ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি হঠাৎ ঘটে, কোনো পূর্ব সংকেত ছাড়াই মাটি কেঁপে ওঠে। ঘরের জিনিসপত্র নড়তে থাকে, দেয়াল কাঁপে, কখনো কখনো জোরে শব্দও হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু ভয় না পেয়ে যদি তুমি সঠিক কাজ করতে পারো, তাহলে নিজেকে খুব সহজে নিরাপদ রাখতে পারবে।
প্রথম কথা হলো- তুমি ভয় পাবে না, শান্ত থাকবে। চারপাশ কাঁপতে শুরু করলেই অনেকেই ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। কিন্তু দৌড়াদৌড়ি করলে পড়ে গিয়ে আঘাত লাগতে পারে বা কোনো ভারী জিনিস তোমার ওপর পড়ে যেতে পারে। তাই নিজের জায়গায় থেমে গিয়ে দ্রুত আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
তুমি যদি ঘরের ভেতরে থাকো, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি শক্ত টেবিল, খাট বা ডেস্কের নিচে ঢুকে পড়ো। দুই হাত দিয়ে তোমার মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখবে। যদি কাছে কোনো টেবিল বা খাট না পাও, তাহলে দেয়ালের এক পাশে বসে পড়ো এবং মাথা নিচু করে হাত দিয়ে ঢেকে রাখো। জানালা, আয়না, আলমারি, বইয়ের তাক বা ঝুলন্ত ফ্যান থেকে দূরে থাকবে। কারণ এগুলো পড়ে গিয়ে তোমাকে আহত করতে পারে।
তুমি যদি স্কুলে বা ক্লাসরুমে থাকো, তাহলে তোমার শিক্ষক যা বলবেন, তা মন দিয়ে শুনে সেই অনুযায়ী কাজ করবে। বেঞ্চ বা ডেস্কের নিচে ঢুকে পড়বে এবং মাথা ঢেকে রাখবে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে ব্যাগটি মাথার ওপর ধরে রাখতে পারো, এতে বাড়তি সুরক্ষা পাওয়া যায়। কখনোই দরজার দিকে হুড়োহুড়ি করে দৌড়াবে না।
তুমি যদি রাস্তায় বা খোলা জায়গায় থাকো, তাহলে কোনো বড় ভবন, দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা গাছ থেকে দূরে গিয়ে খোলা স্থানে দাঁড়াও অথবা বসে পড়ো। এ ধরনের জিনিস যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে যেতে পারে। তাই যতটা সম্ভব খোলা জায়গায় থাকতে চেষ্টা করবে।
ভূমিকম্প থামার পরও সাবধান থাকতে হবে। কারণ আবার ছোট ছোট কম্পন (যাকে আফটারশক বলে) হতে পারে। তখনো ধসে পড়া বাড়ি বা দেয়ালের কাছে যেও না। ভাঙা কাচ, ধারালো টিন বা ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করবে না। যদি কোথাও আগুন বা ধোঁয়া দেখতে পাও, তাহলে সেই দিক এড়িয়ে চলবে এবং বড়দের জানাবে।
আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে বিপদের
সময় আরও ভালোভাবে নিজেকে সামলাতে পারবে। তাই বাসায় একটি নিরাপদ কোণ ঠিক করে রাখো। পরিবারের সবাইকে বলো, ভূমিকম্প হলে কে কোথায় থাকবে। তোমার স্কুল ব্যাগে ছোট করে একটি পানির বোতল, কিছু শুকনো খাবার আর একটি ছোট টর্চ রাখলে ভালো। জরুরি প্রয়োজনে এগুলো কাজে আসতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- সচেতনতা আর সাহস। যদি তুমি সচেতন থাকো এবং ভয় না পেয়ে বুদ্ধি দিয়ে কাজ করো, তাহলে ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগের মধ্যেও নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবে।