বুঝলি দোস্ত, মাঝে মধ্যে কনফিউজড হয়ে যাই, কোনটা আমার বেশি খারাপ, চেহারা না কপাল। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল জিসান।
চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছে তিন বন্ধু। জিসান, রিগান আর হাবিব। জিসানের কথা শুনে হাবিব বলল, আমার তো কপাল, চেহারা, স্বাস্থ্য, পকেটের অবস্থাও খারাপ। কিন্তু দোস্ত, এই কথা বললি কেন?
— আর বলিস না, আড্ডায় আসার সময় রাস্তায় এক অল্পবয়সী ভিক্ষুককে দুই টাকা ভিক্ষা দিতে গেছি, ভিক্ষুক আমার মুখ দেখে বলে, চাচা, আপনার হাতে থালা কই? এই জায়গায় কিন্তু বইসেন না। এইটা আমার এলাকা!
হাবিব হাসতে হাসতে বলল, তার মানে সে তোকে ভিক্ষুক ভেবেছে?
— তাই তো দেখছি! কোন অ্যাঙ্গেল থেকে আমাকে ভিক্ষুক মনে হয় বল তো দোস্ত।
— এত সিরিয়াস হওয়ার কিছু নাই। এই দুনিয়ায় আজকাল একমাত্র রক্তের গ্রুপ ছাড়া আর কিছুই পজিটিভ না। বাদ দে।
তারপর হাবিব রিগানের দিকে তাকিয়ে বলল, কী রে, তোর দজ্জাল বউ তোকে আসতে দিল?
— দিল তো, ডাইরেক্ট দৌড়ানি দিল।
— শুধু দৌড়ানি? আর কিছু বলে নাই?
— বলেছে তো।
— কী বলেছে?
— আমার চিন্তাধারা নাকি নিচু লেভেলের। চিন্তাধারা উঁচু করা উচিত।
— তা তুই কী বললি?
— আমি বললাম, চিন্তাধারা উঁচু করার চেষ্টা করছি, এজন্যই তো আজকাল ছাদে উঠে চিন্তা করি।
কথা শুনে জিসান আর হাবিব হেসে ফেলে।
রিগান একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, তোরা হাসছিস? ভোট দিতে লাগে ১৮ বছর কিন্তু বিয়ে করতে লাগে ২১ বছর। এর মানে আগে বুঝতাম না, এখন বুঝি। দেশ চালানো থেকে বউ চালানো কঠিন।
— তাহলে বিয়ে করলি কেন?
— বিয়ে করে কী যে প্যারায় আছি রে দোস্ত! ভেবেছিলাম বিয়ে করার পর জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট শেষ হবে। ও মা! এখন দেখছি আসল দুঃখ-কষ্ট শুরুই হয় বিয়ের পর! মাঝে মধ্যে বউ এমন সব কথা বলে, ইচ্ছা করে হার্টঅ্যাটাক করে মারা যাই। বাসায় তাড়াতাড়ি আসলে কৈফিয়ত দিতে হয়, দেরি হলে কৈফিয়ত দিতে হয়, এমনকি বাথরুমে গেলেও বউকে কৈফিয়ত দিতে হয়! প্রতিদিন আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, আমাকে বিয়ে করে সে যে কী ভুল করেছে! আজকেও আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল, বিয়ের আগে নাকি তার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে অনেক সম্বন্ধ এসেছিল, আর সে বিয়ে করেছে আস্ত একটা গাধাকে!
— তা তুই কী বললি?
আমি বললাম, দূর-দূরান্ত থেকেই তো আসবে, কাছের লোকজন তো জানে তোমার মুখের ভাষা কী পরিমাণ তিতা।
হাবিব চিন্তিত গলায় বলল, এই কথার জন্য দৌড়ানি খেয়েছিস? তুই না প্রেম করে বিয়ে করেছিস?
রিগান কোনো কথা না বলে চুপ করে রইল।
হাবিব কিছুটা সহজ-সরল ভীতু প্রকৃতির ছেলে। সে বলল, তোর কথা শুনে মনে হচ্ছে আমার প্রেম-ভালোবাসা কিংবা বিয়ে করা ঠিক হবে না। এত প্যারা আমি নিতে পারব না।
জিসান বলল, কী বলিস তুই? আর কেউ বিয়ে করে না? এত ভয় পেলে হবে? আমিও তো বিয়ে করেছি। আসার সময় বউয়ের কাপড়-চোপড় সব ধুয়ে দিয়ে এলাম।
হাবিব রাগী গলায় বলল, বলিস কী রে! বউয়ের কাপড় ধুতে তোর লজ্জা করে না?
জিসান বলল, লজ্জা পাব কেন? বউও তো আমাকে রান্নাবান্না করতে, ঘর মুছতে হেল্প করে, সে কি লজ্জা পায়? তাছাড়া আমি জানি আমাদের এলাকার রিয়া তোকে ভালোবাসে। তুই টের পাস না?
— আরে ধুর! ভূমিকম্প হলে সেটাই তো ঠিকমতো টের পাই না, রিয়ার প্রেম টের পাব কীভাবে?