ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা
Nagad desktop

ঈদুল আজহার দিনগুলো বিড়ম্বনার মধ্যেও স্বস্তিতে কেটেছে

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
বিড়ম্বনার মধ্যেও স্বস্তিতে কেটেছে

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর জনজীবন ও দেশের সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঈদের সময়ে জনচলাচলে দেখা দেয় চাঞ্চল্য এবং সাময়িক স্থানান্তরের ঘটনা। অধিকাংশ মানুষ নগরজীবনের কর্মস্থল বা কাজের জায়গা ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়িতে যান। ছুটি শেষে আবার ফিরে আসেন কর্মক্ষেত্রে। পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে মানুষের কেনাকাটা এবং বাণিজ্যও জমে ওঠে। বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের জন্য ঈদই হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবর্ণ সময়। কিন্তু বরাবর ঈদকে কেন্দ্র করে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, এবার তাও দেখা গেছে। তবে তুলনামূলকভাবে তা ছিল কম।  
ঈদে প্রধান যে উদ্বেগ বাড়িমুখী মানুষের মধ্যে কাজ করে, সেটা হচ্ছে কর্মস্থল ছেড়ে বাড়িতে পৌঁছানো এবং বাড়ি থেকে আবার কর্মস্থলে ফেরা। বেশি ভোগান্তি হয় বাড়িতে যাওয়ার সময়। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের এবারও বড় বড় শহর, যেমন ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বেশ কয়েকটি বড় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, ঈদের আনন্দের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। খোদ রাজধানীতে ঈদের ছুটিতে ৩টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও  সরকারের পক্ষ থেকে সচেতন করা সত্ত্বেও এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা ছিল অনভিপ্রেত। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি কখনো কমে না। এখনো যারা বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরছেন তাদের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা কর্মস্থলে নিরাপদে ফিরতে পারেন।

পশুর হাটেও ছিল নৈরাজ্য। গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ইজারাদারদের লোক পথ আটকে ব্যাপারীদের অনেকটা জোর করে নিজেদের হাটে নিয়ে গেছেন। তবে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনার ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকায়। উত্তরার মেট্রোরেলের জায়গায় হাট বসানো হয়েছে, দুই দিন এটা চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলে সেই হাট উত্তর সিটি করপোরেশন ভেঙে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে বর্জ্যে পুরো এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। পরিচ্ছন্ন মেট্রো এলাকা রীতিমতো পরিণত হয় ভাগাড়ে। পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললেও তা যে আশানুরূপ ছিল না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্জ্য কতটা অপসারিত হয়েছে, নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে তার ইঙ্গিত মেলে।  
প্রধানমন্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজে ৪ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম ঘুরে দেখার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন জনগণের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয় এবং মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

কোরবানি ঈদের অর্থনীতি মূলত আবর্তিত হয় চামড়া ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। সেই ব্যবসা গতবারের তুলনায় আরও মন্দা গেছে বলে চামড়ার খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম সরকার গত বছরের চেয়ে এবার ২ টাকা বাড়িয়েছিল। কিন্তু রাজধানীতে সেই দামে চামড়া বিক্রি হয়নি। ময়মনসিংহের চামড়ার হাট শম্ভুগঞ্জ কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর রাজারহাটে পর্যাপ্ত চামড়া থাকলেও বিক্রি না হওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটান চামড়া নিয়ে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বরিশালসহ সারা দেশের চামড়ার বাজারের চিত্র ছিল একই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটা ঘটনায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল সমালোচনায় মুখর। সেখানে একশ্রেণির ধর্মান্ধ শিক্ষার্থীর আপত্তির মুখে প্রশাসন পূর্বানুমতি নেওয়া ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া এবং ঢাকার প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পরও কেন প্রদর্শনীটি বন্ধ করা হলো, তাই নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও যে চলচ্চিত্র দেখেছেন, সেই চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করা ছিল অভূতপূর্ব একটা ঘটনা।  এ রকম হতাশার মধ্যেও স্বস্তির দিকটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিজের চোখে ঘুরে দেখার বিষয়টি। 
টানা ৭ দিন ছুটির পর আজ অফিস-আদালত খুলেছে। রাজধানী ঢাকা আবার কর্মমুখর হয়ে উঠবে। বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বড় বাজারগুলো ধীরে ধীরে আবার সরব হবে। অন্য সময়ের মতো ঢাকা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। সে রকম পরিস্থিতিতে সারা বছর সবার জীবনযাপন স্বস্তির হোক, আনন্দমুখর হোক। 

অবহেলায় নিঃসঙ্গ মায়ের মৃত্যু সচেতনতার সঙ্গে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
সচেতনতার সঙ্গে সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন

ঈদের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই সচেতন মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়ে একটা খবর আমাদের সামনে চলে এসেছে। খবরটি যেমন মর্মান্তিক, তেমনি পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয় এবং অমানবিকতার চূড়ান্ত বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। প্রায় দেড়-দুই বছর ধরে নানা অমানবিকতার খবর ক্রমাগত আমাদের বেদনার্ত ও বিমূঢ় করে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নানা ক্ষেত্রে দেখা গেছে দুঃসহ নৈরাজ্য। শিক্ষক নিগ্রহ থেকে শুরু করে আমাদের যেসব উল্লেখযোগ্য ‘অর্জন’ রয়েছে, তার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে একশ্রেণির উগ্র মানুষ। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। এরই সর্বশেষ প্রকাশ দেখা গেল মিরপুরে এক মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, এক মা নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সাত দিন ধরে তার মরদেহ একটা ঘরে পড়ে ছিল। মরদেহ পচে-গলে গেলে তা পোকায় খেয়েছে। কেউ তার খোঁজ নেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানা যায়, এই মায়ের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মেয়ে ও মেয়ের জামাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এক ছেলে থাকেন বিদেশে। এদের কেউই এই হতভাগা মায়ের খোঁজ নেননি। শেষবারের মতো কোনো সন্তানকে তিনি কাছে পাননি, অথচ উল্লিখিত সন্তানদের কেউ কেউ একই শহরে, অর্থাৎ ঢাকাতেই থাকেন।  
এ ঘটনা শুধু অমানবিক নয়, চূড়ান্ত অর্থে অমানবিক। এ রকম ঘটনা আমাদের পারিবরিক মূল্যবোধকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আইনের দিক থেকেও এ ঘটনার জন্য সন্তানরা দায়ী এবং অপরাধী। সন্তানদের এই অবহেলা আসলেই অপরাধ কি না, অনুসন্ধান করতে গিয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একটি আইন আমরা দেখেছি। আইনটির শিরোনাম হচ্ছে: ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ (২০১৩ সালের ৪৯ নম্বর আইন)’। এই আইনে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক সন্তানকে তাহার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে। এই ধারার অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করিবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একই সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করিতে হইবে। প্রত্যেক সন্তান তাহার পিতা এবং মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখিবে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করিবে। পিতা বা মাতা কিংবা উভয়, সন্তান হইতে পৃথকভাবে বসবাস করিলে, সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে নিয়মিতভাবে তাহার, বা ক্ষেত্রমত তাহাদের সহিত সাক্ষাৎ করিতে হইবে।’ 
আমাদের সৌভাগ্য যে এ রকম একটি আইন ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। পূর্বাভিজ্ঞতা থেকেই যে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা বোঝা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, এ রকম একটা যুগোপযোগী, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্যবোধ এবং তাদের জীবন নির্বিঘ্ন করার আইন থাকা সত্ত্বেও অনেক পিতা-মাতাকে শেষ জীবনে দুর্বিষহ জীবন নির্বাহ করতে হয়। এই মায়ের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। আমরা মনে করি, এ রকম অমানবিক ঘটনা এবং পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয়কে রোধ করার ক্ষেত্রে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। রাষ্ট্রের যে আইন আছে, সেই আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সেটা অনেকটা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এখানে আমরা একটা প্রস্তাব রাখতে চাই। যেহেতু এটা পারিবারিক-সামাজিক সমস্যা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শমূলক এবং প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে এ ব্যবস্থা আছে, যেখানে সমাজকল্যাণে নিযুক্ত আলাদা কর্তৃপক্ষ এ ধরনের পারিবারিক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের নতুন সরকার যুগোপযোগী পরিবর্তনের ধারায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে যেভাবে দেশ শাসন করছে, তাতে তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সচেতনতা সৃষ্টি। সেই উদ্যোগও গ্রহণ করতে পারে সরকার।

সামগ্রিকভাবে পারিবারিক বন্ধন, সংহতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো জনগোষ্ঠী সুসভ্য হওয়ার দাবি করতে পারে না। এ বিষয়ে সব সময় আমাদের সবার সচেতন থাকতে হবে। পিতা-মাতার প্রতি আমাদের কর্তব্যবোধ হওয়া উচিত আরও গভীর এবং শর্তহীনভাবে নিবেদিত। কারণ তারা শুধু আমাদের জন্মদাতা ও জন্মদাত্রী নন, তারা আমাদের লালন-পালন করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন। সন্তানের কল্যাণে তাদের ত্যাগের মূল্য অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। প্রতিদান হিসেবে একইভাবে তাদের প্রতি আমাদের কর্তব্যবোধও সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকা বাঞ্ছনীয়।   

ফুটওভারব্রিজে মরণফাঁদ দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা কাম্য

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা কাম্য

ফুটওভারব্রিজ পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। খবরের কাগজের সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজের পাটাতন ও সিঁড়িতে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও লোহার পাত উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। অনেক ব্রিজের লোহার কাঠামো মরিচা ধরে ক্ষয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ফুটওভারব্রিজে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা, দখল, ভাঙাচোরা অবকাঠামো এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। বছরের পর বছর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব ব্রিজ এখন সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রায়ই পথচারীদের হাত-পা কেটে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজধানীর অধিকাংশ ফুটওভারব্রিজ রাতে ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক ব্রিজে শুরু হয় মাদকসেবীদের আড্ডা। এতে সাধারণ পথচারীদের নিরাপদে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নির্জন ও অল্প আলোযুক্ত ব্রিজগুলোতে একা চলাচল করা নারী, শিক্ষার্থী ও অফিসফেরত মানুষকে টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা। মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি হামলার ঘটনাও ঘটছে। কোথাও ছুরিকাঘাত, আবার কোথাও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে এসব ফুটওভারব্রিজ কার্যত সমাজবিরোধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। শুধু মাদক সেবনই নয়, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ব্রিজ এখন ভবঘুরেদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক পার হচ্ছেন, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফুটওভারব্রিজগুলোর বেহাল অবস্থার বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সিটি করপোরেশন একা সবকিছু ঠিক রাখতে পারে না। মানুষ সচেতন না হলে এসব উদ্যোগ সফল হয় না। নিয়মিত পোস্টার লাগানো, ময়লা-আবর্জনা ফেলা, ফুটওভারব্রিজের বিভিন্ন অংশ নষ্ট করা, এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইট চুরি হওয়ার ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন। তাই নাগরিক সচেতনতাও জরুরি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান খবরের কাগজকে বলেন, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের ফুটওভারব্রিজ যদি এমন বেহাল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বলে আর কিছু থাকে না। নগরবাসীর জন্য ফুটওভারব্রিজ করা হলো, কিন্তু তদারকি ও সংস্কারের অভাবে সেগুলো এখন জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেল! বছরে এত এত প্রকল্পের বরাদ্দ হচ্ছে কিন্তু মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না কেন? এর জবাব দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ ফুটওভারব্রিজ চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সেগুলো সংস্কার করে নগরবাসীর চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।

ফুটওভারব্রিজ এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটওভারব্রিজের কার্যকর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলাচলে ভোগান্তির কারণে মানুষ এখন এটি ব্যবহার করতে অপারগ। ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি রাস্তা পারাপারের প্রবণতা তাই বাড়ছে। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। তাই এ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সরকারকে আমলে নিয়ে নগরবাসীর চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে রাজধানীর ফুটওভারব্রিজ। সেই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া দ্রব্যের দামে স্বস্তি আনুন

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
দ্রব্যের দামে স্বস্তি আনুন

ঈদুল আজহার অল্প কদিন বাকি। ইতোমধ্যে অনেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন। তার পরও বিভিন্ন অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোয় সব জিনিসের দাম বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, আদা, সয়াবিন তেলসহ বেশ কিছু জিনিসের দাম বেড়েছে। বাজারভেদে একই পণ্য ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খবরের কাগজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এক মাস আগে ডিমের ডজন ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। বর্তমানে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার আদার কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা হয়েছে। বোরো ধান উঠলেও কমেনি চালের দাম। ১৭৫ টাকার প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা, চিনির কেজি ১১০ টাকায় ঠেকেছে। আগের মতোই সবজি উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাড়েনি জিরা-এলাচসহ অন্যান্য মসলার দাম। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা, ডাল, ডিমসহ অধিকাংশ জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, ‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয় বাংলাদেশ থেকে তা মুছে দেব, দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না।’ কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, এখনো বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার তিন মাসেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ইতোমধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে কঠোর তদারকি নেই। এই সুযোগে অসাধু চক্র সিন্ডিকেট করে চড়া দামে পণ্য বিক্রি করছে। ভোক্তাদের পকেট কাটছে। ভোক্তারা অভিযোগ করে বলছেন, যে যার মতো সিন্ডিকেট করে দাম আদায় করছে। দেখার যেন কেউ নেই। বাজারে এখনো শীতের কপি, টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালের সবজিও ভরে আছে। তার পরও কমছে না সবজির দাম।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি ভোক্তা অধিদপ্তরে ডিজি থাকা অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজে ডিম রাখতে দিইনি। তা বের করেছি। তখনো ঈদ হয়েছে। কিন্তু এত বেশি দাম বাড়েনি। বর্তমানে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং হচ্ছে না। কারও জবাবদিহি নেই, এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। তারা সিন্ডিকেট করে জিনিসের দাম বাড়াচ্ছে। ভোক্তাদের পকেট কাটছে। ভোক্তা অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ও বিভাগ রয়েছে। তারা কী করছে। তারা কি এসব দেখে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত বাজারে নজরদারি বাড়ানো।’

পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। টিসিবির পণ্যবোঝাই ট্রাকের পেছনে শত শত মানুষের ভিড় দেখলেই উপলব্ধি করা যায়, এখন শুধু নিম্নবিত্তই নয়, মধ্যবিত্তরাও চরম চাপে রয়েছেন। টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যও খুব একটা যথেষ্ট নয়। বর্তমান বাজারব্যবস্থা লক্ষ করলে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা যেকোনো অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকে। এভাবে সব সময় কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছেই। সিন্ডিকেট করে সংঘবদ্ধ চক্র অতি মুনাফা লাভের আশায় সারাক্ষণ বাজারব্যবস্থাকে বিশৃঙ্খল করে রেখেছে। বাজার সিন্ডিকেট কোনোভাবেই ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তদারকি জোরদার করতে হবে। যারা এ ধরনের সিন্ডিকেট করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে স্বস্তিতে পণ্য কিনতে পারে, সে জন্য বাজারব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে হবে।

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়ছে নির্বিঘ্ন করতে পদক্ষেপ জরুরি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০১:০২ পিএম
নির্বিঘ্ন করতে পদক্ষেপ জরুরি

নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই রাজধানীর বিভিন্ন পথে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। অল্প দূরত্বের পথ পার হতেই যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তীব্র গরমের মধ্যে বসে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাস টার্মিনালগুলোয় সকাল থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-সিলেট এবং যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোয় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনার আওতায় আট মহাসড়কের ১১৩ স্থানকে যানজটপ্রবণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাপ সামলাতে এসব পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসড়কসংলগ্ন পশুর হাট বসা, চলমান সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, টোল প্লাজায় ধীরগতির টোল আদায় ইত্যাদি কারণে যানজট পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেলের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ঈদে অনলাইনে টিকিট কাটা নিয়ে যাত্রীদের বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর ১ মিনিটেই সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় রেল কর্তৃপক্ষ আরও বেশি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। এদিকে সড়কপথে বাস কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঈদের এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। মানুষের প্রয়োজনের কারণে নিরুপায় হয়ে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেন যাত্রীরা। এভাবে নৈরাজ্যের কাছে হার মানতে হয় ঘরমুখী মানুষের।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় বাসের ভাড়া নির্ধারণ করলেও তা বাস্তবায়ন বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। যেভাবে বাস চলছে, তাতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিমালিকানায় অসংখ্য কোম্পানির বাস চলছে। এ ক্ষেত্রে বাসগুলো যদি নির্দিষ্ট কোম্পানির আওতায় চলত, সে ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। ঈদের সময় সড়কপথে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়া। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনও দূরপাল্লার রাস্তায় নেমে পড়ে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবহনগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটিতে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

আসন্ন ঈদকে ঘিরে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কম নেই। তাই সরকারকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবছরই ঈদ আসে কিন্তু সমস্যার কোনো টেকসই সমাধান হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সড়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রেল ও নৌপথে যাত্রী পরিবহন বাড়াতে হবে। তবে সরকার ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঈদযাত্রায় কোটি কোটি মানুষ আনন্দ উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে করতে পারে, সে জন্য সরকার সাময়িক সমাধানের বদলে টেকসই ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, সেটিই আশা করছি। 

চামড়া নিয়ে দস্যুতা ট্যানারি মালিক আড়তদারদের সিন্ডিকেট ভাঙুন

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ট্যানারি মালিক আড়তদারদের সিন্ডিকেট ভাঙুন

প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রি ও সংরক্ষণে নানা রকম নৈরাজ্য লক্ষ করা যায়। সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও ট্যানারির মালিক ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে কিনে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে সিন্ডিকেট, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ চামড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কা এবং দাম না পাওয়ার কারণে এ নৈরাজ্য তৈরি হচ্ছে। এভাবে এক যুগের বেশি সময় সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে চামড়ার লেনদেন চলছে। অন্যদিকে ট্যানারির মালিকরা আর্থিকসংকট ও আন্তর্জাতিক মন্দার অজুহাত দিচ্ছেন। এ সিন্ডিকেটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো। চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে সাধারণত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণ করা হয়। কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ কোরবানির পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। ঈদের দিন গরম ও বৃষ্টির কারণে দ্রুত লবণ দিতে পারে না। এতে চামড়ার মান কমে যায়। তবে এবার সরকার চামড়া নষ্ট হওয়া রোধে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ ও বিশেষ ব্যাংকঋণের মতো আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ।

শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির খবরের কাগজকে বলেন, অতীতে  বিভিন্ন সময় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি নিয়ে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, এবার তা যেন না হয় সে জন্য সরকার আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করি, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে পশুর চামড়া বিক্রি হবে। পশু কোরবানির পর কাঁচা চামড়া বেশি দিন রাখা যায় না, নষ্ট হয়ে যায়। এবারে সরকার বিনামূল্যে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় লবণ সরবরাহ করেছে। এতে কাঁচা চামড়া বেশি সময় সংরক্ষণ করলেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। ফলে সিন্ডিকেট করে যে চামড়ার দাম কমিয়ে কেনা হয়, এবার তা হবে না বলে অনেকে মনে করেন। 
চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির পশুর ৭৫ লাখ থেকে ৮০ লাখ পিস চামড়া কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এবার কম দামে চামড়া কিনতে হবে। কারণ, আর্থিকসংকট। ট্যানারির মালিকদের ৮৫ শতাংশই আগেরবারের নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও চামড়া খাতের ব্যবসায়ে মন্দা চলছে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, আমরা দেখেছি কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্য চলে। কিছু অসাধু ট্যানারির মালিক ও আড়তদার বিভিন্ন অজুহাতে পশুর কাঁচা চামড়া কম দামে কিনে থাকেন। চামড়া সংগ্রহকারীরা এসব ব্যক্তির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। সরকার যদি পশুর চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে তবে চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কম দামে আর বিক্রি করা লাগবে না। সরকারের উচিত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে ব্যবস্থা নেওয়া।

সরকারের পক্ষ থেকে চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাংকঋণের বিশেষ সুবিধা এবং সাভার চামড়াশিল্প নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই চামড়া ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো অজুহাত দিতে না পারেন সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। ট্যানারির মালিক ও আড়তদাররা যাতে সিন্ডিকেট করে কম দামে চামড়া কিনতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে। আশা করছি, ট্যানারির মালিক ও আড়তদাররা সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী চামড়া ক্রয় করবেন। সরকারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে চামড়ার দস্যুতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।