রাজধানীর সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য কমছেই না। নগরীর অলিগলি সর্বত্রই এসব বাহনের দাপটে নগরবাসী অতিষ্ঠ। চালকদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা আইনি বৈধতা কোনো কিছুই নেই। এর পরও তারা রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বীরদর্পে। এসব যানবাহন স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সড়কে শৃঙ্খলা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ব্যাটারিচালিত যানের কারণে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। প্রতিদিন এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট। আমরা জেনেছি, সরকার আগামী বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা করজালে আনার পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিপ ও সিএনজি, অটোরিকশার মতো ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপরও ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সারা দেশে ৫০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় চলাচল করছে ১০ থেকে ১২ লাখের মতো। এসব রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫-এর খসড়া করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশায় অগ্রিম আয়কর আরোপের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কৌশলী হওয়া উচিত। কেননা এরই মধ্যে রাজধানীর সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত এসব স্বল্পগতির বাহন চলাচল করছে। ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকিং সিস্টেম, অদক্ষ চালক এবং উচ্চ গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে; যার আর্থিক ক্ষতি বহুগুণ দাঁড়াতে পারে সরকার আরোপিত আয়কর থেকেও। এ অবস্থায় অগ্রিম আয়কর আরোপের আগে অটোরিকশার সংখ্যা ও সড়কের সঙ্গে মানানসই বাহন নির্ধারণ করা জরুরি।
ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের অনেকে ধারদেনা বা ঋণ নিয়ে তাদের বাহন কেনেন। আবার বাহনটি যখন সড়কে নামানো হয়, তখন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন সবাইকে ম্যানেজ করে চলতে হয়। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। নিরাপদ সড়ক ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এ খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এ ধরনের যানবাহন। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া বেশির ভাগ রিকশা অনিবন্ধিত এবং নিম্নমানের ব্যাটারি ব্যবহার করায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে আইনি ও পরিবেশগত দিক কঠোরভাবে বিবেচনা করতে হবে। এসব যানবাহনের দৌরাত্ম্যে সড়কে চরম বিশৃঙ্খলা ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ যানবাহনগুলো ধীরগতির হলেও সড়কে চালকদের বেপরোয়া গতি মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সড়ক-মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির যান একসঙ্গে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ঢাকা শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে এসব বাহনের অবাধ চলাচলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। আশা করছি, সরকার এ ধরনের যানবাহনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে এবং নিরাপদ সড়ক বজায় রাখার স্বার্থে একটি কার্যকর সিদ্ধান্তে উপনীত হবে।