নীল আকাশের রাজ্য। সেখানে থাকে সাদা তুলার মতো নরম মেঘ। অন্যদিকে ছোট্ট কুলসুমের বাড়ির পাশেই সাদা পাহাড়ের কোলঘেঁষে থাকে লাজুক কুয়াশা। দুজনেই হালকা আর নরম, কিন্তু দেখা হতো খুব কম। কুলসুম ভোরবেলা উঠেই মাঝে মাঝে মেঘ ও কুয়াশার লুকোচুরি খেলা দেখত।
একদিন ভোরবেলায় কুয়াশা পাহাড় ছেড়ে ধীরে ধীরে ওপরে উঠল। চারদিকে তখন ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। হঠাৎ সে দেখল, আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে হাসিখুশি মেঘ।
মেঘ বলল, আরে! তুমি কে?
কুয়াশা মিষ্টি হেসে বলল, আমি কুয়াশা। সাদা পাহাড়ের কোলঘেঁষে কুলসুমের বাড়ির পাশেই আমি থাকি। মাঝে মধ্যে ছোট্ট কুলসুমের সঙ্গে খেলি, তবে অনেক সময় সারা রাত ঘুমিয়ে থাকি। তবে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আমি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ি। আমার গায়ের সাদা চাদর দিয়ে পৃথিবীকে জড়িয়ে ধরি। একটু শীতল পরশ দিই। আর এই পরশে গাছপালা ও প্রকৃতির পরিবর্তন এনে দিই। এই পরিবর্তনের পর আবার তারা প্রাণ ফিরে পায়।
মেঘ কুয়াশার কথা শুনে খুব খুশি হলো। বলল, চলো, আজ আমরা একসঙ্গে খেলি।
মেঘ আর কুয়াশা লুকোচুরি খেলল। মেঘ তার ছায়া দিয়ে রোদ ঢেকে রাখল। ওদিকে কুয়াশা তার বিন্দু বিন্দু সাদা কণা দিয়ে মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, খাল-বিল ও সবুজ ভূমিকে ঢেকে দিল। পাখিরা ডানা ঝাপটিয়ে মধুর সুরে গান গাইল, আর গাছেরা শিশির কণায় ঝিলমিল করল।
কিন্তু তাদের খেলা শেষে রোদ উঠতেই কুয়াশা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল। কুয়াশা বলল, বন্ধু, আমাকে এখন যেতে হবে।
মেঘও বলল, বন্ধু, মন খারাপ কোরো না। সূর্যিমামা এসেছে। আমাকেও এখন যেতে হবে। আগামীকাল আবার দেখা হবে। আবার একসঙ্গে খেলব। আসতে ভুলো না কিন্তু।
পরদিন ভোরে আবার তারা দেখা করল। দুজনে খেলাধুলা করল কিছুক্ষণ। এভাবে পুরো শীতকাল প্রতিদিন ভোরে মেঘ আর কুয়াশা দেখা করতে লাগল।
ছোট্ট বন্ধুরা, মেঘ আর কুয়াশা আমাদের কী শেখাল? শেখাল বন্ধুত্ব মানে সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করা, পরস্পরের সহযোগিতা করা এবং সময় কম হলেও মন ভরে আনন্দ উপভোগ করা।