বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তিনি এ বছরের প্রথম দিকে চিকিৎসা নিতে লন্ডন যান। সেখানে তাঁর স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন আর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো। শেষবার তিনি একমাসের মতো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবু তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারলেন না। নানা রোগে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার ধকল শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে না পেরে মৃত্যুবরণ করলেন।
খালেদা জিয়ার জীবন ছিল বর্ণাঠ্য। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে তিনি গৃহবধুর জীবন নির্বাহ করছিলেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জিয়াউর রহমান এবং তাঁর জীবনকে বদলে দেয়। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হলে দেশের রাজনীতি ও সামরিক বাহিনীর নানা উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হন এবং পরে তিনি রাজনৈতিক দলগঠন করেন। ১৯৮১ সালে সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্যের হাতে তিনি শহিদ হলে খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। শুরু হয় তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন।
খালেদা জিয়া প্রথম পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ভেতর দিয়ে। ১৯৮৩ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ৭-দলীয় ঐক্যজোট। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে জাতির কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ‘আপসহীন নেত্রী’র পরিচিতি অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনের ৪১ বছর তিনি শীর্ষ নেতা হিসেবে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে তিনি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিন বার তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে। তবে তার অনমনীয় চারিত্রিক দৃঢ়তা তাকে ধীরে ধীরে মহান এক রাষ্ট্রনায়ক করে তুলেছে।
ইতোমধ্যে তার মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিদেশি সরকারের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই আজ বাংলাদেশে এসে তার জানাজায় অংশগ্রহণ করছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার মৃত্যুসংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি দেশে-বিদেশে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের একজন মহান নেতার মর্যাদায় অভিষিক্ত হচ্ছেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যে ক্ষতি হলো তা পূরণ হবার নয়। সমগ্র দেশ আজ শোকে মুহ্যমান। তার মৃত্যুতে খবরের কাগজ পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করছে। সেইসঙ্গে তার পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সহানুভূতি।