শীত মৌসুমে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে কুমড়াবড়ি তৈরির ধুম পড়েছে। দিন দিন এই বড়ির চাহিদাও বাড়ছে। কুমড়াবড়ি এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের শতাধিক পরিবার এই কাজের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে এই বড়ি তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা।
সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর, কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও উল্লাপাড়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে কুমড়াবড়ি তৈরির কাজ চলছে। বর্তমানে প্রায় ১০০টি পরিবার এই কাজে জড়িত। এ জেলার অনেক নারী একত্রিত হয়ে কুমড়াবড়ি তৈরি করেন। তারা উপকরণ একত্রিত করে তার পর ছোট ছোট বড়ি তৈরি করে রোদে শুকাতে দেন। কুমড়াবড়ির তৈরি পদ্ধতি অত্যন্ত নিখুঁত এবং সময়সাপেক্ষ। মাষকলাই ডাল ভিজিয়ে, চালকুমড়া কুচি কুচি করে কাটার পর, ওই উপকরণগুলো মাখিয়ে শুকানোর জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। তিন থেকে চার দিন রোদে শুকানোর পর বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়।
উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া গ্রামের শিল্পী রানী জানান, তারা শীতের সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কুমড়াবড়ি তৈরি করেন। যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং সূর্য ভালো থাকে, তবে বড়ি তৈরি হতে তিন-চার দিন সময় লাগে। তবে যদি মেঘলা আকাশ বা কম রোদ থাকে, তখন বড়ি শুকাতে সময় বেশি লাগে এবং এই বড়ির দামও কম হয়ে যায়।
সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের নিয়তী বালা জানান, এক কেজি মাষকলাই দিয়ে ৬০০ গ্রাম বড়ি তৈরি হয়। এক কেজি বড়ি তৈরিতে প্রায় ১৫৫ টাকার মতো খরচ হয় এবং বাজারে ৩৮০-৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
এ কাজে নারী শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি সম্পর্কে ব্যবসায়ী আল-আমিন জানান, নারীরা সকালে শীতল পরিবেশে কুমড়া, চাল, মাষকলাই মিশিয়ে বড়ি তৈরি করেন। তারা প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা মজুরি পান। এতে তাদের সংসারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরছে।
কুমড়াবড়ি তৈরির ব্যবসা এখন এক ধরনের পারিবারিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর কুমড়াবড়ির চাহিদা অনেক বেড়েছে। সাধারণ মানের কুমড়ার বড়ি প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ভালোমানের কুমড়ার বড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব বড়ি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও প্রবাসীদের কাছেও পাঠানো হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুইচিং মং মারমা জানিয়েছেন, কুমড়ার বড়ি তৈরির মাধ্যমে বহু পরিবারের জীবনমান উন্নত হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় ঋণের ব্যবস্থা করে ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা হবে।
সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক জাফর বায়েজীদ বলেন, ‘নারীরা কুমড়াবড়ি তৈরির মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সংসারে সচ্ছলতা ফিরছে।’ তিনি জানান, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই কাজে আরও সাফল্য অর্জন সম্ভব।