ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
Nagad desktop

ভয়াল ১২ নভেম্বরের ৫৫ বছর: সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছে না উপকূলবাসী

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০১ পিএম
ভয়াল ১২ নভেম্বরের ৫৫ বছর: সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছে না উপকূলবাসী
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে ঠিক ৫৫ বছর আগের কথা। বিশ্ব ইতিহাসের ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘গোর্কি’ আছড়ে পড়েছিল দক্ষিণের জনপদের ভোলা জেলাতে। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সর্বোচ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ে ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়। ১০-৩৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য গবাদিপশু ও ঘরবাড়ি ডুবে যায়। সেদিন লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল ভোলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার মনপুরা, চর নিজাম, ঢালচর, কুকরী-মুকরীসহ গোটা এলাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। স্থানীয়দের মতে সেই দিন ভোলা জেলার এমন কোনো গ্রাম ছিল না, যেখানে কেউ মারা যায়নি। গোর্কির আঘাতের ভয়াবহতা এতই নির্মম ছিল যার কথা মনে করলে আজও ভয়ে কেঁপে ওঠে ভোলাবাসীর প্রাণ। ২০১৭ সালের ১৮ মে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে সাইক্লোন ‘গোর্কি’কে। 

বিভীষিকাময় সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভোলার মনপুরা এলাকার সত্তর ঊর্ধ্ব বাসিন্দা মো. আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘১৯৭০ সালের ১০ নভেম্বর থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল, সঙ্গে ছিল হালকা বাতাস। ১২ নভেম্বর রাতে ঘূর্ণিঝড় প্রচণ্ডভাবে আঘাত হানে। তখন কোনো ধরনের সিগন্যাল বা আবহাওয়ার কোনো খবর ছিল না। সকালে দেখলাম, পানিতে সবকিছু ডুবে গেছে। নৌকাগুলো সব গাছের মাথায় আটকে আছে। গাছে গাছে মানুষের লাশ এবং সাপ একত্রে পেঁচিয়ে আছে। কত মানুষ যে মারা গেছে, সেই হিসাব করার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। নদীতে লাখ-লাখ মানুষের লাশ কচুরিপানার মতো ভাসছিল। সেই কথা মনে উঠলে এখনো গা শিউরে ওঠে।’ 

মো. আলমগীর গোলদার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে মারা যাওয়া মানুষদের গণকবর দেওয়া হয়েছে। এক কবরে কতজনকে দাফন করা হয়েছে সেই হিসাব করা সম্ভব হয়নি। সেই কথা মনে উঠলে এখনো গা শিউরে ওঠে। এখনো বাতাস-বৃষ্টি দেখলে বা কোনো সিগন্যালের কথা শুনলে ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে বসে থাকি।’

দুর্যোগপ্রবণ দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পরেই দুর্যোগ মোকাবিলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সচেতনতা বাড়েনি। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ঘটনার পর দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস দ্রুত জানানোর ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর ফলে দেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে। 

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় ‘গোর্কি’ ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ, এতে প্রায় ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০০৭ সালের ‘সিডর’, ২০০৯ সালের ‘আইলা’, ২০১৩ সালের ‘মহাসেন’, ২০১৬ সালের ‘রোয়ানু’, ২০১৭ সালের ‘মোরা’, ২০১৯ সালের ‘ফণী’ ও ‘বুলবুল’সহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়েও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইয়াস’, ‘আসানি’ ও ‘সিত্রাং’ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে কম। তবে সবগুলো ঝড়েই ফসল এবং কাঁচাবাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলবর্তী এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের পাশাপাশি সবুজ বনায়ন, বিশেষত ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ রোপণের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় প্রাণহানির সংখ্যা কমে এসেছে। 

বিশেষ করে সিডরের আগে এ ধরনের দুর্যোগে যেখানে লাখ লাখ লোক মারা যেত, তা হ্রাস পেয়ে এখন সেখানে হাতে গোনা কয়েকজনের প্রাণহানি হচ্ছে। তবে এতে করে এটা বলা যাবে না যে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করেছে। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করেই টিকে আছে। এখানে রাষ্ট্রের সক্ষমতার বিষয়টি মুখ্য নয়। ১৯৯১ সালের জলোচ্ছ্বাসের পর অবকাঠামোগত উন্নয়ন যা হয়েছে তা পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত নয়। তবে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় যেমন জনসচেতনতা দরকার, তেমনি দরকার ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সুপরিকল্পনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ। পাশাপাশি টেকসই সবুজবেষ্টনী তৈরি করা।’ 

বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আহসান হাবিব বলেন, ‘দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা। যেকোনো ঝড় বন্যার সময়ে বাতাস ও পানির তোড়ে এসব জেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায়। ফসলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এসব দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা সরকারের পুরোপুরি আছে তা বলার সুযোগ নেই। তবে যেটুকু আছে তা দিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের ৪ হাজারের ওপরে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশু-পাখির জন্য ৩০টির ওপরে কেল্লা রয়েছে। নতুন নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য শুধু সরকারের সক্ষমতা থাকলেই হবে না। এ জন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে আগে। সতর্কসংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে হবে। কিন্তু উপকূলের বেশির ভাগ মানুষ নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে চায় না। আবহাওয়া বার্তার প্রতি গুরুত্ব দেয় না। 

সিডরের সময়ে আবহাওয়া বার্তার প্রতি গুরুত্ব দিলে এ অঞ্চলের এত মানুষের প্রাণহানি হতো না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সিডরের পরে মানুষের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা ফিরে এসেছে। সরকার আগাম সতর্কবার্তা মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে প্রাণহানি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। 

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানায়, বিভাগের ৬ জেলায় ৪ হাজার ৯১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৭১টি, পটুয়াখালীতে ৯২৫টি, ভোলায় ১ হাজার ১০৪টি, পিরোজপুরে ৭১২টি, বরগুনায় ৬২৯টি ও ঝালকাঠিতে ৪৭৪টি। 

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ২০ লাখ মানুষের পাশাপাশি কয়েক লাখ গবাদিপশুও রাখা যাবে। এ ছাড়া ৬ হাজার ২৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১ হাজার ৬৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও দুর্যোগের সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। গবাদিপশুর রক্ষায় বিভাগের ৩৫টি কেল্লাও রয়েছে। 

বিভাগের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৩২ হাজার ৫০০ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। এ ছাড়াও, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অধীনে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায়।

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী আজ
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১ জুন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া গ্রামে মানিক মিয়ার জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৩৫ সালে বিএ পাস করে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

১৯৪৭ সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কর্তৃক কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি পদে যোগ দেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাপ্তাহিক ইত্তেফাকের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৩ সালে তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এ রূপান্তরিত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯৫৯ সালে তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ এবং নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ফলে তার প্রতিষ্ঠিত অন্য দুটি পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণী বন্ধ হয়ে যায়। গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার ইত্তেফাকের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ফলে ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি ফের প্রকাশিত হয়।

‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ আর ‘রঙ্গমঞ্চ’ শিরোনামে কলাম লিখে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলেন মানিক মিয়া। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি আমৃত্যু নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আজ বিশ্ব কচ্ছপ দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৩ মে বিশ্ব কচ্ছপ দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবগুলোর মধ্যে অন্যতম কচ্ছপ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, এই প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং এর সংরক্ষণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

আমেরিকান টরটয়েজ রেসকিউ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ২০০০ সাল থেকে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২৩ মে সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে ‘বিশ্ব কচ্ছপ দিবস’। বিশ্বজুড়ে কচ্ছপ ও তাদের বিলুপ্তপ্রায় আবাসস্থল রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

সরীসৃপ শ্রেণির উভচর প্রাণী কচ্ছপ পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন জীব হিসেবে পরিচিত। শান্ত স্বভাবের এই প্রাণীর আয়ু মানুষের চেয়েও বেশি। তবে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতির কচ্ছপ। নদী, খাল-বিল, ডোবা, গভীর সমুদ্র, মাটির গর্ত, গাছের গুড়ি কিংবা বালুময় স্থানে এদের বসবাস। একসময় দেশের নদী-নালা, পুকুর-ডোবা ও গ্রামীণ পরিবেশে সহজেই কচ্ছপ দেখা গেলেও এখন তাদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-নালা ও জলাশয় ভরাট, ঝোপঝাড় ধ্বংস, পানি দূষণ, খাদ্যাভাব এবং মানুষের নির্বিচার আক্রমণের কারণে কচ্ছপ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপের মধ্যে প্রায় একশ’ প্রজাতি বর্তমানে বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

কচ্ছপ সাধারণত রাতের বেলা ডিম পাড়ে। স্ত্রী কচ্ছপ মাটিতে গর্ত করে সেখানে ১ থেকে ৩০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম পাড়ার পর সেগুলো মাটি, বালি বা জৈব পদার্থ দিয়ে ঢেকে রেখে যায়। এরপর ডিমগুলো প্রকৃতির ওপরই নির্ভরশীল থাকে। প্রজাতিভেদে ৬০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

দীর্ঘায়ুর জন্যও কচ্ছপ বিশেষভাবে পরিচিত। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপের নাম ‘জোনাথন’। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই কচ্ছপটির বয়স প্রায় ১৯০ বছর বলে ধারণা করা হয়। সত্য হলে এটি পৃথিবীর দীর্ঘায়ু জীবিত প্রাণীদের অন্যতম।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার

আমান/

গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
গৌরীপুরে ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (আর কে হাই স্কুল) প্রতিষ্ঠাতা ও গৌরীপুরের ৫ম জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ১৫৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

এসিক অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরি, ক্রিয়েটিভ সন্ধানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব এবং দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে ছিল, কেক কাটা ও আলোচনা সভা।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১২ মে) কেক কাটা হয়। এরপর বুধবার (১৩ মে) বেলা ১১টায় ধানমহালে ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস ঐতিহ্যের গবেষক খায়রুল আলম তুহিন, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স এর সহসভাপতি ও এসিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি সদস্য হিউবার্ড চক্রবর্তী, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের পরিচালক অমল চন্দ্র দাস।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহসভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান খোকন, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সুপক রঞ্জন উকিলসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, গৌরীপুর আর কে সরকারি স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা।

সমাপনী বক্তব্য দেন ক্রিয়েটিভ অ্যাসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি অ্যান্ড লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, গবেষক ও  ইতিহাস সন্ধানী মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার। 

আলোচনা সভায় গৌরীপুর রাজবাড়ির ৫ম পুরুষ জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর কর্মময় জীবন, গৌরীপুরে উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯২৭ সালে গৌরীপুর পৌরসভা, ১৯১২-১৮ সালে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন ইত্যাদি গঠনে তার অবদান এবং বিভিন্ন সামাজিক অবদান তুলে ধরা হয়।

অমিয়/

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১০:০১ এএম
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য

‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/ পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’- অনাচার আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরে বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের সুর তোলা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৩ মে। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে ২১ বছর বয়সে কলকাতার একটি ক্লিনিকে নিভে গিয়েছিল এই প্রতিভাধর কবির জীবনদীপ।

যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অকালে ঝরে গেলেও মাত্র কয়েক বছরের সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ‘গণমানুষের কবি’ হিসেবে। পরাধীন ভারতের বঞ্চনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা আর তেতাল্লিশের মন্বন্তর তার লেখায় ফুটে উঠেছে শ্রেণিবৈষম্যহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন হয়ে।

১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটে জন্মগ্রহণ করা সুকান্তের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও জীবনের পাঠশালায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভের পর থেকে তার সাহিত্য ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়।

কবির উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’; যা তাকে বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী আসন দিয়েছে। 

অন্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠেকড়া’, ‘ঘুম নেই’, ‘হরতাল’। ‘আকাল’ তার সম্পাদিত বিখ্যাত ফ্যাসিবাদবিরোধী কাব্যগ্রন্থ।

সুকান্ত কেবল কবিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, কিশোর বয়সেই তিনি লিখেছিলেন গীতিনাট্য ‘রাখাল ছেলে’ এবং ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ‘দেবতাদের ভয়’। এ ছাড়া গল্প, গান এবং প্রবন্ধেও ছিল তার সাবলীল বিচরণ। আকাশবাণী কলকাতার ‘গল্প দাদুর আসরে’ তার লেখা গান গেয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী পঙ্কজ মল্লিক।

রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ০২ মে ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হরিপূজা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ী শহরের ঐতিহ্যবাহী হরিতলা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো শতবর্ষের পুরনো হরিপূজা। এই নিয়ে টানা ১৪৮ বার আয়োজন করা হয় এই পূজা।

প্রতিবছরের মতো এবারও ১৮ বৈশাখ এই পূজা উদযাপিত হয়।

শুক্রবার (১ মে) দুপুর থেকে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিকেলে পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি দেন। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর পদাবলি কীর্তন। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হরিতলা এলাকা।

রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকায় অবস্থিত হরিতলা মন্দির শহরের প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর হরিপূজা অনুষ্ঠিত হয় বলে মন্দিরটি হরিতলা মন্দির নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এই পূজার নাম অনুসারে পুরো এলাকাটিও হরিতলা নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। হরিতলা মন্দির এই অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।

হরিতলা এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী অভিজিৎ সোম অভি বলেন, ‘এই হরিপূজা আমাদের এলাকার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পূজা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই পূজা। এটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের এলাকার পরিচয়, আমাদের শিকড়ের সঙ্গে বাঁধনের উৎসব’।

প্রতি বছরের মতো এবারও এই পূজাকে কেন্দ্র করে হরিতলা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে পূজায় অংশ নেন।

সুমন/আমান