শীতকালে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখেছ— সবকিছু যেন সাদা চাদরে ঢেকে গেছে! দূরের গাছ, বাড়ি, রাস্তা কিছুই ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। মনে হয় যেন আকাশ নেমে এসেছে মাটিতে। এই সাদা সাদা ধোঁয়ার মতো জিনিসটাই হলো কুয়াশা।
কুয়াশা আসলে কী?
কুয়াশা কোনো ধোঁয়া নয়। কুয়াশা হলো খুব ছোট ছোট পানির ফোঁটা, যেগুলো বাতাসে ভেসে থাকে। এগুলো এত ছোট যে, আমাদের চোখে আলাদা আলাদা করে দেখা যায় না। কিন্তু সবাই মিলে যখন একসঙ্গে থাকে, তখন চারপাশ সাদা হয়ে যায়। সহজ করে বললে, কুয়াশা = বাতাসে ভেসে থাকা পানির ছোট ছোট ফোঁটা।
কুয়াশা কোথা থেকে আসে?
দিনে সূর্যের আলোয় পানি গরম হয়ে বাতাসে উড়ে যায়। নদী, পুকুর, মাঠ, গাছ— সব জায়গা থেকেই পানি উড়ে যায়। রাতে যখন ঠাণ্ডা পড়ে, তখন এই উড়ে যাওয়া পানি আবার ছোট ছোট ফোঁটায় পরিণত হয়। আর তখনই তৈরি হয় কুয়াশা। শীতের সময় তাই কুয়াশা বেশি দেখা যায়। কারণ শীতের সময় রাত অনেক ঠাণ্ডা হয়।
কুয়াশা আর মেঘ কি এক?
কুয়াশা আর মেঘ একেবারে একই জিনিস নয়, তবে তারা খুব কাছের আত্মীয়। দুটোই তৈরি হয় খুব ছোট ছোট পানির ফোঁটা দিয়ে। পার্থক্য হলো— মেঘ থাকে আকাশের অনেক ওপরে, আর কুয়াশা থাকে মাটির কাছাকাছি বা আমাদের চারপাশে। তাই বলা যায়, কুয়াশা হলো মেঘেরই নিচে নেমে আসা রূপ।
কুয়াশা এলে কী হয়?
কুয়াশা এলে চারপাশ ঝাপসা হয়ে যায়। দূরের জিনিস দেখা যায় না। গাড়ি ধীরে চলে। স্কুলে যেতে দেরি হয়। সূর্যমামা লুকোচুরি খেলে। তবে কুয়াশা সকালবেলা প্রকৃতিকে খুব সুন্দর করে তোলে। ঘাসের ওপর পানির ফোঁটা, পাতায় চিকচিক করা বিন্দু— সব মিলিয়ে যেন রূপকথার দেশ!
কুয়াশা কি বিপজ্জনক?
কুয়াশা নিজে খারাপ নয়। কিন্তু খুব ঘন কুয়াশায় চলাফেরা করলে বিপদ হতে পারে। তাই বড়রা কুয়াশায় গাড়ি ধীরে চালায়, আর বাচ্চাদের সাবধানে থাকতে বলে।
কুয়াশা কখন চলে যায়?
সূর্য উঠলে আর চারপাশ গরম হলে কুয়াশা ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যায়। তখন ছোট ছোট পানির ফোঁটা আবার বাতাসে মিলিয়ে যায়। যেন কুয়াশা বলে— ‘আচ্ছা, কাল আবার আসব!’