দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু। এটি ৮০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র। এর ৮০টি দ্বীপের মধ্যে ৬৫টিতেই জনবসতি রয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ৫৬০০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অস্ট্রেলিয়ার ২৪০০ কিমি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ১৯৮০ সালের ৩০ জুলাই স্বাধীনতা অর্জনের আগ পর্যন্ত ভানুয়াতু যৌথভাবে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের শাসনাধীন ছিল; তখন এর নাম ছিল নিউ হিব্রাইডস। ভানুয়াতুর রাজধানী হচ্ছে পোর্ট ভিলা।
প্রায় ৩,৫০০ বছর আগে ভানুয়াতুতে প্রথম বসতি স্থাপন করা হয়। বসতি স্থাপনকারীরা নিউ গিনি এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জ থেকে এখানে এসেছিলেন। ১৬০৬ সালে পর্তুগিজ অনুসন্ধানকারী পেড্রো ফার্নান্দেজ ডি কুইরোস ও এস্পিরিটু সান্টো দ্বীপটি আবিষ্কার করেন।
ভানুয়াতুর সরকারি ভাষা হচ্ছে- বিসলামা, ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি। দেশটির মোট আয়তন ১২১৯০ কিলোমিটার। মুদ্রার নাম ভানুয়াতু ভাতু। দেশটিতে ৩০৭৮০০ জন মানুষ বসবাস করেন।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ভানুয়াতুতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। দেশটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১,০০০-এর আশপাশে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৯২ সালে দেশটিতে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশটির অধিকাংশ মুসলমানই সুন্নি মতাবলম্বী হলেও কিছু কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের মানুষদেরও দেখা যায় দ্বীপটিতে।

ভানুয়াতুতে পর্যটকদের দেখার মতো রয়েছে চমৎকার কিছু জলপ্রপাত ও মনোরম সৈকত। আরও আছে জঙ্গল জিপলাইন ও কায়াকিং করার সুযোগ। যেহেতু দ্বীপরাষ্ট্র, তাই কৃষিকাজ ছাড়াও ভানুয়াতুর জনগণের বেশির ভাগেরই আয়ের উৎস সমুদ্র ও পর্যটনকেন্দ্রিক।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি কার্যত করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে ব্যক্তিগত আয়কর, মূলধনের মুনাফা কর, উত্তরাধিকার কর কিংবা সম্পদ কর দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তবে ভ্যাট ও সম্পত্তি লেনদেন করার মতো কিছু পরোক্ষ কর থাকলেও, সেগুলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। তুলনামূলক শিথিল আইনি বাধ্যবাধকতা ও কর অব্যাহতির সুযোগই দেশটিকে কৌশলগত দিক থেকে বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
২০২৫ সাল পর্যন্ত ভানুয়াতুর পাসপোর্টধারীরা ১১৩টি দেশে ভিসা ছাড়াই অথবা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় প্রবেশ করতে পারতেন।
বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান হেনলি পাসপোর্টের সূচকে ১৯৯টি পাসপোর্টের মধ্যে ভানুয়াতুর অবস্থান ৫১তম। সৌদি আরব, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে দেশটি।
ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব পেতে খরচ পড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা)। চার সদস্যের এক পরিবারের জন্যও দেশটিতে এই সুবিধা রয়েছে। সাধারণত আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে। ২০১৯ সালে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটির মোট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে পাসপোর্ট বিক্রি থেকে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ভানুয়াতুর মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার ছিল মাত্র ৩ হাজার ৫১৫ দশমিক ২ মার্কিন ডলার। যা এই দেশের সম্পদ ও আয়ের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। তবুও, অফশোর আর্থিক সেবা এখানে প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করছে। দেশটির করবান্ধব নীতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তারেক/
.jpg)
.jpg)