সবুজে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম হরিপুর। গ্রামটির চারপাশে আছে রঙিন ফুলের বাগান। আরও আছে আম আর তালগাছের সারি। সেই গ্রামেই থাকে ছোট্ট মেয়ে আলফিয়া। সে গ্রামের সবার চোখের মণি।
আলফিয়া খুব কৌতূহলী মেয়ে। সে প্রকৃতিকে খুব ভালোবাসে। স্কুল থেকে ফিরেই সে বই খাতা টেবিলে ফেলে ছুটে যায় ফুল, পাখি আর প্রজাপতিদের কাছে। তার এমন কাণ্ড দেখে মনে হয়, সে বই খাতার চেয়েও ভালোবাসে ফুল, পাখি আর প্রজাপতিদের।
একদিন বিকেলে আলফিয়া তাদের বাড়ির পেছনের বাগানে খেলছিল। হঠাৎ সে দেখল, একটি নীল-হলুদ রঙের প্রজাপতি ফুলের ওপর বসে আছে। প্রজাপতিটা ছিল অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা; তার ডানায় ছোট্ট ছোট্ট সোনালি দাগ। আলফিয়া মুগ্ধ হয়ে বলল, ‘ওহ্! তুমি কত সুন্দর!’
অদ্ভুতভাবে প্রজাপতিটা যেন তার কথা বুঝতে পারল। সে আলফিয়ার চারপাশে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগল। আলফিয়া খুশিতে হাততালি দিল। সেই দিন থেকেই প্রতিদিন বিকেলে প্রজাপতিটা আলফিয়ার কাছে আসত। আলফিয়া তার নাম রাখল টুনি।
দুজনের বন্ধুত্ব দিন দিন গভীর থেকে গভীরতর হয়ে গেল। আলফিয়া টুনিকে নানারকম ফুলের গল্প শোনাত। স্কুলের মজার মজার ঘটনা বলত। অন্যদিকে টুনি তাকে নিয়ে যেত বাগানের এক ফুল থেকে আরেক ফুলে। যেন রঙিন স্বপ্নের ভেতর দিয়ে হাঁটছে আলফিয়া। আলফিয়ার আরও মনে হতো সে যেন পরীর কোনো দেশ ঘুরছে!
একদিন হঠাৎ টুনি খুব মন খারাপ করে আলফিয়ার এল। তার ডানা কাঁপছিল। আলফিয়া চিন্তিত হয়ে বলল, ‘কী হয়েছে টুনি? তুমি এমন করছ কেন?’
টুনি ডানা ঝাপটে যেন ইশারায় কিছু বোঝাতে চাইল। আলফিয়া বুঝতে পারল, কিছু দুষ্টু ছেলে বাগানের প্রজাপতিদের ধরতে জাল এনেছে। তাই টুনি ভয় পেয়েছে। আলফিয়া সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিল, প্রজাপতিদের রক্ষা করবে। সে দৌড়ে গিয়ে দুষ্টু ছেলেদের বলল, ‘প্রজাপতিদের কেউ ধরো না কিন্তু। ওরা আমাদের বন্ধু। ওরা না থাকলে ফুলগুলোও কাঁদবে।’
দুষ্টু ছেলেরা প্রথমে হাসল, কিন্তু আলফিয়া যখন প্রজাপতির জীবন আর ফুলের উপকারিতা তুলে ধরল, তখন সবাই চুপ হয়ে গেল। তারা জাল সরিয়ে নিল। সবাই কথা দিল; আর কখনো ওরা প্রজাপতিদের কষ্ট দেবে না।
সেদিন বিকেলে পুরো বাগান ভরে গেল রঙিন প্রজাপতিতে। টুনি উড়ে এসে আলফিয়ার কাঁধে বসল। যেন ইশারায় বলছে, ‘ধন্যবাদ, বন্ধু।’
আলফিয়া খুশিতে বলল, ‘মানুষ, ফুল আর প্রজাপতি, আমরা সবাই বন্ধু।’
সেদিন থেকে হরিপুরের বাগান হয়ে উঠল প্রজাপতিদের নিরাপদ বাড়ি। আর আলফিয়া হলো প্রজাপতির বন্ধু।