খোকা যায় চাঁদের দেশে
আসাদুজ্জামান খান মুকুল
ঘুমের ঘোরে খোকন সোনা চাঁদের দেশে যায়,
চাঁদের বুড়ি দেখে হেথায় খোকার কাছে আয়।
চাঁদের বুড়ি ভীষণ খুশি ছোট্ট খোকা পেয়ে,
চরকা কাটা রেখেই বুড়ি নাচছে হেসে গেয়ে!
বলছে বুড়ি খোকনটারে হবে আমার নাতি?
এইখানেতে একাই থাকি নেই তো কোনো সাথী।
থাকিস যদি আমার সাথে কাটবে সুখে বেলা,
দেখবি আরও চাঁদের পাশে লাখো তারার মেলা।
চাঁদের দেশে চাঁদ কুমারী পাশেই তারই ঘর,
পাবে যে তার আদর স্নেহ করবে না সে পর।
এমন ক্ষণে খোকাবাবুর ভেঙে গেছে ঘুম,
দেখছে চেয়ে মায়ের কোলে মায়েই দিছে চুম!
কোথা পেল পাখা
হোসাইন মোস্তফা
বিশ্রি শুঁয়াপোকা
লাগে ঘিন ঘিন
ভয়ে তাই দূরে থাকি
ছুটি পিন পিন।
বিজ্ঞান বই পড়েই
জানি অতঃপর
দিন দিন শুঁয়াপোকা
ঘটে রূপান্তর।
কদাকার শুঁয়াপোকা
হয় প্রজাপতি
ঝলমলে রূপ তার
চপলমতি।
কারুময় পাখা পেয়ে
ফুলে ফুলে উড়ে
কাশবনে ঘাসবনে
ছুটে চলে দূরে।
প্রজাপতি প্রজাপতি
কী যে সুন্দর
কোথা পেল এ পাখা?
ভাবি নিরন্তর!
নবান্ন
সুব্রত চৌধুরী
হিমের ভোরে বদ্ধ দোরে কে যেন দেয় টোকা
কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে শুধোয়, খোল না দরজা খোকা।
টোকার শব্দ শুনে খোকার ঘুমটা যায় যে টুটে
ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে যায় যে দৌড়ে ছুটে।
দরজা খুলে ঘুম ঘুম চোখে অবাক হবার পালা
হাতে নিয়ে হিমের বুড়ি পিঠা ভরা ডালা।
সঁপে দিয়ে ডালাখানি যায় যে চলে বুড়ি
হরেক রকম পিঠা খোকার মনটা করে চুরি।
পিঠা পুলির গন্ধে খোকার জিভে আসে জল
মন বাগিচায় ফোটে খোকার খুশির শতদল।
ভাপা চিতই পাটিসাপটা হরেক রকম পিঠে
নলেন গুড়ে পায়েস চালের ভারি লাগে মিঠে।
ভূত সমাচার
রহমান জীবন
গ্রামের পাশে বিশাল বড়
জঙ্গলের ওই গাছে
অনেক বছর ধরে নাকি
ভূতের বাসা আছে।
দিনের বেলা ভূতেরা সব
চুপটি করে থাকে
সন্ধ্যা হলেই সরব তারা
বিকট সুরে ডাকে।
গ্রামের মানুষ তাই সকলে
থাকে যে সংশয়ে
রাতের বেলা ঘরের বাহির
হয় না ভূতের ভয়ে।
কিন্তু কেউই ভূত দেখেনি
নিজের চোখে তার
সবাই কেবল শুনেই এল
ভূতের সমাচার।
শীতের সকাল
শারমিন নাহার ঝর্ণা
শিশির ভেজা শীতের সকাল
মিষ্টি পাখির ডাকে,
ঘাসে ঘাসে শিশির বিন্দু
মুক্তোর মতো থাকে।
শীতল মৃদু হাওয়া লাগে
সবুজ শ্যামল গাঁয়ে,
গরম গরম ভাপা পিঠা
বানায় বসে মায়ে।
দাদুর সাথে রোদে বসে
গরম পিঠা খাই,
হালকা হালকা মিষ্টি রোদে
ভীষণ মজা পাই।