প্রকৃতিতে এমন কিছু প্রাণী আছে, যাদের দেখলেই ‘ওয়াও!’ বলতে ইচ্ছে করে। ফ্রিলড নেকড লিজার্ড তেমনই এক আশ্চর্য প্রাণী। এই টিকটিকির সবচেয়ে মজার বিষয় হলো- ভয় পেলে সে গলার চারপাশে গোল হয়ে থাকা বড় এক ধরনের ছাতার মতো ‘ফ্রিল’ খুলে দেয়। তখন তাকে দেখতে ঠিক ছোট ড্রাগনের মতো লাগে! শিশুদের জন্য এই প্রাণীটি একেবারেই রোমাঞ্চকর।
পরিচয়
ফ্রিলড নেকড লিজার্ড মূলত এক ধরনের বড় টিকটিকি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Chlamydosaurus kingii। সাধারণত এদের দৈর্ঘ্য লেজসহ প্রায় ৮০-৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। শরীর বাদামি, ধূসর বা লালচে রঙের হয়, যাতে গাছের সঙ্গে সহজে মিশে থাকতে পারে। তবে গলার চারপাশের ফ্রিলটি খুললে রঙিন ও ভয়ংকর দেখায়- শত্রুকে ভয় দেখানোর জন্যই এ কৌশল।
বাসস্থান
এই লিজার্ড মূলত অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চল ও নিউগিনির বনভূমিতে বাস করে। তারা বেশি সময় কাটায় গাছের ডালে। উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া তাদের খুব পছন্দ। গাছে উঠতে এরা বেশ পটু, আবার প্রয়োজন হলে দুই পায়ে দৌড়েও পালাতে পারে- যা দেখতে ভীষণ মজার!
খাবার
ফ্রিলড নেকড লিজার্ড কী খায় জানো? এরা মূলত পোকামাকড় খেতে ভালোবাসে। পিঁপড়া, বিটল, মাকড়সা, ফড়িং- এসবই তাদের প্রিয় খাবার। কখনো কখনো ছোট টিকটিকি বা গাছের ফলও খায়। খাবার খুঁজতে এরা খুব ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে, তার পর ঝট করে আক্রমণ করে।
ভয় পেলে কী করে?
এই লিজার্ডের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো তার ফ্রিল। শত্রু কাছে এলে সে হঠাৎ মুখ হাঁ করে ফ্রিলটি খুলে দেয়। তখন সেটি ছাতার মতো বড় হয়ে যায়। সঙ্গে হিসহিস শব্দ করে- এতে শত্রু ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়।
ডিম দেওয়া ও বাচ্চা পালন
বর্ষাকালে স্ত্রী ফ্রিলড নেকড লিজার্ড মাটিতে গর্ত করে প্রায় ৮-২০টি ডিম দেয়। ডিমগুলো মাটির নিচে রেখে সে চলে যায়। কয়েক মাস পর ডিম ফুটে ছোট ছোট বাচ্চা বের হয়। জন্মের পর থেকেই তারা নিজেরাই খাবার খুঁজে নিতে পারে। ছোট হলেও তারাও প্রয়োজনে ছোট ফ্রিল মেলে ধরতে পারে!
কেন বিশেষ?
ফ্রিলড নেকড লিজার্ড আমাদের শেখায়- বুদ্ধি আর সাহস থাকলে আকার বড় না হলেও বিপদ থেকে বাঁচা যায়। গলায় কলারওয়ালা এ টিকটিকি তাই প্রকৃতির এক দারুণ মজার সৃষ্টি।