ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রূপালী হক চৌধুরী। খবরের কাগজের সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচন, অর্থনীতি এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী।
খবরের কাগজ: এবারে কেমন নির্বাচন প্রত্যাশা করেন?
রূপালী হক চৌধুরী: দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি একটি অন্যটির সঙ্গে জড়িত। দেশ ও দেশের মানুষকে ভালো রাখতে হলে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। আশা করছি, সাধারণ মানুষ এবার উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন। দেশ ও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। তারা ভয় ও চাপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচত করতে পারবেন। এটি স্পষ্ট, একটি পক্ষ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীকে রুখে দিতে হবে।
খবরের কাগজ: প্রাক-নির্বাচনি পরিবেশ কেমন দেখছেন?
রূপালী হক চৌধুরী: নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলার কিছুটা অবনতি হয়েছে। ওসমান হাদির হত্যা ঘিরে দেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমি আশা করছি নির্বাচনের আগে আর কোনো নাশকতা হবে না। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব রাজনৈতিক দলকে সচেতন থাকবে হবে।
খবরের কাগজ: জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। অনেকে আশা করেছিলেন দেশ বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় থাকবে। শিল্প ও বাণিজ্যে গতি আসবে। আপনি তো দেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বে এসেছেন। শুধু এবার নয়, আপনি অনেক দিন থেকেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের যে প্রত্যাশা ছিল, তা কতটা পূরণ হয়েছে?
রূপালী হক চৌধুরী: আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই সরকারের পতন হয়। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, নির্বাচিত সরকার দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে জোরালো ভূমিকা রাখবে। সেই প্রত্যাশার সবটা পূরণ হয়নি। একটি অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না। নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধিরা তৃণমূলেও থাকেন। তাই নির্বাচিত সরকারের পক্ষে বিনিয়োগবান্ধব, শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করা সহজ হয়। আগামীতে নির্বাচিত সরকার এলে অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে নীতি প্রণয়ন করবে বলে আশা করছি।
খবরের কাগজ: নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভাব কি ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়েছে?
রূপালী হক চৌধুরী: নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প-বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রপ্তানিতে এরই মধ্যে নেতিবাচক ধারা দেখছি। নতুন শিল্প গড়ে উঠছে না। পুরোনো শিল্পের অবস্থাও ভালো না। বিনিয়োগ বাড়ছে না। অনেকে পরিকল্পনা করেও বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসছেন না। এসব বিনিয়োগকারী নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছেন। বর্তমান সরকার ব্যাংক খাতে অস্থিরতা কমাতে চেষ্টা করছে। পুরোপুরি সফল হয়নি। নির্বাচিত সরকার এলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলে আশা করছি। আর তাতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
খবরের কাগজ: অনেক ব্যবসায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মনোয়ন ফরম কিনছেন। আপনার কি মনে হয় তারা নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের দাবি আদায় করা সহজ হবে?
রূপালী হক চৌধুরী: ব্যবসায়ীরা নির্বাচিত হয়ে সরকারের অংশ হলে দেশের অর্থনীতি বিকাশের স্বার্থে কথা বলবেন বলে আশা করছি।