রামের মানুষজন এমনিতেই একটু রসিক প্রকৃতির। এখানে কারও হাঁস ডিম কম দিলেও সেটা নিয়ে তিন দিন আলোচনা চলে। আর কোরবানির ঈদ এলে তো পুরো গ্রামটাই যেন হাসি-আনন্দের মেলায় পরিণত হয়!
গ্রামের সবচেয়ে আলোচিত মানুষ সোনাই চাচা। গোলগাল চেহারা, মাথাভর্তি সাদা চুল আর বিশাল গোঁফ—দেখলেই মনে হয় তিনি গ্রামের চেয়ারম্যান না হলেও অন্তত হাসির মন্ত্রী। তবে নিজের বিষয়ে তার ধারণা আরও বড়। তিনি প্রায়ই বলেন,
–এই গ্রামে আমার মতো অভিজ্ঞ মানুষ আর দুইটা নাই!
এবার ঈদে সোনাই চাচা এক বিশাল বোম্বাই ষাঁড় কোরবানি দিলেন। গরুটা এত বড় ছিল যে, পাশের বাড়ির রফিক মিয়া বলল–চাচা, এই গরু তো দেখে মনে হয় হাইস্কুলের হেডমাস্টার!
কোরবানি শেষ হতে না হতেই শুরু হলো চামড়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। সোনাই চাচা চামড়ার দিকে এমন নজরে তাকিয়ে আছেন, যেন ওটা সোনার খনি।
তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, চামড়া সাবধানে ধরো। গত বছর জব্বাররা ভাঁজ কইরা এমন অবস্থা করছে, মনে হইছিল পুরান বালিশের কভার!
পাশ থেকে রঞ্জু হেসে বলল–চাচা, চামড়া কি ইস্ত্রি কইরা রাখুম?
সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
এদিকে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা এল—চামড়া এতিমখানায় দিলে ভালো হয়। তখনই গ্রামের সবাই হঠাৎ দানবীর হয়ে গেল।
জব্বার বলল, আমি আমার চামড়া মাদ্রাসায় দিমু।
রঞ্জু বলল, আমি এতিমখানায়।
সোনাই চাচা গোঁফে হাত বুলিয়ে বললেন, আমি দুই জায়গাতেই দিতে চাই, কিন্তু গরু তো একটা!
আবারও হাসির ঝড় উঠল উঠানে।
এদিকে গ্রামের তিন দুরন্ত ছেলে লিটু, মিঠু আর সেন্টু—চুপিচুপি অন্য ফন্দি আঁটছিল। তারা ঠিক করল, চামড়া দিয়ে একটা ভূত বানাবে। সন্ধ্যার পর মানুষকে ভয় দেখানো হবে।
রাত নামতেই তারা বাঁশঝাড়ের পাশে চামড়াটা খুঁটির সঙ্গে টাঙিয়ে দিল। দূর থেকে দেখে সত্যিই মনে হচ্ছিল, কোনো আজব প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে।
ঠিক তখন সোনাই চাচা টর্চ হাতে সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ টর্চের আলো চামড়ার ওপর পড়তেই তিনি থমকে গেলেন। চামড়ার ভেতর থেকে সেন্টু চাপা গলায় বলল, আমি চামড়ার আত্মা!
সোনাই চাচার মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ইন্নালিল্লাহ… চামড়ারও আবার আত্মা আছে নাকি!
তার পর এমন দৌড় দিলেন যে, স্যান্ডেল একদিকে আর লুঙ্গির গিঁট অন্যদিকে চলে গেল।
পরদিন সকালে পুরো শাকপালা গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ল—সোনাই চাচা নাকি চামড়ার ভেতর ভূত দেখেছেন!
চায়ের দোকানে সবাই মজা নিচ্ছে। 
রঞ্জু বলল–চাচা, ভূত কি চামড়ার দাম চাইছিল?
সোনাই চাচা এবারও গম্ভীর মুখে বললেন, ভূতটা খুব ভদ্র আছিল। আগে সালাম দিছে!
এই কথা শুনে দোকানের লোকজন এমন হেসে উঠল যে, এক লোকের হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেল!
শেষ পর্যন্ত লিটু, মিঠু আর সেন্টুর দুষ্টুমি ধরা পড়ে গেল। সোনাই চাচা প্রথমে রাগ দেখালেও পরে নিজেই হেসে বললেন, ঠিক আছে, তোদের জন্যই গ্রামের মানুষ দুই দিন হাসছে। এই হাসিরও কম দাম না!
তার পর চামড়াটা দান করে তিনি বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলেন। পশ্চিম আকাশে তখন নরম লাল আলো। গ্রামের রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে আছে ঈদের আনন্দ, আর মানুষের মুখে মুখে ভাসছে সেই বিখ্যাত কথা, চামড়ার ভেতরেও নাকি আত্মা আছে!

নাক ডাকলে ঘুম আসে

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
নাক ডাকলে ঘুম আসে
এঁকেছেন মাসুম

আনিস সাহেবের নাকের ডাক কোনো সাধারণ শব্দ নয়। এটি একাধারে কামানের গর্জন, মালবাহী ট্রেনের ব্রেক কষার আওয়াজ এবং মেঘের ডাকের এক অপূর্ব ককটেল। বিয়ের আগে আনিস সাহেবের মা বলেছিলেন, ‘আমার ছেলেটা একটু নাক ডাকে বাবা, তবে মনটা বড় ভালো।’
বিয়ের প্রথম রাতেই আনিস সাহেবের স্ত্রী সুফিয়া বুঝতে পেরেছিলেন, ওই ‘একটু’ শব্দের গভীরতা কতখানি। বিয়ের পর প্রথম তিন মাস সুফিয়ার কেটেছিল সম্পূর্ণ ঘুমহীন অবস্থায়। আনিস সাহেবের নাক ডাকা শুরু হলেই সুফিয়ার মনে হতো, ঘরের ছাদ বুঝি এইমাত্র ভেঙে মাথায় পড়ল। বালিশচাপা দিয়ে, কানে তুলো গুঁজে, এমনকি বারান্দায় গিয়েও সেই শব্দের হাত থেকে রেহাই মেলেনি। 
অতিষ্ঠ হয়ে সুফিয়া একদিন আনিস সাহেবকে বললেন, ‘তোমার এই নাকের ট্রেনের হর্ন বন্ধ না হলে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব।’ 
আনিস সাহেব পড়লেন মহাফাঁপরে। তিনি পরিচিত ডাক্তার মন্টু বিশ্বাসের কাছে গেলেন। 
মন্টু বাবু চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বললেন, ‘মিয়া ভাই, নাক ডাকা বন্ধের ওষুধ তো নেই। তবে একটা থেরাপি আছে। আজ থেকে ভাবিকে বলবেন, আপনি ঘুমানোর পর উনি যেন আপনার নাকের ডাক রেকর্ডিং করে শোনেন। সাইকোলজি বলে, নিজের স্বামীর আওয়াজ শুনলে নাকি স্ত্রীদের মন শান্ত হয়।’
আনিস সাহেব বাড়ি ফিরে সুফিয়াকে বুঝিয়ে রাজি করালেন। প্রথম রাতে সুফিয়া মোবাইলে আনিস সাহেবের সেই বিকট নাক ডাকা রেকর্ড করলেন। শব্দের তীব্রতায় মোবাইল ফোনটাই যেন কেঁপে কেঁপে উঠছিল। 
পরদিন দুপুরে আনিস সাহেব যখন অফিসে, তখন সুফিয়ার ভীষণ ক্লান্তি লাগল। ভাবলেন একটু ঘুমাবেন, কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। এপাশ-ওপাশ করতে করতে হঠাৎ তার আনিস সাহেবের সেই রেকর্ডিংটার কথা মনে পড়ল। রসিকতা করেই তিনি রেকর্ডিংটা চালু করলেন।
ঘরজুড়ে বেজে উঠল–ঘঁড়ড়ড়...ঘঁড়ড়ড়...ফুসসস! 
কী অদ্ভুত কাণ্ড! তিন মাস ধরে যে শব্দ সুফিয়ার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল, সেই শব্দ শোনার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় তার চোখজোড়া ভারী হয়ে এল। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সুফিয়া একদম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেলেন! 
আসলে গত কয়েক মাসে সুফিয়ার কান এই শব্দের সঙ্গে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যে, এখন এই শব্দটাই তার জন্য ঘুমপাড়ানি গান হয়ে উঠেছে! এটা না শুনলে তার মস্তিষ্ক সিগন্যালই পাচ্ছিল না যে এখন ঘুমানোর সময় হয়েছে।
বিকেলে আনিস সাহেব অফিস থেকে ফিরে দেখলেন সুফিয়া পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, আর পাশে মোবাইলে তখনও বাজছে–ঘঁড়ড়ড়...ফুঁসসস...
আনিস সাহেব অবাক হয়ে সুফিয়াকে ডেকে তুললেন। সুফিয়া চোখ ডলতে ডলতে বললেন, ‘ওগো, ডাক্তার বাবু ঠিকই বলেছেন! তোমার নাক ডাকার আওয়াজটা আসলে একটা মিউজিক। এটা শুনলে আমার এত চমৎকার ঘুম আসে যা কোনোদিন আসেনি!’
এর পর থেকে আনিস সাহেবের সংসারে শান্তি ফিরে এল। আনিস সাহেব যখনই অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যান, সুফিয়া তখন ঘুমানোর জন্য কানে হেডফোন গোঁজেন। হেডফোনে তখন উচ্চশব্দে বাজতে থাকে আনিস সাহেবের সেই সিগনেচার টিউন– ঘঁড়ড়ড়...ঘঁড়ড়ড়...ফুঁসসস!  
আর সুফিয়া মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

জনৈক যুবকের পুঞ্জীভূত কষ্ট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
জনৈক যুবকের পুঞ্জীভূত কষ্ট
এঁকেছেন মাসুম

বাবা মালাইভোগ খুব পছন্দ করতেন। তারই আলোকে ছেলের নাম রেখেছিলেন মালাই-উর-রেহমান। একটু আনকমন নাম, কিন্তু প্রতিবেশীরা ব্যাপারটি মেনে নিয়েছিলেন। মালাইয়ের বন্ধুরাও মানবতার খাতিরে আপত্তি করেননি। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল প্রেম করতে গিয়ে। ক্লাসমেট রিমঝিমকে পছন্দ করলেন, কিন্তু রিমঝিমের এক কথা, ‘মালাই খাওয়ার জিনিস, প্রেম করার জিনিস না। এই নামের কোনো মানুষের সঙ্গে প্রেম-ভালোবাসা হতে পারে না। আগে নাম চেঞ্জ করেন, তার পর এ ব্যাপারে ভাবব।’ 
সেদিনই মালাই-উর-রেহমান দৃপ্ত শপথ নিলেন, ‘মালাইভোগ খাইয়ে রিমঝিমকে বোঝাব মালাই কী জিনিস! মালাই ভালো লাগলে মালাই-উর-রেহমানকেও ভালো লাগবে। তার পর নিশ্চয়ই সে প্রেমের জালে ধরা দেবে।’
যেমন ভাবা তেমন কাজ। প্রাথমিক পরিকল্পনা করার জন্য মালাই-উর-রেহমান তার বন্ধুবর হিমেলের বাসায় তশরিফ আনলেন। ঘটনা শুনে হিমেল অবাক, “এই আক্রার বাজারে রিমঝিমকে মালাইভোগ কীভাবে খাওয়াবি? যে দাম রে বাবা! তার চেয়ে চল ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ এনে খাওয়াই। স্বাদে দারুণ, আবার খরচও কম।” 
মালাই-উর-রেহমান এবার বিরক্ত না হয়ে পারলেন না, “ধুর ব্যাটা, রিমঝিম তো পোলা না যে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ খাবে? ওকে মালাইভোগই খাওয়াব।” 
অগত্যা কী আর করা, দুই বন্ধু মালাইভোগ জোগাড় করার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। এই দোকান, সেই দোকান ঘুরে কোথাও মালাইভোগ না পেয়ে যখন মালাই-উর-রেহমান দিশাহারা, ঠিক তখনই মোবাইল বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করে বললেন, ‘হ্যালো, মালাই হেয়ার।’ 
ওপাশ থেকে জবাব এলো, ‘ভাই, আপনে কি মালাইভোগ খুঁজবার লাগছেন?’ 
মালাই-উর-রেহমানের চোখ জ্বল জ্বল করে উঠল, ‘জি ভাই। আপনার কাছে মালাইভোগ আছে নাকি?’ 
‘জি না, নাই। তবে আপনে চাইলে মালাইভোগ বানানোর রেসিপি আর সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারি।’–অপর পাশ থেকে জবাব এল। 
মালাই-উর-রেহমান এমনই একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। দেরি না করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘অবশ্যই সরবরাহ করবেন। কোথায় আসতে হবে বলেন?’
ঘণ্টা দুই পরের কথা। মালাই-উর-রেহমান মালাইভোগ বানানোর রেসিপি হাতে তার কিচেনে বসে আছেন। রেসিপিতে লেখা–
আইটেম : মালাইভোগ
উপকরণ : ছানা ১ কাপ, দুধ ২  লিটার, সুজি ১ চা চামচ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, বাটার অয়েল আধা চা চামচ, বেকিং পাউডার এক চিমটি, চিনি ৩ কাপ, পানি ৬ কাপ, মালাই সিকি কাপ, ক্ষীরশা সিকি কাপ, এলাচ গুঁড়া সামান্য।
প্রণালি : মালাই, ক্ষীরশা, এলাচ গুঁড়া একসঙ্গে ব্লেন্ডারে অথবা মিক্সিতে মিক্স করে রাখতে হবে। ময়দা, বাটার অয়েল, বেকিং পাউডার একসঙ্গে ঘোঁটা দিয়ে সুজি ও দুধ ছেড়ে দিতে হবে। তার পর জাল দিয়ে দুধ টানিয়ে নিতে হবে। দুধ টানানো শেষ হলে ছানা দিয়ে আবার মাখতে হবে। মিশ্রিত ছানা ১২ ভাগ বা ইচ্ছামতো ভাগ করে গোল্লা বানিয়ে হাত দিয়ে চ্যাপ্টা করে শিরায় ছাড়তে হবে। ২০ থেকে ২২ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে জ্বাল দিতে হবে। চুলা বন্ধ করে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে। মিষ্টিগুলো চার-পাঁচ ঘণ্টা সিরায় ভিজিয়ে রেখে সিরা থেকে উঠিয়ে টিস্যু পেপারের ওপর কিছুক্ষণ রেখে মাঝখানে চিরে দুই ভাগ করে মালাই ক্ষীরশার মিশ্রণের প্রলেপ দিয়ে ওপরে কিশমিশ সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
মালাই-উর-রেহমান দেরি না করে কাজে হাত দিলেন। রেসিপি দেখে মালাইভোগ বানাতে খুব একটা সময় লাগল না। এবার রিমঝিমের সামনে পরিবেশনের পালা। 
পরের দিন ক্লাসে এসে মালাইভোগ পেশ করতেই রিমঝিম খুশি মনে টপাটপ গলাধঃকরণ করলেন। তার পর এল আবার প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পালা। প্রস্তাব শুনে রিমঝিম বললেন, ‘এত চমৎকার খাবারের সঙ্গে আপনার নামের এত্ত মিল! আমি অভিভূত। আপনার প্রস্তাব আমি মানব কি মানব না, তা রাতে জানাব। মিসকল দিলে ব্যাক করবেন কেমন?’
সময় যেন আর কাটে না। মালাই-উর-রেহমান বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পায়চারি করে কাটালেন। তার পর এল রাত। কিন্তু মিসকল তো আসে না। ১টা বাজল, ২টা বাজল, ৩টার সময় মালাই-উর-রেহমান আর ধৈর্য ধরতে পারলেন না। রিমঝিমের মোবাইলে ফোন করলেন। তিন রিং হতেই ফোন রিসিভ হলো। মালাই বললেন, ‘হ্যালো রিমঝিম, মিসকল দেওয়ার...।’ 
কথা শেষ হওয়ার আগেই ওপাশ থেকে কেউ একজন বললেন, ‘আমি রিমঝিমের মামা বলছি। রিমঝিম তো হাসপাতালে। কে যেন ওকে মাখনের পানি আর ফরমালিন দিয়ে বানানো নকল দুধের খাবার খাইয়েছে। সেই থেকে চলছে ডায়রিয়া। আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। একটু সুস্থ হোক, তার পর যে ব্যাটা খাইয়েছে তার ১২টা বাজাব।’ 
মামার কথা শুনে মালাই-উর-রেহমান অধিক শোকে পাথর হয়ে গেলেন।

কাঠের পুতুল

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
কাঠের পুতুল
এঁকেছেন মাসুম

গ্রামের নাম ছিল চকচকিয়া। ছোট্ট শান্ত গ্রাম। তবে সেখানে এক অদ্ভুত মানুষ থাকতেন। নাম তার মোকছেদ কারিগর। তিনি কাঠ দিয়ে নানারকম পুতুল বানাতেন। পুতুলগুলোর কারও হাতে বাঁশি, কারও মাথায় টুপি, আবার কেউ যেন হুবহু গ্রামের মাতবরের মতো দেখতে!
মোকছেদ কারিগরের দোকানের সামনে সব সময় ভিড় লেগেই থাকত। শিশুরা আসত পুতুল কিনতে, বড়রা আসত হাসাহাসি করতে। কারণ, মোকছেদ চাচার পুতুলগুলো শুধু পুতুল ছিল না–মনে হতো যেন গ্রামের মানুষেরই ছোট সংস্করণ।
একদিন তিনি বানালেন এক বিশেষ পুতুল। নাম দিলেন–‘জনাব জব্বার আলি’। পুতুলটার মাথা বড়, গোঁফ বাঁকা, আর মুখে সবসময় হাসি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, পুতুলটার পেটে একটা ছোট বোতাম ছিল। বোতাম চাপলেই সে কথা বলত।
–আমি গ্রামের সবচেয়ে জ্ঞানী লোক!
–আমার কথা ছাড়া এক পা-ও চলবে না!
–আমি না থাকলে সূর্যও উঠতে ভয় পায়!
এই কথা শুনে গ্রামের সবাই হো হো করে হাসত। কিন্তু আসল মজা শুরু হলো রবিবার হাটের দিন ।
সেদিন গ্রামের মাতবর জব্বার আলি নিজেই ডেমরা হাটে এলেন। তিনি ছিলেন দাম্ভিক মানুষ। সবসময় বুক ফুলিয়ে হাঁটতেন আর সুযোগ পেলেই বলতেন, আমার মতো বুদ্ধিমান এই গ্রামে আর কেউ নেই!
হাটে ঢুকতেই তিনি শুনলেন, আমি গ্রামের সবচেয়ে জ্ঞানী লোক!
জব্বার আলি থমকে গেলেন। চারদিকে তাকিয়ে দেখলেন, একটা কাঠের পুতুল একই কথা বলে যাচ্ছে। লোকজন আবার হাসছে।
তিনি রাগে লাল হয়ে বললেন, এই পুতুল কে বানিয়েছে?
মোকছেদ কারিগর মাথা নিচু করে বললেন,
–আমি বানিয়েছি, মাতবর সাহেব।
–এটা কি আমাকে নিয়ে বিদ্রূপ?
মোকছেদ চাচা মুচকি হেসে বললেন, না না, এটা তো শুধু কাঠের পুতুল। কাঠ কি কখনো মানুষের মতো কথা বলতে পারে নাকি?
চারপাশে আবার হাসির রোল পড়ে গেল। জব্বার আলি আরও রেগে গেলেন। তিনি পুতুলটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলেন। হঠাৎ ভুল করে পেটের বোতামে চাপ পড়ে গেল।
পুতুল বলে উঠল, আমি ভুল করলেও কখনো ভুল স্বীকার করি না!
এবার তো সবাই হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল। কেউ হাঁটুতে হাত চাপড়ায়, কেউ চোখের পানি মোছে।
জব্বার আলি মুখ গোমরা করে বললেন, এই পুতুল আমি কিনে নিলাম!
তিনি অনেক টাকা দিয়ে পুতুলটা কিনে বাড়ি নিয়ে গেলেন। ভাবলেন, রাতে চুপিচুপি পুড়িয়ে ফেলবেন। কিন্তু রাতে ঘটল অন্য ঘটনা।
ঘরের মধ্যে হঠাৎ আওয়াজ–
–আমি সবচেয়ে বড় নেতা!
–আমার কথাই শেষ কথা!
জব্বার আলি ভয় পেলেন। তাকিয়ে দেখেন, তার ছোট ছেলে বোতাম টিপে টিপে হাসছে।
ছেলেটা বলল, আব্বা, এই পুতুলটা তো তোমার মতো কথা বলে! 
জব্বার আলি হতাশ হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলেন। তার পর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, তা হলে কি আমি সত্যিই এমন হয়ে গেছি?
পরদিন সকালে তিনি আবার মোকছেদ কারিগরের দোকানে গেলেন। সবাই ভাবল, এবার বুঝি ঝামেলা হবে। কিন্তু না, জব্বার আলি শান্ত গলায় বললেন, মোকছেদ, তোমার পুতুল আমাকে একটা শিক্ষা দিয়েছে। মানুষ যখন নিজের কথা ছাড়া কিছুই শুনতে চায় না, তখন সে কাঠের পুতুলের মতোই হয়ে যায়।
মোকছেদ চাচা হেসে বললেন, কাঠের পুতুলের সমস্যা কি জানেন? ওরা নিজেরা নড়ে না, অন্যের সুতোয় নড়ে।
সেদিনের পর থেকে জব্বার আলি বদলে গেলেন। আগের মতো আর অহংকার করতেন না। গ্রামের মানুষের কথা মন দিয়ে শুনতেন।
আর মোকছেদ কারিগরের দোকানের সামনে নতুন একটা সাইনবোর্ড ঝুলল–‘এখানে কাঠের পুতুল বিক্রি হয়,
কিন্তু মানুষ যেন পুতুল না হয়!’

একটি আধুনিক অফিস

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১১:০১ এএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ১১:০৪ এএম
একটি আধুনিক অফিস
এঁকেছেন মাসুম

এক দেশে ছিল এক পিঁপড়া। সে প্রতিদিন ঠিক সকাল ৯টায় অফিসে ঢুকত। তার পর সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পগুজবে একটুও সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে কাজে বসে যেত। সে যে পরিমাণ কাজ করত, তাতে কোম্পানির উৎপাদন হতো প্রচুর এবং এর ফলে সে আনন্দের সঙ্গেই জীবন নির্বাহ করত।
ওই অফিসের সিইও সিংহ অবাক হয়ে দেখত, এই পিঁপড়াটি কোনো ধরনের সুপারভিশন ছাড়াই প্রচুর কাজ করছে। সিংহ ভাবল, পিঁপড়াকে যদি কারও সুপারভিশনে দেওয়া হয়, তা হলে সে আরও বেশি কাজ করতে পারবে।

কয়েক দিনের মধ্যেই সিংহ একটি তেলাপোকাকে পিঁপড়ার সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করল। সুপারভাইজার হিসেবে এই তেলাপোকাটির ছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। আর রিপোর্ট লেখার কাজে সে ছিল অসাধারণ।

তেলাপোকাটি প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিল, তার একজন সেক্রেটারি দরকার, যে তাকে রিপোর্ট লিখতে সাহায্য করবে। সে একটা মাকড়সাকে নিয়োগ করল এই কাজে, যে সব ফোনকল মনিটর করবে, আর নথিপত্র ঠিকঠাক রাখবে।

সিংহ খুব আনন্দ নিয়ে দেখল যে তেলাপোকা তাকে প্রতিদিনের কাজের হিসাব দিচ্ছে আর সেগুলো বিশ্লেষণ করছে গ্রাফের মাধ্যমে। ফলে খুব সহজেই উৎপাদনের ধারা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাচ্ছে এবং সিংহ সেগুলো বোর্ড মিটিংয়ে ‘প্রেজেন্টেশন’ আকারে পেশ করে বাহবা পাচ্ছে।
কিছুদিনের মধ্যেই তেলাপোকার একটি কম্পিউটার ও লেজার প্রিন্টার প্রয়োজন হলো এবং এগুলো দেখভালের জন্য আইটি ডিপার্টমেন্ট গঠন করল। আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পেল মাছি।

আমাদের সেই কর্মী পিঁপড়া, যে প্রতিদিন অফিসে এসে প্রচুর কাজ করে মনের সুখে গান গাইতে গাইতে বাসায় ফিরত, তাকে এখন প্রচুর পেপার ওয়ার্ক করতে হয়। সপ্তাহের চার দিনই নানা মিটিংয়ে হাজিরা দিতে হয়। নিত্যদিন এসব ঝামেলার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটায় উৎপাদন কমতে লাগল। স্বাভাবিকভাবেই সে এতে বিরক্ত হতে লাগল।

এর পর সিংহ ভাবল, পিঁপড়া যে বিভাগে কাজ করে, সেটাকে একটা আলাদা ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে সেটার একজন ডিপার্টমেন্ট প্রধান নিয়োগ করার এটাই উপযুক্ত সময়। সে ঝিঁঝি পোকাকে ওই ডিপার্টমেন্টের প্রধান হিসেবে নিয়োগ করল। ঝিঁঝি পোকা প্রথম দিন এসেই তার রুমের জন্য একটা আরামদায়ক কার্পেট ও চেয়ারের অর্ডার দিল। 

কয়েক দিনের মধ্যেই অফিসের জন্য স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করতে ঝিঁঝি পোকার একটি কম্পিউটার ও ব্যক্তিগত সহকারীর প্রয়োজন হলো। কম্পিউটার নতুন কেনা হলেও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ঝিঁঝি পোকা নিয়োগ করল তার পুরোনো অফিসের একজনকে।
পিঁপড়া যেখানে কাজ করে, সেখানে আগে ছিল চমৎকার একটা পরিবেশ। এখন সেখানে কেউ কথা বলে না, হাসে না। সবাই খুব মনমরা হয়ে কাজ করে।

ঝিঁঝি পোকা পরিস্থিতি উন্নয়নে সিংহকে বোঝাল, ‘অফিসে কাজের পরিবেশ’ শীর্ষক একটা স্টাডি খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। পর্যালোচনা করে সিংহ দেখতে পেল, পিঁপড়ার বিভাগে উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। কাজেই সিংহ কয়েক দিনের মধ্যেই স্বনামখ্যাত কনসালট্যান্ট প্যাঁচাকে অডিট রিপোর্ট এবং উৎপাদন বাড়ানোর উপায় বাতলে দেওয়ার জন্য নিয়োগ করল।

প্যাঁচা তিন মাস পিঁপড়ার ডিপার্টমেন্ট মনিটর করল। সবার সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলল। তার পর বেশ মোটাসোটা একটা রিপোর্ট পেশ করল সিংহের কাছে। ওই রিপোর্টের সারমর্ম হলো, এই অফিসে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী বেশি। কর্মী ছাঁটাই করা হোক।

পরের সপ্তাহেই বেশ কয়েকজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হলো। বলুন তো, কে সর্বপ্রথম চাকরি হারাল? ঠিকই ধরেছেন, ওই হতভাগ্য পিঁপড়া। কারণ প্যাঁচার রিপোর্টে লেখা ছিল, ‘এই কর্মীর মোটিভেশনের ব্যাপক অভাব রয়েছে এবং সর্বদাই নেতিবাচক আচরণ করছে, যা অফিসের কর্মপরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত করছে।’