গল্প : বিলাসী
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘তাহাদের যন্ত্রণা দেখিয়া কোথায় যে তিনি মুখ লুকাইবেন ভাবিয়া পান না।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পের ওপরের উক্তিতে গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা সম্পর্কে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এ কথা বলা হয়েছে।
যাতায়াতে চার ক্রোশ পথ ভেঙে, রোদ-বৃষ্টিতে, ধুলা-কাদায় মাখামাখি হয়ে যারা স্কুলে যেত, পড়ালেখা সেখানে সামান্যই হতো। দুই-তিন গ্রাম পরে একেকটি স্কুল, ফলে এই কষ্ট আর অব্যবস্থাপনায় যে বিদ্যা অর্জিত হতো তা দেখে যেন বিদ্যার দেবী সরস্বতীও লজ্জায় মুখ লুকাতেন। আসলে সেকালে গ্রামে শিক্ষার ভীষণ দুরবস্থা ছিল এবং শিক্ষার উন্নয়নে কারও কোনো মাথাব্যথাও ছিল না। অবহেলিত গ্রামগুলোর শিক্ষায় অনুন্নত অবস্থাকে লেখক তার স্বভাবসুলভ ব্যঙ্গের ভাষায় এভাবে উপস্থাপন করেছেন।
প্রশ্ন: ‘তাহার ফোর্থ ক্লাসে পড়ার ইতিহাসও কখনো শুনি নাই।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পের ওপরের উক্তিতে মৃত্যুঞ্জয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
গল্প-কথকের বর্ণনায় জানা যায়, মৃত্যুঞ্জয় গ্রামের অতি চুপচাপ স্বভাবের ছেলে। তাকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই একা দেখা যেত। গল্প-কথক ন্যাড়া এবং অন্য যারাই তাকে দেখেছে, তাকে নাকি সব সময়ই থার্ড ক্লাসেই পড়তে দেখেছে। অর্থাৎ তার সেকেন্ড ক্লাসে ওঠার খবর কেউ কখনো পায়নি এবং ফোর্থ ক্লাসেও যে সে কখনো পড়েছিল তাও জানত না কেউ। বিষয়টির মাধ্যমে শুধু যে মৃত্যুঞ্জয়ের পড়ালেখার কথাই বোঝানো হয়েছে তা নয়; বরং সে যে ভীষণ নিঃসঙ্গ, বন্ধুহীন একজন মানুষ ছিল, তারও প্রকাশ ঘটেছে এখানে।
আরো পড়ুন : বিলাসী গল্পের ৯টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা ১ম পত্র
প্রশ্ন: গ্রামে মৃত্যুঞ্জয়ের ছিল এমনই সুনাম।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পের ওপরের উক্তিতে গ্রামে মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে তার খুড়া বা চাচা যে নানাবিধ দুর্নাম রটনা করেছিল, সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
মৃত্যুঞ্জয়ের বাবা-মা-ভাই-বোন না থাকায় একমাত্র ভাইপোর বিরুদ্ধে তার চাচা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এর প্রধান কারণ ছিল, তিনি মৃত্যুঞ্জয়ের বিশাল সম্পত্তির অর্ধেক দখল করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি মৃত্যুঞ্জয় সম্পর্কে গাঁজা খাওয়া, গুলি খাওয়ার কথা রটিয়েছিলেন, যেন গ্রামবাসী বা অন্যরা মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে না মিশে, যেন সে একঘরে হয়ে যায়। ‘সুনাম’ কথাটিকে কথক এখানে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘দুর্নাম’ বোঝাতে আলংকারিক অর্থে প্রয়োগ করেছেন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কবীর