ঈদুল আজহার অল্প কদিন বাকি। ইতোমধ্যে অনেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন। তার পরও বিভিন্ন অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোয় সব জিনিসের দাম বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, আদা, সয়াবিন তেলসহ বেশ কিছু জিনিসের দাম বেড়েছে। বাজারভেদে একই পণ্য ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খবরের কাগজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এক মাস আগে ডিমের ডজন ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। বর্তমানে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার আদার কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা হয়েছে। বোরো ধান উঠলেও কমেনি চালের দাম। ১৭৫ টাকার প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা, চিনির কেজি ১১০ টাকায় ঠেকেছে। আগের মতোই সবজি উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাড়েনি জিরা-এলাচসহ অন্যান্য মসলার দাম। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা, ডাল, ডিমসহ অধিকাংশ জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, ‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয় বাংলাদেশ থেকে তা মুছে দেব, দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না।’ কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, এখনো বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার তিন মাসেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ইতোমধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে কঠোর তদারকি নেই। এই সুযোগে অসাধু চক্র সিন্ডিকেট করে চড়া দামে পণ্য বিক্রি করছে। ভোক্তাদের পকেট কাটছে। ভোক্তারা অভিযোগ করে বলছেন, যে যার মতো সিন্ডিকেট করে দাম আদায় করছে। দেখার যেন কেউ নেই। বাজারে এখনো শীতের কপি, টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজিও ভরে আছে। তার পরও কমছে না সবজির দাম।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি ভোক্তা অধিদপ্তরে ডিজি থাকা অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজে ডিম রাখতে দিইনি। তা বের করেছি। তখনো ঈদ হয়েছে। কিন্তু এত বেশি দাম বাড়েনি। বর্তমানে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং হচ্ছে না। কারও জবাবদিহি নেই, এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। তারা সিন্ডিকেট করে জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে। ভোক্তাদের পকেট কাটছে। ভোক্তা অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও বিভাগ রয়েছে। তারা কী করছে। তারা কি এসব দেখে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত বাজারে নজরদারি বাড়ানো।’
পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। টিসিবির পণ্যবোঝাই ট্রাকের পেছনে শত শত মানুষের ভিড় দেখলেই উপলব্ধি করা যায়, এখন শুধু নিম্নবিত্তই নয়, মধ্যবিত্তরাও চরম চাপে রয়েছেন। টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যও খুব একটা যথেষ্ট নয়। বর্তমান বাজারব্যবস্থা লক্ষ করলে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা যেকোনো অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকে। এভাবে সব সময় কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছেই। সিন্ডিকেট করে সংঘবদ্ধ চক্র অতি মুনাফা লাভের আশায় সারাক্ষণ বাজারব্যবস্থাকে বিশৃঙ্খল করে রেখেছে। বাজার সিন্ডিকেট কোনোভাবেই ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদারকি জোরদার করতে হবে। যারা এ ধরনের সিন্ডিকেট করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে স্বস্তিতে পণ্য কিনতে পারে, সে জন্য বাজারব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে হবে।