একদিন রাতে খোকা বাবার সঙ্গে বিছানায় শুয়ে জানালা দিয়ে চাঁদ দেখছিল। নরম সাদা আলোয় ভেসে যাচ্ছিল চারদিক। খোকা ভাবছিল, ‘এই চাঁদটা কি আসলেই গোল? সেখানে কি কেউ থাকে? দিদি তো বলে, চাঁদের বুড়ি সেখানে সুতা কাটে!’ ভাবতে ভাবতে খোকা চোখ বুজে ফেলল, আর ঠিক তখনই সে চলে গেল এক আশ্চর্য স্বপ্নে।
সে দেখল, এক সোনালি আলোয় ঘেরা সিঁড়ি আকাশ থেকে নেমে এসেছে, আর সে সেই সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছে। সিঁড়ির শেষে এক বিস্ময়কর জায়গা—চাঁদের দেশ! চারদিকে ধূসর রঙের পাহাড় আর ছোট ছোট গর্ত, যেগুলোকে বলে ‘ক্রেটার’। বাতাস নেই, শব্দ নেই, কেবল এক ধরনের নিঃশব্দ আলো চারপাশে।
হঠাৎ সে দেখতে পেল একজন বৃদ্ধা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছেন। তার মাথাভর্তি সাদা চুল, মুখে শান্তির ছায়া।
‘তুমি কি চাঁদের বুড়ি?’ খোকা প্রশ্ন করল।
বুড়ি হাসলেন, ‘হ্যাঁ, আমি সেই চাঁদের বুড়ি। এসো, তোমায় নিয়ে চাঁদের রাজ্য ঘুরে দেখি।’
চাঁদের বুড়ি বললেন, ‘এই চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে কোনো বাতাস নেই বলে শব্দও শোনা যায় না। দিনের বেলায় তাপমাত্রা ১২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে, আর রাতে নেমে যায় মাইনাস ১৭৩ ডিগ্রিতে।’
খোকা বিস্ময়ে চেয়ে থাকল। সে মাটিতে ছোট ছোট লাফ দিল, যেন উড়ছে!
বুড়ি বললেন, ‘এখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর ছয় ভাগের এক ভাগ, তাই তুমি এত হালকা মনে করছ নিজেকে।’
‘মানুষ কি কখনো এখানে এসেছিল?’ খোকা জানতে চাইল।
বুড়ি বললেন, ‘হ্যাঁ, ১৯৬৯ সালে নিল আর্মস্ট্রং প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখেন। তারপর আরও অনেক মিশন হয়েছে।’
খোকা তখন বলল, ‘আপনি কি সব সময় এখানে থাকেন?”
চাঁদের বুড়ি হেসে বললেন, ‘আমি থাকি শুধু সেসব শিশুর স্বপ্নে, যারা চাঁদ দেখে ঘুমিয়ে পড়ে।’
এক ঝলক সাদা আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়ে গেল। খোকা চোখ খুলে দেখল, সে আবার তার নিজের বিছানায়। জানালার পাশে বসে চাঁদটা যেন সত্যিই তাকিয়ে আছে তার দিকে।
খোকা মনে মনে হাসল। এখন সে জানে, চাঁদ শুধু গল্পে নয়, সত্যি একটি বিস্ময়কর জগৎ—আর সেই জগতে চাঁদের বুড়ি স্বপ্ন হয়ে থেকে যান সব শিশুর কল্পনায়।