পুরোনো বছর বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে পাহাড়ে এখন বর্ণাঢ্য আয়োজন। উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা। বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু ও পাতাবাহা উৎসব ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা মিলিত হচ্ছে মিলনের মোহনায়। প্রাণের উৎসবকে ঘিরে প্রফুল্ল হয়ে উঠেছে সব বয়সী পাহড়িয়াদের মন ও মনন।

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাহাড়িদের প্রধান এই সামাজিক উৎসব। এ উৎসব ঘিরে সব সম্প্রদায়ের কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটছে। তাই এই উৎসবকে প্রাণের উৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
এ উৎসবকে ঘিরে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে সর্বজনীন বৈসাবি উৎযাপন কমিটি। এ উৎসব চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

শোভাযাত্রা ও মেলা উৎযাপন কমিটির সভাপতি রবি শংকর তালুকদার বলেন, ‘পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ধরে রাখতে প্রতিবছর বৈসাবিতে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এই ধারাবাহিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।’
সম্প্রদায়ভেদে উৎসবকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বলে বৈসু বা বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এবং চাক, ম্রো, বম, খুমিরা চাংক্রান নামে পালন করেন। সমতলের লোকজনের কাছে এই উৎসব বৈসাবি নামে পরিচিত। বৈসুর বৈ, সাংগ্রাইয়ের সা ও বিজুর বি থেকে বৈসাবি শব্দের উৎপত্তি।

তবে ‘বৈসাবি’ শব্দে অন্য সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর উৎসবের কথা উঠে আসে না। ফলে পাহাড়ি সামাজিক সংগঠনগুলো সব জনগোষ্ঠীর নামে মেলা কিংবা উৎসব আয়োজন করে যাচ্ছে।
মেলা ও শোভাযাত্রা উৎযাপন কমিটির সমন্বয়ক ভোলাস ত্রিপুরা বলেন, ‘আমরা বৈসাবি শব্দটি এখন আর ব্যবহার করি না। কারণ, সেখানে শুধু পাহাড়ের তিন সম্প্রদায়ের উৎসবের কথা উঠে আসে। যেহেতু এটি সার্বজনীন উৎসব সে কারণে পার্বত্যাঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের কথা বিবেচনায় রাখা সমীচীন।’
রাজু/পপি/