তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যাকে। তৃণমূল থেকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এ নারীর সর্বোচ্চ মূল্যায়নের মাধ্যমে পাহাড় জনপদের রাজনৈতিক অঙ্গনে অবিশ্বাস্য এক চমক সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ। নতুন ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দৈনিক খবরের কাগজ-এর সঙ্গে। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাঙামাটি প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান জুয়েল
খবরের কাগজ: আপনাকে অভিনন্দন। গৃহবধূ থেকে জাতীয় সংসদে কেমন লাগছে?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: আমার অনেক ভালো লাগছে।
খবরের কাগজ: এই প্রাপ্তিকে কীভাবে দেখছেন? কখনো কি এমনটি ভেবেছিলেন?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: এমপি হব, তেমন তো ভাবিনি। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের কাজ করছি। রাজনীতি করছি। আমার শ্বশুর, আমার স্বামী রাজনীতি করে। অনেক দিন ধরে আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমাদের দীপংকরদা (রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদার) আছেন। ওনাদের মূল্যায়নে আমি সংসদ পর্যন্ত গিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেত্রী, তিনি আমাকে তৃণমূল পর্যায়ে মূল্যায়ন করে সংসদে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে দিয়েছেন।
খবরের কাগজ: পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: আমি তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়ন চাই। পাহাড়ে আরও উন্নয়ন দরকার।
খবরের কাগজ: পাহাড়ের জন্য এখনো কী কী করা বাকি আছে বলে মনে করেন?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে আগে বিদ্যুৎ ছিল না। এখন মোটামুটি বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ হয়েছে। মোটামুটি রাস্তাঘাট হয়েছে। আমি চাই, আরও হোক। বিদ্যুতের খুব দরকার আমাদের। কারণ আমাদের যে ছোট ভাইবোনেরা পড়ালেখা শিখছে, বিদ্যুতের অবশ্যই দরকার আছে। তারপর স্কুল-কলেজ এগুলো আরও চাই। মসজিদ, মন্দিরসহ বেশির ভাগ রাস্তাঘাট নিয়ে চিন্তা করি।
খবরের কাগজ: পাহাড়ের উন্নয়নের ব্যাপারে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখবেন?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: অগ্রাধিকার পেলে আমি বেশি চাই রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে- এগুলো। আমি মনে করি, এগুলো ঠিক থাকলে আমাদের সাধারণ জনগণের উপকার হবে। এতে জীবনমান অনেকটা বাড়বে তাদের।
খবরের কাগজ: তৃণমূলের নারী নেতা-কর্মীদের জন্য কী বলবেন?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: আমি তো তৃণমূল থেকে উঠে আসছি তাই না?, আমি যখন তৃণমূল থেকে উঠে আসছি, তখন আমি চাই ভবিষ্যতেও এ ধরনের মূল্যায়ন আরও করা হবে।
খবরের কাগজ: যে দল আপনাকে এই অবস্থানে এনেছে, তার জন্য কী করবেন?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে মূল্যায়ন করেছে। তাই দলের পাশাপাশি থেকে আমাদের দীপংকরদা আছেন, ওনাদের সঙ্গে পাশাপাশি থেকে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার জন্য আশা রাখছি। দলকে আরও সুসংগঠিত করব, আরও ছড়িয়ে দেব। আমাদের যে আরও এমপি আছেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করব।
খবরের কাগজ: পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য কী করবেন ভাবছেন?
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জন্য অনেক কিছু করার আছে।
খবরের কাগজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
জ্বরতী তঞ্চঙ্গ্যা: খবরের কাগজকেও ধন্যবাদ।